«» মূলমন্ত্রঃ : সত্যের পথে,জনগনের সেবায়,অপরাধ দমনে,শান্তিময় সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে" আমরা বাঙালি জাতীয় চেতনায় বিকশিত মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার স্বপক্ষে সত্য এবং ধর্মমতে বস্তুনিষ্ঠ, সৎ ও সাহসী সাংবাদিকতায় সর্বদা নিবেদিত। «»

চাঁদাবাজদের দখলে অরক্ষিত ঢাকা বিমানবন্দর রেলস্টেশন!

মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২০ | ৫:৩১ পূর্বাহ্ণ | 148 বার

চাঁদাবাজদের দখলে অরক্ষিত ঢাকা বিমানবন্দর রেলস্টেশন!

এমএবি সুজন –



জানা যায়, আরএনবি ও জিআরপি যৌথ বাহিনীর পাহাড়ায় চলছে অবৈধ দখল হাটবাজার ও চাঁদাবাজি! আরএনবির বিরুদ্ধে কারপার্কিং ও প্লাটফরমসহ স্টেশনের বিভিন্ন অফিসকক্ষ বিশ্রামাগার হিসেবে দিনরাত ভাড়া দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

লকডাউনে স্টেশন পরিত্যাক্ত অচল অথচ সর্বপ্রকার অপরাধীদের নিরাপদ আবাস ও আড্ডাস্থল রাজধানীর ঢাকা বিমানবন্দর রেলস্টেশন। বিমানবন্দর রেলস্টেশন; রেলগেটে ঝুঁকিপূর্ণ অবৈধ হাটবাজার। করোনাকালীন লকডাউন শুরু হবার আগে বিগত প্রায় ৩ মাস বন্ধ থাকার পর লকডাউন শুরুতে কিছুদিন স্থগিত রেখে এখন থেকে গত ২ মাস যাবৎ সরগরম ঢাকা বিমানবন্দর রেলস্টেশন; রেলগেটে ঝুঁকিপূর্ণ অবৈধ হাটবাজার।

বিমানবন্দর রেলস্টেশন বন্ধ। এখানে কোন ট্রেন থামছেনা সরকারের নির্দেশে অথচ বর্তমান নিষ্ক্রিয় স্টেশন সচল রয়েছে চাঁদাবাজিসহ নানা অসামাজিক কাজে। সরেজমিন খোঁজখবর নিয়ে জানা যায়, বর্তমান রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর ঢাকা বিমানবন্দর সার্কেল চীফ ইন্সপেক্টর সিআই ফিরোজ আলী ও তার অধিনস্ত হাবিলদার আরএনবি সদস্য জিয়াউর রহমান জিয়ার দায়িত্বপ্রাপ্ত বিমানবন্দরের চ্যাম্পিয়ন চাঁদাবাজ সেলিম ওরফে সেলিম খান রেলগেটসহ পূর্বপশ্চিম দুই পার্কিং, পাবলিক টয়লেট সংলগ্ন রেলের খালি জায়গা সমূহে প্রায় ২০০ অবৈধ দোকানদারী হাটবাজার নিয়ন্ত্রণ করছেন।

এদিকে মানবিক দৃষ্টিতে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে ভাসমান হকারদের সংসার চালাতেই এখন অনেকটা কষ্ট হচ্ছে। এর মধ্যে বিমানবন্দর রেলস্টেশনে প্রশাসনের নাম ভাঙ্গিয়ে কিছু ব্যক্তি অর্ধশতাধিক দোকানির কাছ থেকে নীরবে চাঁদাবাজি চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। দিনের পর দিন এসব ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী চাঁদার টাকা পরিশোধ করতে করতে এখন হাঁফিয়ে উঠেছেন। তারা আর পারছেন না! দিশেহারা। কারণ করোনায় তাদের বিক্রিই কমে গেছে। উপায় না পেয়ে বিমানবন্দর জিআরপি বক্স ও আরএনবির নামে তোলা চাঁদার টাকা আপাতত যাতে হকারদের আর না দিতে হয় সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালকের কাছে ভাসমান দোকানদারদের পক্ষে গেঞ্জি দোকানদার মো: মানিক মিয়া লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, বিমানবন্দর রেলক্রসিংয়ের পূর্ব পাশে আমরা কয়েক বছর ধরেই তরিতরকারি, মাছ, কাপড়ের দোকান ছাড়াও অন্যান্য ব্যবসা করে জীবন নির্বাহ করছি। কিন্তু দুঃখের বিষয়, বিমানবন্দর জিআরপি ইনচার্জ আমিনুল ইসলাম ও আরএনবি ইনচার্জ মো: ফিরোজ মিয়ার নামে আমাদের প্রতি দোকান থেকে প্রতিদিন সন্ধ্যায় ৬০০-৭০০ টাকা নিয়ে যাচ্ছে মো: সেলিম নামে এক ব্যক্তি (লাইনম্যান)। কেউ টাকা দিতে অস্বীকার, কম দিলে অথবা দেরি করলেই আরএনবি ও জিআরপি সদস্যদের দিয়ে দোকান তুলে দেয়ার ভয় দেখানোসহ ব্যবসায়ীদের মারধর ও উচ্ছেদ করা হয়। লিখিত অভিযোগে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালকের কাছে তারা আকুল আবেদন জানিয়ে বলছেন, আপনি একটু ওদের বলে দিলেই এই লকডাউনের মধ্যে আমাদের আর চাঁদা দিয়ে ব্যবসা করতে হবে না। অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো: শামছুজ্জামানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমার কাছে এ ধরনের অভিযোগ এলে অবশ্যই তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

বিমানবন্দর রেলস্টেশন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, করোনাভাইরাসের কারণে গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে ট্রেন থামছে না। তারপরও প্রতিদিন স্টেশন এলাকার পূর্ব-পশ্চিম ও আশপাশের ফুটপাথে ভ্যানগাড়িতে করে অবৈধভাবে ভাসমান হকাররা পসরা সাজিয়ে বসছেন। তবে যেদিন রেলভবন থেকে কোনো কর্মকর্তা অফিসিয়াল পরিদর্শনে যাচ্ছেন সেদিন দোকান বসতে দেয়া হচ্ছে না। এ নিয়মে যারা দোকান নিয়ে বসছেন, তাদের প্রত্যেককেই ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা দিয়েই দোকান করতে হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভাসমান দোকানের মধ্যে মাছের দোকান ৬টি, কাপড়ের দোকান ৩৬টি ও তরিতরকারি মিলিয়ে ৭০-৮০টি দোকান রয়েছে। সকালে এসব দোকান না বসলেও বিকেল ৪টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত চলে বেচাকেনা। যার কারণে ওই এলাকায় প্রতিনিয়ত ভিড় লেগে থাকছে। এতে পুলিশ ও আরএনবি ব্যারাকের অনেক সদস্য করোনা আতঙ্ক নিয়ে ডিউটি করছেন বলে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে জানা গেছে।

গেঞ্জি দোকানদার মানিক মিয়ার সাথে রোববার বিকেলে টাকা নেয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা করোনার সময় পরিবার নিয়ে বিপদে আছি। যা আয় হয় তা দিয়ে সংসার চলছে কোনো মতে। কিন্তু এখন বেচা-বিক্রি কমে যাওয়ায় আর পারছি না। মাসে ঘরভাড়া সাড়ে ৮ হাজার টাকা দিতে হয়। প্রতিদিন দোকানের জন্য ৬০০ টাকা চাঁদা দিচ্ছি। সবমিলিয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছি। কারা প্রতিদিন পুলিশ ও আরএনবির নামে চাঁদা তুলছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এসির পোলা সেলিম নামের একজন সন্ধ্যায় এসে ৬০০ টাকা নিচ্ছে। তার দাবি, ব্যবসা করতে হলে ধার্যকৃত চাঁদা দিতেই হবে। তবে আপাতত যদি ১৫০-২০০ টাকা করে দোকানপ্রতি চাঁদা নিতো, তাহলে আমাদের সবার সুবিধা হতো। একই কথা বলছেন মাছ ব্যবসায়ী ফজলুও। তিনি বলেন, সারাদিন দোকান বসাতে পারি না। বিকেল ৪টায় এসে রাতে বিক্রি করে বাসায় চলে যাই। এর জন্য আমার কাছ থেকে লাইনম্যান সেলিম নামের একজন এসে ৭০০ টাকা নিয়ে যায়। টাকা একদিন না দিলে দোকান করতে দেয়া হয় না। এই টাকা কার নামে নেয়া হচ্ছে জানতে চাইলে তিনিও বলেন, জিআরপি আর আরএনবির নামে নিচ্ছে। সেলিম কোথায় থাকেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেলিম এসি সামসুদ্দিন সালেহ্ সাহেবের পালক পুত্র। দক্ষিণখান নদ্দাপাড়া তালতলাস্থ এসি সামসুদ্দিন সালেহ সাহেবের বাড়ির ম্যানেজার হিসেবে সেখানে থাকে চাঁদাবাজ সেলিম। সেলিম চাঁদাবাজ হিসেবে বেশ অভিজ্ঞ ও দক্ষ গোয়ার। এসি সামসুদ্দিন সালেহ্ বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা থাকাকালীন স্যারের দোয়া ও দয়ায় ‌সেলিম উত্তরা জসিম উদ্দিন রোডস্থ দক্ষিণ পাশের ফুটপাতের ওপর অবৈধ কাঁচাবাজার, মাছ মাংস মুরগি ও ফলের বাজারের চাঁদাবাজ লাইনম্যান হিসেবে বেশ সুনাম অর্জন করেন। ঐ বাজারের চাঁদার গচ্ছিত টাকায় নির্মিত সালেহ্ সাহেবের বাড়িতে থাকেন সেলিম। বিমানবন্দরের চিহ্নিত মারদাঙ্গা চাঁদাবাজ ‌সেলিম হঠাৎ হাইব্রীড সংগঠন ঢাকা বিমানবন্দর থানা মটর শ্রমিকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বলে জানা যায়।

বিমানবন্দর জিআরপি বক্স ইনচার্জ আমিনুল ইসলামের সাথে গতকাল সোমবার যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, প্রশাসনের নাম ভাঙ্গিয়ে সেলিম নামের কোন ব্যক্তি হকারদের কাছ থেকে চাঁদা তুলছে এমন খবর আমার জানা নেই। তারপরও যেহেতু বলছেন, আমি খুঁজে দেখবো সেলিম নামের কেউ এখানে আছে কি-না? এর আগে বিমানবন্দর রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) ইনচার্জ ফিরোজ মিয়ার সাথে দফায় দফায় যোগাযোগ করার পরও তিনি টেলিফোন ধরেননি।

জানা যায়, সিআই ফিরোজ আলীর নির্দেশ চলছে চাঁদাবাজি। রেললাইনের ওপর ও জনগুরুত্বপূর্ণ রেলগেটে অবৈধ জনঝুঁকিপূর্ণ হাটবাজারের অনুমতি দিয়েছেন সিআই ফিরোজ। এই রেলগেট দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। হাটবাজারে মানুষের ঢল। চলন্ত ট্রেন পাস হবার কালে যেকোন সময় গেটে ও লাইনের ওপর ঘটে যেতে পারে বড় ধরণের দূর্ঘটনা। একজন আরএনবি সদস্য বলেন, স্টেশন বন্ধ সব ধান্ধাও বন্ধ। তাহলে সিআই ফিরোজ সাহেবের পোষায়না। তিনিতো একটা খরচ দিয়া এখানে চেয়ারে বসলেন। চাকুরী বিচারে তার ঠকাঠকা হয় তাই এই লকডাউন চাঁদাবাজি। ‌স্টেশনের ভিতর বাহির সর্বত্র কোন পাহাড়া নেই। জিআরপি পুলিশ ব্যারাকে ক্যারামবোর্ড খেলায় মশগুল আর আরএনবি সদস্যরা অনলাইন লুডুখেলায় মত্ত। কোন ট্রেন নেই অথচ উভয় প্লাটফর্মসহ খালি জায়গায় পার্কিংএ দূরে অদূরে মানুষের জটলা আছেই। বিমানবন্দর রেলস্টেশন এখন বেশ অরক্ষিত। স্টেশনটি দিনরাত ২৪ ঘন্টা নানাবিধ অপরাধীদের লুকিয়ে থাকার নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র বলে জানাগেছে।

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

কক্সবাজারের পথে সোনারগাঁয়ে সাংবাদিক  নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির গাড়িতে আগুন

Development by: bdhostweb.com

চুরি করে নিউজ না করাই ভাল