«» মূলমন্ত্রঃ : সত্যের পথে,জনগনের সেবায়,অপরাধ দমনে,শান্তিময় সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে" আমরা বাঙালি জাতীয় চেতনায় বিকশিত মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার স্বপক্ষে সত্য এবং ধর্মমতে বস্তুনিষ্ঠ, সৎ ও সাহসী সাংবাদিকতায় সর্বদা নিবেদিত। «»

কোরবানির শিক্ষা ও তাৎপর্য

বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২০ | ৬:০৯ অপরাহ্ণ | 88 বার

কোরবানির শিক্ষা ও তাৎপর্য

আব্দুর রউফ –



প্রতি বছর কুরবানির পর বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় বা টেলিভিশনে জবেহকৃত পশুর বর্জ্য দূর্গন্ধে জনসাধারণ এর চলা চল বিঘ্নিত হচ্ছে এমন খবর পাওয়া যায়। গ্রাম অঞ্চলে এই সমাস্যাটা কম হলেও শহরে বেশি লক্ষ করা যায়। .কুরবানির পশু জবাইয়ের পর সেই বর্জ্য পরিস্কার করা সব চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বর্জ্য পরিস্কার তো দুরের কথা বরং আমরা যত্রতত্র পশু কুরবানি করে থাকি। পশু জবাইয়ের পর বর্জ্য পরিস্কার না করে যদি খোলা যায়গায় ফেলে রাখি তবে তা মনবদেহ এবং পরিবেশের জন্য মারাত্নক ক্ষতিকর কারণ হতে পারে।পশুর রক্ত, মাংস বানানোর পরে  উচ্ছিষ্ট, বর্জ্য রাস্তায় পড়ে থাকলে তা পচেঁ  বাতাসের সাথে ছড়িয়ে পড়ে।এবং তাতে জন্ম নিতে পারে নিভিন্ন রকম ভাইরাস। আর এই পচাঁ বর্জ্য হতে সৃষ্ট ভাইরাস আমাদের জন্য মারাত্নক স্বাস্থ্যহানি ঘটাতে পারে। বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হতে পারেন আপনি। তাই কোরবানি করার পরবর্তী সময়ে আপনাকে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে এবং সচেতন থাকতে হবে। আসুন কোরবানির আগে ও পরে অবশ্যই করণীয় কিছু গুরুত্বপূর্ণ  বিষয় জেনে নেই। স্থান নির্দিষ্ট করণ শহর অথবা গ্রাম যেখানেই হোক না কেন নির্দিষ্ট স্থানে একেকটা পাড়া বা মহাল্লা কুরবানির আয়োজন করার উদ্দ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।নির্দিষ্ট স্থানে কুরবানি করলে সকল  বর্জ্য একত্র করে অপসরণে সুবিধা হবে।গ্রামে নির্দিষ্ট স্থান পাওয়া গেলেও শহরে পাওয়াটা প্রায় মুশকিল হয়ে যায়।তবুও সিটি কর্পোরেশন অথবা পৌরসভা কর্তৃক নির্দিষ্ট স্থানে কুরবানির পশু জাবাই করার চেষ্টা করতে হবে। জবেহ করার ধারালো যন্ত্রপাতি সাবধানে রাখা কুরবানির পুশু জবাই এবং মাংস কাটার জন্য  অতি ধারালো দা,বটি  চাকু ইত্যাদি যন্ত্রপাতি ব্যাবহার করা হয়।যা একটু অসাবধানতার কারণে রড় ধরনের বিপদ হতে পারে।বিশেষ করে বাড়ির ছোট বাচ্চাদের নাগালের বাহিরে  ধারালো অস্র গুলো রাখার ব্যাবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পরিত্যক্ত জায়গায় বর্জ্য রাখার গর্ত খনন এজন্য কোরবানির আগেই বাড়ির পাশে কোনো মাঠে কিংবা পরিত্যক্ত জায়গায় একটা গর্ত তৈরি করে রাখা যেতে পারে, কোরবানির পর সকল পরিত্যক্ত বর্জ্য সেখানে ফেলে মাটিচাপা দিতে হবে। তবে শহরাঞ্চলে গর্ত খুঁড়ার সময় একটি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে যাতে পানি ও গ্যাসের পাইপ, বিদ্যুৎ ও টেলিফোনের তার ইত্যাদি কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তরে কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণ করার একটি উপায় হলো, গ্রামাঞ্চলের লোকেরা কয়েকজন একত্রে কোরবানি করা ও কোরবানির বর্জ্য মাটির নিচে পুতে রাখা, যা পরবর্তী বছর কোরবানির আগেই উঠিয়ে জৈব সার হিসেবে শষ্যক্ষেত্রে ব্যবহার করা যায়। পর্যাপ্ত পানি এবং জীবাণুনাশক এর ব্যাবস্থা রাখা কুরবানির পশু জবাইয়ের পর রক্তে মাখা রাস্তাঘাট ধুয়ে এবং জীবাণু পরিস্কার করার জন্য কুরবানিদাতাকে পর্যাপ্ত পানি ও ব্লিচিং পাউডার ও জীবাণুনাশক এর ব্যাবস্থা করে রাখতে হবে। সুষ্ঠু বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সুফল ও অব্যবস্থাপনার কুফল সম্পর্কে ব্যাপক জনসচেতনতা তৈরি করা সুষ্ঠু বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সুফল ও অব্যবস্থাপনার কুফল সম্পর্কে ব্যাপক জনসচেতনতা তৌরির কাজ কুরবানির আগেই করতে হবে।এই ক্ষেত্রে সরকাররের পাশা পাশি সকল মসজিদের খতিবদের এগিয়ে আসতে হবে।ইদের আগে শুক্রবার বা অন্য কোন নামাজের পর ইমাম এই বিষয়ে জনসচেতনতা মূলক বক্তব্য দিতে পারেন।তাহলে সাধারণ মানুষ অনেকটা সচেতন হবে বলে অাশা করি। কুরবানির পর করণীয় সমূহ বর্জ্য অপসারণ কোরবানির ক্ষেত্রে পশু জবেহ শেষে তার রক্ত ও শরীরের যাবতীয় উচ্ছিষ্ট যথাযথভাবে অপসারণ করা জরুরী। যারা শহরে থাকেন তারা বিচ্ছিন্ন স্থানে কোরবানি না দিয়ে কয়েকজন মিলে এক স্থানে কোরবানি করতে পারলে ভালো। এতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের কাজ করতে সুবিধা হয়। তবে খেয়াল রাখতে হবে, কোরবানির জায়গাটি যেন খোলামেলা হয়।গরু জবাইয়ের গর্তটি মাটি দিয়ে ঢেকে দিন। গর্তের মধ্যে কিছু চুন বা ব্লিচিং পাউডার বা জীবাণুনাশক পদার্থ দেয়া যেতে পারে। যেসব এলাকায় গর্ত খুঁড়ার উপযুক্ত জায়গা নেই সেসব এলাকার বর্জ্য প্রচলিত উপায়ে অপসারনের ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারেআর আশেপাশে যদি কোনো বর্জ্য থাকে তাহলে তা ঝাড়ু দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে। এছাড়া রক্তপানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। নাড়িভুঁড়ির উচ্ছিষ্ট পশুর দেহ থেকে নাড়িভুঁড়ির উচ্ছিষ্ট (অর্ধহজমযুক্ত খাদ্য/গোঘাষি) ইত্যাদি যেখানে সেখানে ফেলে দিলে তা পচে জনসাধারণের চলাচল বিঘ্নিত হবে। এবং মারাত্মক দুর্গন্ধ ছড়াবে এবং পরিবেশ দূষিত হয়ে বিভিন্ন রোগ ছড়াবে। তাই যথাযথ স্থানে এই বর্জ্য গুলো  ফেলতে হবে। গরম পানি যে স্থানটিতে পশু জবায় করবেন ওই স্থানটি সম্ভব হলে গরম পানি ঢেলে পরিষ্কার করতে পারেন। অথবা ঠান্ডা পানি হলেও চলবে। তবে পানি দিয়ে স্থানটি পরিষ্কার করার পর অবশ্যই ব্লিচিং পাউডার ছড়িয়ে দিতে হবে। তাহলে দূর্গন্ধ ছড়াবে না এবং জীবনুমুক্ত হবে। সিটি করপোরেশন গুরুর জবাই ও মাংস বানানোর কাজ শেষ হলে বর্জ্য পরিষ্কারের জন্য নিজ নিজ সিটি করপোরেশনের দায়িত্বরত ব্যক্তিদের সাথে যোগায়োগ করতে পারেন। তারা আপনাকে সহযোগিতা করবেন। সেভলন বা হ্যান্ডস্যানিটাইজার ব্যাবহার করোনার দূর্যোগে মানুষের জীবন বিপ্রর্যস্ত। এমন সংকটকালীন সময়ে এবারের কুরবানির ইদ।তাই জীবাণু থেকে নিরাপদ থাকতে বর্জ্য পরিষ্কারের পরে যে কাজটি করতে হবে সেটি হোল আপনার হাত, পা ও সারা শরীর ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিতে হবে। পরিস্কারের জন্য সবান, হ্যান্ডস্যানিটাইজার  অথবা সেভলন ব্যবহার করতে পারেন। সর্বোপরি কোরবানির বর্জ্য পরিষ্কারে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি নিতে হবে ব্যক্তিগত উদ্যোগ। সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্বশীল আচরণ ও দায়বোধই নগরকে পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য করতে পারে।



IMG_3703 (1)

 

লেখক: আব্দুর রউফ

শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়।



 

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

চাঁদাবাজদের দখলে অরক্ষিত ঢাকা বিমানবন্দর রেলস্টেশন!

Development by: bdhostweb.com

চুরি করে নিউজ না করাই ভাল