«» মূলমন্ত্রঃ : সত্যের পথে,জনগনের সেবায়,অপরাধ দমনে,শান্তিময় সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে" আমরা বাঙালি জাতীয় চেতনায় বিকশিত মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার স্বপক্ষে সত্য এবং ধর্মমতে বস্তুনিষ্ঠ, সৎ ও সাহসী সাংবাদিকতায় সর্বদা নিবেদিত। «»

বাণিজ্যিক চাষের অপেক্ষায় রঙ্গিন ব্যানানা ম্যাংগো

বাণিজ্যিক চাষের অপেক্ষায় রঙ্গিন ব্যানানা ম্যাংগো

রবিবার, ০৭ জুন ২০২০ | ১০:৫৮ অপরাহ্ণ | 202 বার

বাণিজ্যিক চাষের অপেক্ষায় রঙ্গিন ব্যানানা ম্যাংগো
বাণিজ্যিক চাষের অপেক্ষায় রঙ্গিন ব্যানানা ম্যাংগো

আম, তবে দেখতে কলার মত, যাকে বলা হয় ব্যানানা ম্যাংগো। ইতোমধ্যেই অনেকেই এই নামের সাথে পরিচিত। কারণ বাংলাদেশে ২০১২ সালে জাত হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে থাইল্যান্ড থেকে আসা এই বিশেষ আকৃতির আম। যার নাম দেয়া হয়েছিলো বাউ-১৪। বাউ-১৪ জাতটি ছিলো সবুজ রংয়ের এবং পাকার সময় হালকা মেজেন্ডা রং ধারণ করতো। তার চার বছর পর এই ব্যানানা ম্যাংগোই একেবারে লালচে রংয়ের জাত উদ্ভাবন করেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্ম প্লাজম সেন্টারের বিজ্ঞানীরা। যার নাম দেয়া হয় বাউ-১৪ কালারড ম্যাংগো। তবে আগেরটি থাই অরিজিন হলেও রঙ্গিন ব্যানানা ম্যাংগোর অরিজিন ভিয়েতনাম।

বাউ-১৪ কালারড ম্যাংগো এখনো চাষী পর্যায়ে সম্প্রসারিত হয়নি, তবে বছর দুই-এক এর মধ্যেই এই আমের বাণিজ্যিক চাষ শুরু হবে বলে জানান ময়মনসিংহে অবস্থিত জার্ম প্লাজম সেন্টারের পরিচালক ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. মো: আব্দুর রহিম।

ড. রহিম বলেন, ২০১০ সালে ভিয়েতনাম থেকে চুয়া এবং হুয়ালক জাতের ১০টি আমের চারা নিয়ে আসেন তারা, যার মধ্যে ৫টি চুয়া ও ৫টি হুয়ালক। এর মধ্যে একটি চারায় তারা ব্যতিক্রম দেখতে পান বিজ্ঞানের ভাষায় যাকে বলে চান্স সিডলিং। চুয়া এবং হুয়ালক দুটি আমই সবুজ রং এর হলেও হুয়ালকের একটি চারায় ব্যতিক্রম পাওয়া যায়, যেখানে গাছটিতে ধরে লালচে রংয়ের আম। পরে এটিকে বাউ-১৪ কালারড ম্যাংগো হিসেবে অনুমোদন দেয় জাতীয় সীড বোর্ড।

রঙ্গিন এই ব্যানানা ম্যাংগো লম্বায় ৮ থেকে ১২ ইঞ্চি পর্যন্ত হতে পারে এবং একটি আমের ওজন হতে পারে ৩শ’ থেকে ৬শ’ গ্রাম। এই আমের সবচে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো, এর খাদ্যাংশ ৮০ থেকে ৮২ শতাংশ, যেখানে প্রচলিত অন্যান্য আমে ৭০ থেকে ৭২ শতাংশ ভক্ষণযোগ্য। আমটির আটি এবং চামড়া দুটোই খুব পাতলা। আর যারা আঁশ বিহীন আম খেতে পছন্দ করেন তাদের কাছে এটি হবে পছন্দের আম কারণ এর আঁশ নেই বললেই চলে।

চারা রোপনের দুই বছরের মাথায় ফল ধরা শুরু করবে জানিয়ে জাতটির উদ্ভাবক ড. আব্দুর রহিম কৃষি প্রতিদিনকে বলেন, ঝোপালো আকৃতির গাছ হয় কালারড ব্যানানা ম্যাংগোর এবং এটি বামন জাতীয় আমের জাত। ৫০ থেকে ৬০ বছর পর্যন্ত ফলন দেবে ব্যানানা ম্যাংগো। নাভি জাতের এই আমে মুকুল আসে ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চ এবং জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে আম পাকতে শুরু করে। এর বোটা অনেক লম্বা হওয়ায় ঝড়ে এই আমের ক্ষতি কম হয় বলেও জানান ড. রহিম।

অন্যান্য জাতের চেয়ে এই আমে রোগবালাই কম হয় বলেও জানান এর উদ্ভাবক। ব্যানানা ম্যাংগোর মিষ্টতা অনেকটা আম্রপালির কাছাকাছি উল্লেখ করে ড. রহিম বলেন, এর মিষ্টতা অর্থাৎ টোটাল সলিবল সলিড-টিএসএস হলো ২৩ থেকে ২৪, আম্রপালির টিএসএস ২৪ থেকে ২৬ এবং লেংড়া, হিমসাগর ও গোপালভোগের তা ২০ থেকে ২২।

ব্যানানা ম্যাংগোর আরেকটি বিশেষ বৈশিষ্ট্যের উল্লেখ করে ড. আব্দুর রহিম বলেন, প্রচলিত জাতগুলো যেখানে একবছর কম পরের বছর বেশি অর্থাৎ অল্টারনেট বিয়ারিং, সেখানে এই জাতটি রেগুলার বিয়ারিং অর্থাৎ প্রতিবছরই সমান ফলন দেবে।

তবে পুষ্টিগুণ অন্যান্য আমের মতই। তবে খাদ্যাংশ যেহেতু বেশি তাই পুষ্টি বেশি পাওয়া যাবে। সহজে গ্রাফটিং অর্থাৎ জোড় কলমের মাধ্যমে বংশ বিস্তার করা যাবে।

জাত হিসেবে অবমুক্ত হওয়ার পর দেশের ৭৩টি হর্টিকালচার সেন্টার এবং ২৪টি বিএডিসি হর্টকিালচার ডেভেলপমেন্ট সেন্টারে এর চারা দেয়া হয়েছে বলেও জানান জার্ম প্লাজম সেন্টারের পরিচালক। জার্ম প্লাজম সেন্টারেও চারা উৎপাদন করা হচ্ছে এবং দ্রুতই তা কৃষকের মাঝে সম্প্রসারণ করা হবে বলেও জানান তারা।

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

পুঠিয়া পৌরবাসীর সেবা করতে চান সাবেক ছাত্রলীগ নেতা শরিফুল ইসলাম টিপু

Development by: bdhostweb.com

চুরি করে নিউজ না করাই ভাল