«» মূলমন্ত্রঃ : সত্যের পথে,জনগনের সেবায়,অপরাধ দমনে,শান্তিময় সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে" আমরা বাঙালি জাতীয় চেতনায় বিকশিত মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার স্বপক্ষে সত্য এবং ধর্মমতে বস্তুনিষ্ঠ, সৎ ও সাহসী সাংবাদিকতায় সর্বদা নিবেদিত। «»

পোরশায় বন্ধ হয়নি এনজিও’র কিস্তি আদায়, করোনায় কর্মহীন মানুষ এখন দিশাহারা

রবিবার, ১৭ মে ২০২০ | ৩:০৩ অপরাহ্ণ | 97 বার

পোরশায় বন্ধ হয়নি এনজিও’র কিস্তি আদায়, করোনায় কর্মহীন মানুষ এখন দিশাহারা

রাশেদ, পোরশা (নওগাঁ):



নওগাঁর পোরশায় করোনা ভাইরাসের এই সংকটময় মহুর্তেও বন্ধ হয়নি এনজিও’র কিস্তি আদায়। কর্মহীন মানুষগুলোর কাছে টাকা না থাকায় কিস্তি দিতে পারছেন না তারা। কিস্তি না পাওয়ায় চাপ প্রয়োগ করছেন এনজিও কর্মীরা। এতে করে কর্মহীন হয়ে পড়া মানুষগুলো এখন দিশাহারা হয়ে পড়েছেন।

 

 

 

 

 

করোনা ভাইরাসে মানবিক বিপর্যয়ের পরিস্থিতিতে কর্মহীন, বিপন্ন, অসহায় মানুষদের নিকট থেকে মানুষিক চাপ প্রয়োগ করে কিস্তির টাকা আদায় করা হচ্ছে। এনজিওগুলো যেন বিপদাপন্ন মানুষকে কিস্তির জন্য চেপে ধরেছে।

 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উন্নয়ন ও মানবিক সেবা ও কল্যাণের নাম ভাঙিয়ে গড়ে উঠা এনজিওগুলোর মাঠকর্মীরা নীতি, নৈতিকতা ও বিবেক বিষর্জন দিয়ে বর্তমানে করোনা সংকটে থাকা অহসায় মানুষদের মানুষিক চাপ প্রয়োগ করে কিস্তি আদায় করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। আর এ সমস্ত কাজ করছেন দেশের অন্যতম এনজিও রিক, গাক, মৌসুমী, আরডিআরএস, ব্র্যাক ও বিএসডিওসহ বেশ কয়েকটি এনজিও।

 

করোনাভাইরাসের প্রভাবে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ। করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে সবকিছু বন্ধ করে দিয়ে মানুষকে বাড়িতে থাকতে বাধ্য করা হচ্ছে। কিন্তু যাদের মাথায় ক্ষুদ্রঋণের বোঝা, বাধ্য হয়ে তাদের রাস্তায় নামার উপক্রম অবস্থা।

 

উপজেলার দয়াহার গ্রামের মোদাচ্ছের রহমান জানান, অর্থিক সংকটের কারনে তিনি মৌসুমী নামের একটি এনজিও থেকে ঋণ গ্রহন করেছিলেন। তিনি নিয়মিতই কিস্তি পরিষদ করে আসছিলেন। বর্তমানে করোনার কারনে কর্মহীন হয়ে পড়ায় তিনি কিস্তির টাকা পরিষদ করতে পারছেন না। এতে ঐ সংস্থার কর্মীরা প্রায়ই তার বাড়িতে এসে হুমকি-ধামকি দিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে তিনি মানুষিক কষ্টে ভ‚গছেন বলে জানান।

 

উপজেলার সহড়ন্দ গ্রামের বাগানের ছেলে ময়নুল ইসলাম জানান, তিনি কর্মহীন হয়ে পড়ায় অর্থিক সংকটে ভ‚গছেন। এনজিও রিক থেকে তার ঋণ নেওয়া আছে। সপ্তাহের একদিন করে মাঠকর্মী কিস্তি আদায় করতে আসেন। কিস্তি দিতে না চাইলে হুমকি-ধামকি দিচ্ছে। হাতে কিছু টাকা ছিল তাই বাধ্য হয়ে গতকাল রোববার তিনি তার কিস্তি দিয়েছেন।

 

এনজিও রিক এর পোরশা শাখা থেকে উপজেলার লেলাংগাহার গ্রামের একজন ঋণ গ্রহিতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, রিক এর মাঠ কর্মীরা আমার বাড়িতে আমাকে না পেয়ে ম্যানেজার আমাকে বার বার ফোন দিচ্ছে কিস্তির টাকা নেওয়ার জন্য।

 

উপজেলার আমইড় গ্রামের নুরজমিলা জানান, তিনি আরডিআরএস নামের একটি এনজিও থেকে ঋণ নিয়েছিলেন। করোনায় তিনি গরু বিক্রি করতে পাচ্ছেন না। বাড়ি থেকে বের হতে পাচ্ছেন না। তাই কিস্তিও দিতে পাচ্ছেন না। এদিকে কিস্তি দিতে না পারায় তার বাড়িতে ঢুকে মাঠ কর্মী শ্বাসিয়ে গেছেন। বর্তমানে তিনি দিশাহারা অবস্থায় আছেন।

 

কিস্তি আদায়কারী এনজিও রিক এর সারাইগাছী শাখার ম্যানেজার শাওন জানান, মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অর্থরিটি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে কিস্তি আদায়ের অনুমতি রয়েছে। একই কথা বলেন গাক, মৌসুমী, আরডিআরএস, ব্র্যাক ও বিএসডিও’র কর্মকর্তারা।

 

এ ব্যাপারে, মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অর্থরিটির পরিচালক মোহাম্মদ ইয়াকুব হোসেন মোবাইল ফোনে জানান, আমরা মূলত করোনা ভাইরাসের এই আপদকালীন সময়ে কৃষকদের মাঝে খুদ্র ঋণ বিতরন, সদস্যদের সঞ্চয় ফেরত, ত্রান বিতরনসহ করোনা ভাইরাস মোকাবিলা করতে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অনুমতি দিয়েছি।

 

অপরদিকে, এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্বাহী সেল এর পরিচালক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান মোবাইল ফোনে বলেন, পিকেএসএফ এর পক্ষ থেকে গত এপ্রিল মাসের ২৮তারিখ ২৭কোটি টাকার ত্রাণ বিতরন ও করোনা সংকটে কিছু সহায়ক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য লিখিত অনুমতি চেয়েছিল। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে চলতি মাসের ১০তারিখ করোনা মৌসুমে শুধুমাত্র ত্রান বিতরন, সদস্যদের সঞ্চয় ফেরত ও করোনা সংকট থেকে কাটিয়ে উঠতে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে যদি কোন এনজিও কিস্তি আদায় শুরু করে তাহলে এটা খুবই দু:খজনক বলে তিনি মনে করেন।

 

এ ব্যাপারে নওগাঁ জেলা প্রশাসক হারুন-অর-রশিদ জানান, জেলার এনজিওগুলোকে কিস্তি আদায় বাদে অন্যান্য কার্যক্রম স্বল্প আকারে পরিচালনার জন্য অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তবে তিনি খুব দ্রæত এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবেন বলে জানান।

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

জমি লিখে নিয়ে ঈদের দিনে বৃদ্ধা মাকে রাস্তায় ফেলে গেল ৩ ছেলে!

Development by: bdhostweb.com

চুরি করে নিউজ না করাই ভাল