«» মূলমন্ত্রঃ : সত্যের পথে,জনগনের সেবায়,অপরাধ দমনে,শান্তিময় সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে" আমরা বাঙালি জাতীয় চেতনায় বিকশিত মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার স্বপক্ষে সত্য এবং ধর্মমতে বস্তুনিষ্ঠ, সৎ ও সাহসী সাংবাদিকতায় সর্বদা নিবেদিত। «»

রাজশাহী

গোদাগাড়ীতে মাঠজুড়ে পাকা ধান,তবুও দুশ্চিন্তায় কৃষক

মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২০ | ৪:২৩ অপরাহ্ণ | 706 বার

গোদাগাড়ীতে মাঠজুড়ে পাকা ধান,তবুও দুশ্চিন্তায় কৃষক
ধান পাকার শেষ মুহূর্তে ধানের পরিচর্যা করতে ব্যাস্ত কৃষক।

ওয়াসিম আল-রাজি,নিজস্ব প্রতিবেদক :



বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ। বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকা শক্তি কৃষি। তাই,প্রতি বছরই সোনালি ফসল ঘরে তোলার স্বপ্ন নিয়ে উচু জমি সহ বিলের জমি জুড়ে বোরো ধান চাষ করেন বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষকরা। রাজশাহী গোদাগাড়ীতে চলতি বছরও অনেক আশা নিয়ে জমি আবাদ করেছেন তারা। ফলনও ভালো হয়েছে। কিন্তু পাকা ধানের মধুর ঘ্রাণে মাতোয়ারার পরিবর্তে সোনালি ফসল ঘরে তোলা নিয়ে নির্ঘুম রাত কাটছে তাদের।করোনা ভাইরাস থেকে সুরক্ষিত থাকতে বাড়িতে থাকায় দীর্ঘদিন যাবত  কর্মহীন থাকার কারনে নগদ টাকা সঞ্চয় না থাকা,ধান কাটায় ব্যবহৃত উপকরন মেরামতের জন্য কামারের দোকান বন্ধ সহ ধান মাড়াইয়ের মেশিন মেরামত করতে না পারায় এসব উপকরনেরও সংকট হতে পারে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।পাশাপাশি বৈরী আবহাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে । ফলে ঘরে ধান তোলা নিয়ে কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়েছে গোদাগাড়ী উপজেলার কয়েক হাজার কৃষকের।কৃষকেরা বলছেন, “প্রতি বছর দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ধান কাটার জন্য শ্রমিক আসে কিন্তু তারপরও তীব্র শ্রমিক সংকট দেখা দেয়। এ বছর করোনাভাইরাসের কারণে কোনো অঞ্চল থেকেই শ্রমিক আসতে চাচ্ছে না। আগামী ১০-১৫ দিনের মধ্যে জমির পাকা ধান কাটতে না পারলে সম্ভাব্য অতিবৃষ্টির কারনে বন্যা কবলিত মাঠে ফসলহানির আশঙ্কা রয়েছে। বৈশাখ মাসেই ঝড় বৃষ্টি শুরু হলে,জমিতে পানি জমা হবে ফলে পাকা ধান আর কেটে ঘরে আনা যাবে না। ফলে ক্ষতির পরিমান বেড়ে যেতে পারে।রিশিকুল ইউনিয়নের এনায়েতুল্লাপুর গ্রামের স্থানীয় কৃষক আকিরুল (কিন্তুক),এন্টু,সৈয়দপুর গ্রামের রফিক বলেন, “অতীতের তুলনায় এ বছর ফসল ভালো হয়েছে। আমন আবাদে ধান পাকার পরেও ধান কাটতে হাতে কিছু সময় পাওয়া যায়। কিন্তু ইরি-বোরো মৌসুমে নানান রকম প্রাকৃতিক দূর্যোগ লেগেই থাকে। তাছাড়া শ্রমিকের সংকট, আবার এলাকার শ্রমিকও সংক্রমণ ভয়ে কাজ করতে চাচ্ছে না”। যদি উপজেলার কৃষি অফিস থেকে কৃষকদের ধান কাটার যন্ত্র দেন, তাহলে তারা নিজেরাই ধান কেটে ঘরে তুলতে পারবেন বলে আশাবাদ ব্যাক্ত করেন তারা।এপ্রসঙ্গে গোদাগাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম জানান,এবার বোরো মৌসুমে গোদাগাড়ী উপজেলায় ১৩ হাজার ৪’শ ৮৫ হেক্টর জমিতে ধানের চাষ করা হয়েছে। হেক্টর প্রতি গড়ে সাড়ে ৬ টন অর্থাৎ প্রতি বিঘাতে ২৩ মন হারে ধানের বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।তাছাড়া করোনা ভাইরাসের প্রভাবে লকডাউনজনিত কারনে যেন কৃষকদের ধান কাটা এবং মাড়াই কাজে কোন প্রকার সমস্যা না হয় সে লক্ষ্যে উপজেলার সাবলম্বী কৃষকদের মাঝে ৭ টি কমবাইন্ড হারবেস্টর মেশিন দেওয়া হয়েছে।যে মেশিন ধান কাটা,মাড়াই,ধান ঝাড়াই এবং বস্তাবন্দী কাজে পারদর্শী।যা প্রতি ২০ মিনিটে ১ বিঘার ধান কাটা,মাড়াই,ঝাড়াই কাজে পূর্নতা এনে দিবে কৃষকদের মাঝে, সেক্ষেত্রে কৃষকদের এবার ধান ঘরে তোলাতে কোন প্রকার সমস্যা হবেনা বলে আশাবাদব্যাক্ত করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা।

20200420_173050

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

জমি লিখে নিয়ে ঈদের দিনে বৃদ্ধা মাকে রাস্তায় ফেলে গেল ৩ ছেলে!

Development by: bdhostweb.com

চুরি করে নিউজ না করাই ভাল