«» মূলমন্ত্রঃ : সত্যের পথে,জনগনের সেবায়,অপরাধ দমনে,শান্তিময় সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে" আমরা বাঙালি জাতীয় চেতনায় বিকশিত মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার স্বপক্ষে সত্য এবং ধর্মমতে বস্তুনিষ্ঠ, সৎ ও সাহসী সাংবাদিকতায় সর্বদা নিবেদিত। «»

বরিশালে পুলিশের নাম ভাঙ্গিয়ে প্রতিমাসে লক্ষাধিক টাকার চাঁদাবাজি

শনিবার, ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ৪:২৩ অপরাহ্ণ | 249 বার

বরিশালে পুলিশের নাম ভাঙ্গিয়ে প্রতিমাসে লক্ষাধিক টাকার চাঁদাবাজি
বরিশালে পুলিশের নাম ভাঙ্গিয়ে প্রতিমাসে লক্ষাধিক টাকার চাঁদাবাজি

প্রিন্স তালুকদার,বরিশাল প্রতিনিধিঃ



বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের নাম ভাঙ্গিয়ে সড়কে চলাচলরত হলুদ অটো রিক্সার প্রতি মাসে লক্ষাধিক টাকার চাঁদাবাজি চলছে। নগরবাসীর গলার কাটা হয়ে আছে সড়কে চলাচলরত হলুদ অটো রিক্সা (ইজি বাইক)। বেপরোয়া এই অবৈধ ইজি বাইকের কারনে সৃষ্ট যানজট নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে ট্রাফিক বিভাগ। এমনকি যানজটে বিব্রত খোদ সিটি মেয়রও জানিয়ে দিয়েছেন এর দায়ভার না নেয়ার কথা। ঠিক সেই মুহুর্তে নগরীর একাধিক পয়েন্ট থেকে বিট দিয়ে চলছে টোকেন বিহীন অবৈধ অটোরিক্সা। যা নিয়ন্ত্রণ করছে শ্রমিক নেতা নামধারী একাধিক ব্যক্তি।
বরিশাল সিটি কর্পোরেশন সূত্রে জানাগেছে, দ্বিতীয় পরিষদ এবং তৃতীয় পরিষদের মেয়রদের সময়ে ২ হাজার ৬১০টি অটোরিক্সার লাইসেন্স (টোকেন) প্র্রদান করে সিটি কর্প্র্রোরেশনের যানবাহন লাইসেন্স শাখা। বর্তমানে টোকেনধারী ও টোকেন বিহিন অটোরিক্সার সংখ্যা পাঁচ হাজারের বেশি বলে জানিয়েছেন ট্রাফিক বিভাগের। অবৈধ অটোরিক্সার মধ্যে কিছু সংখ্যক অটো আসছে নগরীর বাইরে থেকে। নগর ট্রাফিক বিভাগ সূত্রে জানাগেছে, ইতিপূর্বে দেশে চলাচলরত সকল অটোরিক্সা (ইজি বাইক) অবৈধ ঘোষনা করে বন্ধের নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। নির্দেশ বাস্তবায়নে প্র্রাথমিক পর্যায়ে বরিশাল সিটি’র প্র্রাণ কেন্দ্র সদর রোডসহ কয়েকটি সড়কে ইজি বাইক চলাচল বন্ধ করে দেয় পুলিশ। কিন্তু বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের চতুর্থ পরিষদের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অপবাদ থেকে মুক্তি পেতে শহর কেন্দ্রীক পুনরায় অটোরিক্সা চলাচলের ব্যবস্থা করে দেন। পাশাপাশি শহর কেন্দ্রীয় দ্রুত গতির থ্রি হুইলার মাহেন্দ্র চলাচল বন্ধ করেন তিনি। এতে নগরবাসির দুর্ভোগ লাঘব হবে বলে ধারণা ছিলো সংশ্লিষ্টদের। কিন্তু হয়েছে তার উল্টোটা।
সিটি কর্পোরেশনের যানবাহন লাইসেন্স শাখা থেকে জানানো হয়েছে, অটোরিক্সার কারণে সৃষ্ট যানজট নিয়ে বিব্রত খোদ সিটি মেয়র। যে কারনে তার নির্দেশেই গত অর্থ বছর থেকেই অটোরিক্সার লাইসেন্স নবায়ন বন্ধ রাখা হয়েছে। তার মধ্যে নগরীর বাইপ্র্রাস সড়ক গুলোতে অবৈধভাবে চলাচলকারী টোকেন বিহিন অটোরিক্সা নিয়ে নতুন করে ভাবিয়ে তুলছে নগর কর্তৃপক্ষকে। তথ্যানুসন্ধানে জানাগেছে, নগরীর মুল শহরের শেষ ভাগে একাধিক পয়েন্ট থেকে অবৈধভাবে চলাচল করছে টোকেন বিহিন সহাধিক অটোরিক্সা। যা নিয়ন্ত্রণ করছেন শ্রমিক নামধারী একাধিক ব্যক্তি। এরা প্র্রতিটি অটোরিক্সায় মাসওয়ারী বিশেষ টোকেনের ব্যবস্থা করে দিয়েছে। মাসের শুরুতে স্থান ভেদে টোকেন বাবদ ১২শ টাকা থেকে ১৮শ করে আদায় করছেন শ্রমিক নামধারীরা। অটোরিক্সা মালিক ও শ্রমিকরা জানিয়েছেন, নগরীর বেলতলা খেয়াঘাট থেকে লঞ্চ রুটে টোকেন বিহিন অন্তত ১০০ অবৈধ অটোরিক্সা চলছে। যা নিয়ন্ত্রণ করছে পলাশপুরের আব্দুর রব ওরফে বিট রব নামের কথিত শ্রমিক নেতা।

গতবছরের আগস্ট মাস থেকে অবৈধ এসব অটোরিক্সা চলাচলের জন্য প্র্রতিটি অটোরিক্সায় ২৫০ টাকা বিটে দেয়া হয়েছে একটি করে কাঠের তৈরী টোকেন। এস-আর-ক-ঝ” সংগঠনের নামে দেয়া ওই টোকেনে লেখা রয়েছে ০১৭৭২-৪৮৮৮১০ মোবাইল নম্বর লেখা ছিল। টোকেনটি হয় গাড়ির মধ্যে, নিজেদের পকেটে বা চাবির রিং হিসেবে ঝুলিয়ে রাখছে। কাঠের টোকেনের পূর্বে বিশেষ টোকেন হিসেবে দেয়া হয়েছিল সৈয়দ রাইয়ান কল্যাণ সংগঠণ নামের ভিজিটিং কার্ড। এতেও ওই একই মোবাইল নম্বর উল্লেখ ছিলো। অপরদিকে নগরীর তালতলী থেকে জেলখানার মোড় পর্যন্ত চলাচল করছে ৩৬টি টোকেন বিহিন অটোরিক্সা। যা নিয়ন্ত্রণ করছেন রিফাত। ওই অবৈধ অটোরিক্সাতেও একইভাবে বিশেষ টোকেন ব্যবহার করা হচ্ছে। কাশিপুর বাজার থেকে বারৈজ্যার হাট-রায়াপুর রুটে চলছে ৬৫টি অটোরিক্সা। যা নিয়ন্ত্রণ করছে রিপন নামের ব্যক্তি। কাশিপুর চৌমাথা থেকে রায়পাশা পপুলার স্কুল ও বারৈজ্যারহাট রুটে চলাচল করছে আরো ২৫টি অটো। যা নিয়ন্ত্রণ করছে রিপন নামের একই ব্যক্তি। জিয়া সড়ক থেকে লোহার পুল রুটে চলাচল করছে ৩০টি অটোরিক্সা। যা নিয়ন্ত্রণ করছে আফজাল মজুমদার ও করিম নামক দুই ব্যক্তি। হাতেম আলী কলেজ চৌমাথা থেকে টিয়াখালী পর্যন্ত চলছে আরো ৬৫টি অটো। এগুলোর নিয়ন্ত্রণেও রয়েছেন ওই ব্যক্তি। ধানগবেষনা থেকে সাবেক খেয়াঘাট, সাগরদী বাজার থেকে কারিকর বিড়ি ব্রাঞ্চ হয়ে টিয়াখালী পুল প্র্রর্যন্ত ৬৫টি, বাস টার্মিনালে ট্রাফিক বক্স সংলগ্ন গোল চত্ত্বর থেকে সাবেক দপদপিয়া ফেরীঘাট পর্যন্ত ৫০টি, রূপাতলীর একই স্থান হতে কালিজিরা বাজার পর্যন্ত ৫০টি ও কালিজিরা বাজার থেকে টিয়াখালী পর্যন্ত চলছে আরো ৬০টি টোকেন বিহিন অবৈধ অটোরিক্সা। এর এগুলো সব নিয়ন্ত্রণ করছে অটোরিক্সা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ও কেডিসি’র বাসিন্দা লেদু সিকদার, শ্রমিক নেতা আলমগীর ও রূপাতলী এলাকার জামালগাজী, সিএনজি চালক লোকমান, অটো চালক হিরণ ও কালিজিরার লিটন। খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, কয়েক মাস কয়েক পূর্বে অটোরিক্সা মালিক সমিতির নাম ভাঙিয়ে একই ভাবে বিট বানিজ্য করছিলেন সংগঠনটির সভাপতি নিজাম উদ্দিন নিজাম ও সাধারণ সম্পাদক মোর্শেদ আলম। পরে তাদেরকে ধরে পুলিশের হাতে সোপর্দ করেছিলেন বর্তমান মেয়র। এর ফলে কিছুদিন বিট বানিজ্য বন্ধ ছিলো। পরবর্তী সময়ে নিজাম ও মোর্শেদদের মত করেই পুনরায় বিট বানিজ্য শুরু করে একটি মহল।

বরিশাল সিটি কর্পোরেশনে এক সংবাদ সম্মেলনে সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ বলেছিলেন, আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিলো আমি অটোরিক্সা বন্ধ করে টাকা খেয়ে মাহেন্দ্র চলাচলের সুযোগ করে দিয়েছি। যে কারনে আমি অটোরিক্সা চলাচলের ব্যবস্থা করে দিয়েছি। কিন্তু অটোরিক্সা নিয়ে যে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করেছে বা যা ঘটছে তার দায়ভার আমি নেবনা।

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

অযথা ঘোরাঘুরি করায় পুঠিয়াতে দুজন’কে জরিমানা

Development by: bdhostweb.com

চুরি করে নিউজ না করাই ভাল