«» মূলমন্ত্রঃ : সত্যের পথে,জনগনের সেবায়,অপরাধ দমনে,শান্তিময় সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে" আমরা বাঙালি জাতীয় চেতনায় বিকশিত মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার স্বপক্ষে সত্য এবং ধর্মমতে বস্তুনিষ্ঠ, সৎ ও সাহসী সাংবাদিকতায় সর্বদা নিবেদিত। «»

​হতাশায় মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন রাজশাহীর টমেটো চাষিরা!

রবিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯ | ৪:০২ অপরাহ্ণ | 195 বার

​হতাশায় মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন রাজশাহীর  টমেটো চাষিরা!

মহানন্দা নিউজ- নিজস্ব প্রতিনিধি :



টমেটোর রাজ্য খ্যাত রাজশাহী জেলাতে টমেটোর আবাদ কমছে। এ জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে টমেটো বাজারে আনছেন চাষিরা। ভালো বীজের অভাব ও লোকসানে ক্রমেই চাষিরা টমেটো চাষের আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। সরকারের তদারকিতে বিষমুক্ত টমেটো চাষের তাগিদ দেওয়া হলেও মিলছে না ভালো দাম। চাষিরা পাচ্ছেন না ঋণ সুবিধা। এসব কারণে স্থানীয় কৃষকরা টমেটোর জমিতে অন্য ফসল চাষ করছেন।

 

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে জানা গেছে, টমেটো চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৫০ হেক্টর। গতবার হয়েছিল ৩ হাজার ৩৭৯ হেক্টর। এরমধ্যে গোদাগাড়ীতেই টমেটো চাষ হয়েছিল ২ হাজার ৬ শ’ ৫০ হেক্টোর জমিতে। চলতি বছর ২ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে টমেটোর চাষ হয়েছে। এছাড়াও জেলার পবা উপজেলায় এবার চাষ হয়েছে ৪২৫ হেক্টর জমিতে। প্রতিবছরই টমেটোর আবাদ কমছে।

 

গোদাগাড়ী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, ২০১২ সালে ২ হাজার ৮শ হেক্টর জমিতে শীতকালীন হাইব্রিড টমেটো চাষ হয়। ২০১৩ সালে ৪ হাজার হেক্টর জমিতে টমেটো চাষ হয়। প্রায় দুই যুগ ধরে গোদাগাড়ীর টমেটো অবদান রাখছে জাতীয় অর্থনীতিতে। প্রতিবছর এখানে টমেটো নিয়ে প্রায় ৫শ’ কোটি টাকার ব্যবসা হয়। কিন্তু কয়েক বছর ধরে চাষিরা হতাশ হচ্ছে। উন্নত বীজ আর ভালো দাম না পেয়ে তাদের লোকসান গুনতে হয়েছে। ফলে চাষিরা টমেটো চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন।

 

এ অঞ্চলের টমেটো দেশের চাহিদা মেটার পাশাপাশি অর্থনীতিতেও ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। টমেটো চাষ করে এ অঞ্চলের কৃষক অর্থনৈতিক ভাবে লাভবান হয়েছিল। বর্তমানে টমেটো চাষ দিন দিন কমে যাওয়ায় অর্থনীতিতে পড়েছে বিরুপ প্রভাব।

 

টমেটো চাষ কমে যাওয়ার কারণ হিসাবে টমেটোর নায্য মূল্য না পাওয়াকে বেশি দায়ি করেছেন টমেটো চাষিরা। পাশাপাশি তারা প্রতিবেদককে অভিযোগ করে বলেন, চাষিরা কীটনাশক প্রয়োগ করলে ফলাও করে ছাপানো হয়। আর লোকসান হলে কেউ ফিরেও তাকায় না। আবার যখন টমেটোর ভরা মৌসুম তখন ভারত থেকে এলসির মাধ্যমে টমেটো দেশে আসায় কৃষকরা টমেটোর দাম কম পায়। যার ফলে নায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হয় এ অঞ্চলের টমেটো চাষিরা। এছাড়াও বহুজাতিক কোম্পানী টমেটোর বীজ নিয়ে কৃষকদের সাথে প্রতারণা করায় কৃষকরা টমেটো চাষে আগ্রহ হারিয়েছেন।

 

এ উপজেলায় সব চাইতে বেশি টমেটো চাষ হয় মাটিকাটা, গোদাগড়ী, গোগ্রাম ও চরআষাঢ়িয়া দহ ইউনিয়নে। মাটিকাটা ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ কৃষি সহকারী অফিসার আশরাফুল ইসলাম জানান, এবার মাটিকাটা ইউনিয়নে টমেটো চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ শ’ ৫০ হেক্টোর জমি। গত বছর টমেটো চাষ হয়েছিল ৭ শ’ হেক্টোর জমিতে। এবার টমেটোর বীজতলা তৈরি হয়েছে ২ শ’ শতক জমিতে। গত বছরের তুলনাই এবার বীজতলা প্রায় ৩ গুন কম হয়েছে। তিনি আরও বলেন, টমেটো চাষিরা টমেটোর নায্য মূল্য না পাওয়ায় টমেটো চাষ থেকে আগ্রহ হারাচ্ছে কৃষকরা।

 

পবা উপজেলার বরইকুড়ি গ্রামের কৃষক আব্দুল বলেন, গত বছর ২ বিঘা জমিতে টমেটো চাষ করেছিলাম। কিন্তু ভাল দাম না পাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। তাই এবার ১ বিঘা জমিতে টমেটো চাষ করেছি। এখন ফুল আসছে। এবারেও লোকসান হলে এই আবাদ না করার কথা জানান তিনি। অনেকে এখনো লাগাচ্ছেন।

 

গোদাগাড়ীর চাষিরা জানান, প্রতি বিঘা জমিতে ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা খরচ করে আয় হয় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। আর ভালো লাভের আশায় চাষিরা প্রতিবছরই সেপ্টেম্বর থেকে পরবর্তী ৬-৭ মাস সময় ব্যস্ত থাকে টমেটো নিয়েই। টমেটো মৌসুমে প্রতিদিনই এ এলাকা থেকে শত শত ট্রাক টমেটো যায় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। কিন্তু ২০১০ সালে সিনজেনটা কোম্পানির হাইব্রিড টমেটো সবল এফ-১ চাষ করে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় কৃষক।

 

এ নিয়ে কৃষকরা ক্ষতিপূরণের দাবিতে সিনজেনটার বিরুদ্ধে আন্দোলন ও আদালতে মামলা দায়ের করেন। এরপর থেকে সিনজেনটা কোম্পানি সবল এফ-১ টমেটোর বীজ বাজারজাত বন্ধ করে দেয়। সবলের বিকল্প বীজ হিসেবে সিনজেনটা কোম্পানি বিপুল, বিগল, হাইটম নামের টমেটোর বীজ বাজারজাত শুরু করে। সেই সঙ্গে বিভিন্ন বীজ কোম্পানির মিন্টু সুপার ও এনার্জি, সালামত, ভাগ্য, মিন্টু সুপার, নাসিব, লাভলী, ভিএল-৬৪২ নামে হাইব্রিড জাতের টমেটোর বীজ পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু বীজের স্থায়ী সমাধান হয়নি। আবার সেই সঙ্গে রয়েছে ন্যায্য দাম না পাওয়া।

 

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক শামছুল হক বলেন, টমেটোর আবাদ কমেছে এটা সত্য কথা। চাষিরা মূলত যে ফসলে ভালো লাভ পাবে সেদিকেই ঝুঁকবে। সেই চিন্তা করে ভাল লাভের আশায় চাষিরা বিকল্প ফসল চাষ করছে। তবে বীজ নিয়ে যাতে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত না হন সেদিকে নজর দিচ্ছি। আশা করছি এবছর কৃষক ভালো দাম পাবেন।

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

কক্সবাজারের পথে সোনারগাঁয়ে সাংবাদিক  নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির গাড়িতে আগুন

Development by: bdhostweb.com

চুরি করে নিউজ না করাই ভাল