«» মূলমন্ত্রঃ : সত্যের পথে,জনগনের সেবায়,অপরাধ দমনে,শান্তিময় সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে" আমরা বাঙালি জাতীয় চেতনায় বিকশিত মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার স্বপক্ষে সত্য এবং ধর্মমতে বস্তুনিষ্ঠ, সৎ ও সাহসী সাংবাদিকতায় সর্বদা নিবেদিত। «»

হুমকির মুখে সচিবালয়ের বিদ্যুৎ সরবরাহ

মঙ্গলবার, ০৫ নভেম্বর ২০১৯ | ৭:০৬ পূর্বাহ্ণ | 27 বার

হুমকির মুখে সচিবালয়ের বিদ্যুৎ সরবরাহ
বাংলাদেশ সচিবালয়। ছবি: সংগৃহীত

মহানন্দা নিউজ- হুমকির মুখে দেশের প্রাণকেন্দ্র বাংলাদেশ সচিবালয়ের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা। একের পর এক লোড বাড়ানোর কারণে সচিবালয়ের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা বিকল হয়ে পড়েছে। ত্রুটিপূর্ণ হয়ে পড়েছে সুইচিং স্টেশনগুলো।

দুর্বল এ বিতরণ ব্যবস্থার কারণে গত দুই মাসে পরপর দুই দফায় ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটে। প্রথমবার ১ ঘণ্টা ৩৫ মিনিট ও দ্বিতীয় দফায় ৮ ঘণ্টা ৪ মিনিট অন্ধকারে ছিল সচিবালয়। এ ছাড়া ছোটখাটো ঝড়বৃষ্টিতে প্রায়ই বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটে।

পুরনো হওয়ায় প্রায় সুইচিং স্টেশনের ব্রেকার, ক্যাবল টার্মিনেশন পুড়ে গিয়েও বিদ্যুৎ বিভ্রাট হচ্ছে। সচিবালয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী কোম্পানি ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি) বলছে, দ্রুত দুর্বল ও ত্রুটিপূর্ণ বিতরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন না করা হলে যে কোনো সময় ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিপর্যয় হতে পারে। এতে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে যাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ।

সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব বরাবর দেয়া এক চিঠিতে ডিপিডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিকাশ দেওয়ান এ আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে তিনি গণপূর্ত বিভাগের কাছে সচিবালয়ের অভ্যন্তরে ৫ কাঠা জমি বরাদ্দ দেয়ার কথা বলেছেন।

বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ যুগান্তরকে বলেন, সচিবালয়ের বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা দ্রুত পরিবর্তন করতে হবে। গণপূর্ত বিভাগ যদি জমি বরাদ্দ দেয় তাহলে বিদ্যুৎ বিভাগ সচিবালয়ের অভ্যন্তরে একটি ৩৩/১১ কেভি সাবস্টেশন নির্মাণ করবে। এরপর ডিপিডিসির মাধ্যমে এই স্টেশনটি পরিচালিত হবে। তিনি আশা করছেন দ্রুত এ সমস্যার সমাধান হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, বিদ্যুৎ আইন অনুযায়ী কোনো স্থাপনায় ৫ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে হলে সেখানে ৩৩/১১ কেভি (কিলো-ভোল্টেজ) উপকেন্দ্র স্থাপন করতে হবে।

কিন্তু সচিবালয়ে এর দ্বিগুণের বেশি মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হলেও এখানে ব্যবহার করা হচ্ছে ১১.৪ কেভি সাবস্টেশন। বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ১২ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে।

বিকাশ দেওয়ান তার চিঠিতে আরও বলেছেন, অর্থ মন্ত্রণায়ের নতুন ভবনটি চালু হলে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে হবে ১৮ মেগাওয়াট। তখন কোনোভাবেই এ বিতরণ লাইন দিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হবে না।

বর্তমানে ৪টি বিকল্প ব্যবস্থায় ১১.০৪ কেভি ভূগর্ভস্থ ক্যাবলের মাধ্যমে সচিবালয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। সচিবালয়ের অভ্যন্তরে পিডব্লিউডির ১টি সুইচিং স্টেশনসহ ৩টি স্থানে ডিপিডিসির আরএমইউর মাধ্যমে ১৩টি বিতরণ ট্রান্সফরমার চালু আছে।

বিকাশ দেওয়ান তার চিঠিতে বলেছেন, যদি এসব ব্যবস্থার যে কোনো একটি বন্ধ হয়ে যায় বা বিভ্রাট ঘটে তাহলে বিকল্প ব্যবস্থা থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করতে দীর্ঘসময় লেগে যায়। তাছাড়া পিডব্লিউডির নিজস্ব সুইচিং স্টেশনটি অনেক পুরনো ও অকেজো হয়ে পড়ায় উপকেন্দ্রটিতে প্রায় ত্রুটি দেখা দিচ্ছে।

এ কারণে ১৫ সেপ্টেম্বর পিডব্লিউডি নিয়ন্ত্রিত সুইচিং স্টেশনের ব্রেকার জ্বলে গিয়ে বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটে। এতে সচিবালয়ের অভ্যন্তরে ৪, ৬ ও ১১ নম্বর ভবন সম্পূর্ণ বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ডিপিডিসি তৎক্ষণাত বিকল্প ব্যবস্থা নেয়ায় ১ ঘণ্টা ৩৫ মিনিট পর পুনরায় বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু হয়।

ডিপিডিসির এক শীর্ষ কর্মকর্তা সোমবার সন্ধ্যায় টেলিফোনে যুগান্তরকে বলেন, ইতিমধ্যে সচিবালয়ের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা সরেজমিন পরিদর্শন করা হয়েছে। পিডব্লিউডির সঙ্গেও বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে অবিলম্বে ১১ কেভি সুইচিং স্টেশনের ব্রেকারগুলো পরিবর্তন, ট্রান্সফরমার মেইনটেন্যান্সসহ সচিবালয়ের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা আধুনিকায়নের কথা বলা হয়েছে।

যদি এটা করা না হয় তাহলে আরও ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটবে। ওই কর্মকর্তা বলেন, এ নিয়ে পিডব্লিউডিকে কমপক্ষে ১০টি চিঠি দিয়েছে ডিপিডিসি। কিন্তু তারা কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

এখন পর্যন্ত কোনো সাবস্টেশনই মেরামত করা হয়নি। আপডেট করা হয়নি কোনো যন্ত্রপাতি। যার কারণে ২৮ অক্টোবর আবারও সচিবালয়ে বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটে। এতে ৪, ৬, ৯ ও ১১ নম্বর ভবন বিদ্যুৎশূন্য হয়ে পড়ে। এ ঘটনায় ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ ছিল না ভবনগুলোতে।

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

কবিতা- “স্কাউট আত্মকথা”

Development by: bdhostweb.com

চুরি করে নিউজ না করাই ভাল