«» মূলমন্ত্রঃ : সত্যের পথে,জনগনের সেবায়,অপরাধ দমনে,শান্তিময় সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে" আমরা বাঙালি জাতীয় চেতনায় বিকশিত মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার স্বপক্ষে সত্য এবং ধর্মমতে বস্তুনিষ্ঠ, সৎ ও সাহসী সাংবাদিকতায় সর্বদা নিবেদিত। «»

তানোর মুন্ডুমালায় অনুমোদনহীন বরেন্দ্র বিদ্যানিকেতন স্কুল পরিচালনার চেষ্টা:নেপথ্যে রুবেল

সোমবার, ০৪ নভেম্বর ২০১৯ | ৩:২৭ অপরাহ্ণ | 826 বার

তানোর মুন্ডুমালায় অনুমোদনহীন বরেন্দ্র বিদ্যানিকেতন স্কুল পরিচালনার চেষ্টা:নেপথ্যে রুবেল
কথিত অনুমোদনহীন স্কুলের তত্ত্বধায়ক মাস্টারমাইন্ড রুবেল এবং নির্মানাধীন স্কুল


নিজস্ব  প্রতিবেদক :



রাজশাহী তানোর উপজেলার মুন্ডুমালা পৌরসভার গরুহাটের পশ্চিম গেইট, আমনূরা রোড মুন্ডুমালা বাজারে সরকারের অনুমোদন ছাড়াই “মুন্ডুমালা বরেন্দ্র বিদ্যানিকেতন স্কুল” নামক একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালু করার অভিযোগ উঠেছে মুন্ডুমালা পৌরসভার নিম্নমান সহকারী পদের দায়িত্বে থাকা মাস্টারমাইন্ড দফাদার রুবেলের বিরুদ্ধে।শুধু তাই ই নয় মুন্ডুমালা এলাকার প্রথম মুন্ডুমালা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নামে অপপ্রচার চালিয়ে মাস্টারমাইন্ড দফাদার রুবেল নিজের প্রতিষ্ঠিত বেনামি অনুমোদনহীন স্কুলে,নিজেকে অনার্স পাস আখ্যায়িত করে বিজ্ঞাপন দিয়ে স্কুলে ছাত্র/ছাত্রী ভর্তির চেষ্টা চালাচ্ছে।এতে করে স্থানীয় অভিভাবক এবং প্রাইমারী স্কুলের শিক্ষকগন অনেকটাই বিভ্রান্তি  এবং হয়রানীর স্বীকার হচ্ছেন বলে জানা গিয়েছে।

 

সূত্রে জানা যায়,কথিত বেনামি অনুমোদনহীন “মুন্ডুমালা বরেন্দ্র বিদ্যানিকেতন” স্কুলের নির্মানের জন্য আর্থিক সহযোগীতা করছেন মুন্ডুমালা পৌরসভার প্রয়াত সাবেক মেয়র ও বিএনপি নেতা শীষ মোহাম্মদের আস্থাভাজন ব্যাক্তি ও ডান হাত খাইরুল আনাম।

 

এলাকার সচেতন অভিভাবক মহলের অভিযোগ এই কথিত অনুমোদনহীন মুন্ডুমালা বরেন্দ্র বিদ্যানিকেতন স্কুলের মৌখিক অনুমোদন দিয়েছেন মুন্ডুমালা পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আমিন।

এ প্রসঙ্গে কাউন্সিলর আমিনের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান,আমার বিরুদ্ধে যারা না জেনে অভিযোগ করেছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা।কারণ আমি শিক্ষা মন্ত্রানালয় কিংবা অনান্য কোন কর্মকর্তা নয় যে অবৈধভাবে স্কুল তৈরির হুকুম দিবো।আমি স্কুলের তত্তাবধায়ক দফাদার রুবেলকে বলেছি যে,একটি প্রতিষ্ঠান তৈরী করছো ভালো করে করো।সকল নিয়মনীতি মেনে শক্তভাবে করো।আমি তোমাদের পাশে থাকবো কিন্তু অনুমোদন দেওয়ার বিষয়টি তিনি অস্বিকার করেন।

 

এলাকাবাসী জানান, দফাদার রুবেল বিগত কয়েক বছর পূর্বে এশিয়ান ইউনিভার্সিটিতে অনার্সে পড়াশোনাকালীন প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ ঘোষণা করা হলে তার আর অনার্স বিভাগে উত্তীর্ণর সুযোগ না হলেও এইচ,এস,সি পাশের সনদ নিয়েই বেনামী অনুমোদনহীন স্কুল খুলার পাইতারা চালাচ্ছে,অনার্স পাশের বিজ্ঞাপন দিয়ে।তাছাড়া, অভিভাবকগন অভিযোগ করেন,স্থানীয় মুন্ডুমালা প্রাইমারী স্কুলের নামে অপপ্রচার চালিয়ে তার নির্মানাধীন স্কুলে ছাত্র/ছাত্রী ভর্তির জন্য উৎসাহিত করছেন যে কারনে বিভ্রান্তকর অবস্থায় পড়েছেন তারা।

 

এপ্রসঙ্গে অভিযুক্ত মুন্ডুমালা বরেন্দ্র বিদ্যানিকেতন স্কুলের কথিত সার্বিক তত্ত্বাধায়ক দফাদার রুবেলের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান,এরকম কে,জি স্কুল পরিচালনা করতে গেলে সরকারি কোন অনুমোদনের প্রয়োজন নেই তাই আমিও অনুমোদন নেয়নি।তাছাড়া আমি আমার এই স্কুল পরিচালনার জন্য কিন্ডারগার্টেন এসোশিয়ান কতৃপক্ষের নিকট অনুমোদন নিয়েছি।

আগে সরকার শায়িত্ব নাকি বেসরকারী শায়িত্ব এর নিকট অনুমোদন নিতে হয় এমন প্রশ্নে তিনি প্রশ্নের উত্তরের মোড় ঘুরিয়ে এই প্রতিবেদককে চা খাওয়ার দাওয়াত দেন।

অভিযুক্ত রুবেল সত্য ই এশিয়ান ইউনিভার্সিটি থেকে অনার্স বিভাগে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন কি না এমন প্রশ্নে দফাদার রুবেল হকচকিয়ে যান এবং ২০১২ সালে তিনি অনার্স পাশ করেছেন বলে দাবী করেন।

 

এ প্রসঙ্গে তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এই প্রতিবেদককে জানান, অনুমোদন ছাড়া যত্রতত্রে কেউ কোন প্রকার স্কুল তৈরি করতে পারেন না।বিষয়টি আমার নলেজে থাকলো আমি দেখবো। তবে অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে নিয়ম অনুযায়ী যথাযথ ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

আর এ প্রসঙ্গে তানোর উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা সহ : শিক্ষা কর্মকর্তা জোবায়দা বেগম জানান,এমনিতেই তো কোন সরকারী কিংবা অনান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশে স্কুল তৈরির নিয়ম নেই, আর শিক্ষা উপপরিচালক তো অনুমোদন দিবেন ই না।আমরা অভিযোগ পেলে অতি দ্রুত মন্ডুমালা বাজারের কথিত “মন্ডুমালা বরেন্দ্র বিদ্যানিকেতন স্কুলের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যাবস্থা গ্রহণ করবো।

 

এদিকে শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়,

সরকারিভাবে নিবন্ধনের আইন হওয়ার পাঁচ বছর পরও অধিকাংশ কিন্ডারগার্টেন বিদ্যালয়ই অনিবন্ধিত রয়ে গেছে। সারা দেশে এসব স্কুলের সঠিক সংখ্যা নিয়ে যেমন অস্পষ্টতা আছে, তেমনি এর শিক্ষাব্যবস্থারও কোনো তদারকি নেই।

কিন্ডারগার্টেন হলো বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এসব স্কুলে মূলত প্লে গ্রুপ থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ানো হয়। কিছু কিন্ডারগার্টেন অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ায়।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, এ যাবৎ মাত্র ৬১৪টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারি নিবন্ধনের জন্য প্রাথমিক অনুমোদন পেয়েছে। গত বছরগুলোতে অধিদপ্তর দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর যে শুমারি করেছিল, সেটা অনুযায়ী সারা দেশে কিন্ডারগার্টেনের সংখ্যা ১৮ হাজার ৩১৮। অন্যদিকে মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন ঐক্য পরিষদ (বিকপ) বলছে, এমন স্কুল আছে প্রায় ৬৫ হাজার।

১৯৬২ সালের রেজিস্ট্রেশন অব প্রাইভেট স্কুল অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী, ২০১১ সালে বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নিবন্ধন বিধিমালা প্রণীত হয়। পরের বছর সংশোধিত বিধিতে এলাকাভেদে প্রাথমিক অনুমোদন, অস্থায়ী নিবন্ধন ও চূড়ান্ত নিবন্ধনের জন্য ফির পরিমাণ কমিয়ে আনা হয়। এ ছাড়া আরও কিছু নিয়ম শিথিল করা হয়।

বিধিমালা অনুযায়ী নিবন্ধনের তিনটি ধাপ। প্রথম ধাপে প্রাথমিক অনুমতির জন্য স্কুল কর্তৃপক্ষকে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের বিভাগীয় উপপরিচালকের কাছে আবেদন করতে হবে। উপপরিচালক নিজে স্কুলটি ঘুরে দেখে এবং আবেদনের সঙ্গে জমা দেওয়া কাগজপত্র পরীক্ষা করে অধিদপ্তরে তাঁর মতামত পাঠাবেন।

এরপর অধিদপ্তর এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পদস্থ কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত মূল্যায়ন কমিটি সেই আবেদন যাচাই-বাছাই করে প্রাথমিক অনুমোদনের সুপারিশ করবে। প্রাথমিক অনুমোদন পাওয়ার এক বছরের মধ্যে অস্থায়ী নিবন্ধনের জন্য আবেদন করতে হবে। আর অস্থায়ী নিবন্ধন পাওয়ার তিন বছরের মধ্যে চূড়ান্ত পর্বে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করতে হবে। পাঁচ বছর পর নিবন্ধন নবায়ন করতে হবে।

 

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

অপকর্মের কথা আলোচনা করায় স্কুল ছাত্রকে পরিষদে ডেকে মারধর করলেন চেয়ারম্যান টুলু

Development by: bdhostweb.com

চুরি করে নিউজ না করাই ভাল