«» মূলমন্ত্রঃ : সত্যের পথে,জনগনের সেবায়,অপরাধ দমনে,শান্তিময় সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে" আমরা বাঙালি জাতীয় চেতনায় বিকশিত মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার স্বপক্ষে সত্য এবং ধর্মমতে বস্তুনিষ্ঠ, সৎ ও সাহসী সাংবাদিকতায় সর্বদা নিবেদিত। «»

ব্যাংকিং খাতের সম্রাটদের ধরতে হবে

রবিবার, ১৩ অক্টোবর ২০১৯ | ৬:৪৩ পূর্বাহ্ণ | 61 বার

ব্যাংকিং খাতের সম্রাটদের ধরতে হবে

ব্যাংকিং খাতেও ক্যাসিনোর মতো ঋণ নিয়ে খেলা

চলছে। এ খাতে সম্রাটদের ধরতে না পারলে

শৃঙ্খলা ফেরানো যাবে না। তাই প্রধানমন্ত্রীকে

এ খাতেও নজর দিতে হবে।

শনিবার ‘ব্যাংকিং খাত নিয়ে উল্টাপাল্টা পদক্ষেপ বন্ধ ও

সংস্কারে কমিশন গঠন করুন’ শীর্ষক গোলটেবিল

বৈঠকে বক্তারা এ কথা বলেন। সুশাসনের জন্য

নাগরিক-সুজন জাতীয় প্রেস ক্লাবে গোলটেবিল

বৈঠকের আয়োজন করে।

এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চট্টগ্রাম

বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক মইনুল

ইসলাম। প্রবন্ধে তিনি খেলাপি ঋণ নিয়ে তার নিজস্ব

গবেষণা (২০১০ সালে প্রকাশিত জরিপ পারিচালিত

১৯৯৮-৯৯ অর্থবছরের ওপর) তথ্য তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, ‘৭৭ শতাংশ ঋণখেলাপি তিনবার দল বদল

করেছেন। ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক

সম্পর্ক ব্যবহার করেছেন ৭৭ দশমিক ৬ শতাংশ

খেলাপি। এর মধ্যে ৪৬ দশমিক ৪ শতাংশ

প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী বা মন্ত্রী, ৩১

দশমিক ১ শতাংশ সংসদ সদস্য ও ১৩ দশমিক ৪ শতাংশ

ঋণখেলাপি কেন্দ্রীয় নেতাদের ব্যবহার

করছেন।’

প্রবন্ধে বলা হয়, ‘খেলাপি ঋণের সংকট যত গুরুতর

হোক দেশের প্রতিটি প্রাইভেট বাণিজ্যিক ব্যাংক

বছরে বিপুল অংকের মুনাফা করে যাচ্ছে। ব্যাংকের

লাইসেন্স যারা বাগাতে পেরেছেন তারা সহজে

কোটি কোটি টাকার মালিক বনে যাচ্ছেন।’

এতে বলা হয়, ব্যাংক ঋণ নিয়ে একটা ‘পাতানো

খেলা’ চলছে। সমস্যার প্রকৃত রূপটি সরকার, ব্যাংকার

এবং ঋণখেলাপি সবাই জানে। সমস্যার সমাধানের উপায়

সম্পর্কেও এ তিন পক্ষের সবার স্পষ্ট ধারণা

আছে। কিন্তু জেনে-শুনেই সরকার সমাধানের

পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করছে না। ফলে এখনও

রাঘববোয়াল ঋণখেলাপিদের কাছে আটকে থাকা

বিপুল খেলাপি ঋণ।

এ ঋণখেলাপিদের প্রায় সবাই ‘ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি’,

মানে যারা সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন যে তারা

তাদের ঋণ ফেরত দেবেন না। কারণ, রাজনৈতিক

প্রতিপত্তি এবং আর্থিক প্রতাপ দিয়ে তারা শুধু ব্যাংকিং

খাত নয়, সংসদকেও দখল করে ফেলেছেন।’

মূল প্রবন্ধের সুপারিশে ব্যাংকিং খাতের সমস্যা

সমাধানে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যাংকিং সংস্কার

কমিশন গঠন, তিন বছরের জন্য খেলাপি ঋণ

ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠা করে প্রত্যেক ব্যাংকের

শীর্ষ দশ খেলাপিকে বিচারের আওতায় আনা,

পৃথক ন্যায়পাল নিয়োগ, মন্দ ঋণ আদায়ে ডেট

রিকভারি এজেন্সি গঠন, অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ বাতিল এবং ব্যাংক মালিক ও

পরিচালকদের লোন সোআপ ও ইনস্যাইডার

লোনিং বন্ধ করার কথা বলা হয়েছে।

আলোচনায় অংশ নিয়ে সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী

আবু সাইয়িদ বলেন, ‘দেশে দুর্নীতি প্রকট আকার

ধারণ করেছে। ব্যাংকিং খাতসহ সর্বক্ষেত্রে

দুর্নীতি চলছে।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ও অর্থনীতিবিদ

খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেন, ‘রাজনৈতিক

দলগুলোর মধ্যে কোনো কিছুতে মিল নেই।

কিন্তু একটি বিষয়ে মিল আছে। সেটি হল খেলাপি

ঋণ সব রাজনৈতিক দলই সৃষ্টি করেছে।

প্রধানমন্ত্রী যদি মনে করেন ব্যাংকিং খাতেও

ক্যাসিনো চলছে, এটি ঠিক করতে হবে। তাহলে

এ খাতের খেলাপি ঋণ কমানোসহ আর্থিক পরিস্থিতি

ঠিক করা যাবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ব্যাংকিং খাতেও ক্যাসিনোর

মতো সম্রাট আছে। এই সম্রাটদের গ্রেফতার

করতে হবে। তবে রাজস্ব শক্তি এখন

প্রভাবশালীদের হাতে নিয়ন্ত্রিত। যে কারণে যারা

খেলাপি ঋণ কমানোর কৌশল জানেন তারা কিছু

করতে পারছে না।’

সুজনের নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ আবুল মকসুদ

বলেন, ‘রাজনৈতিক অঙ্গনে, জাতীয় নির্বাচনে,

গণতন্ত্রে ও সমাজে সর্বত্র উল্টাপাল্টা হচ্ছে।

যে কারণে ব্যাংকিং খাতেও হচ্ছে। এর থেকে

পরিত্রাণ পেতে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ঠিক করতে

হবে। পাশাপাশি ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা

করতে হবে।’

অগ্রণী ব্যাংকের সাবেক এমডি আবু নাসের

বখতিয়ার বলেন, ‘রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর পরিচালনা

পর্ষদে রাজনৈতিক বিবেচনায় সদস্য নির্বাচনের

কারণে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বাড়ছে। শ্রেণিকৃত

ঋণের মূল কারণ এটিই।’

ড. রাসেল খান তিতুমির বলেন, ‘২০১৭-১৮

অর্থবছরের হিসাবে কাস্টমস বলছে, রফতানি

হয়েছে ৩ হাজার ৬০০ কোটি মার্কিন ডলারের

পণ্য। অপরদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক দেখাচ্ছে ৩ হাজার

২০০ কোটি টাকার পণ্য রফতানি হয়েছে। বাকি ৪

হাজার কোটি টাকা গেল কোথায়? এভাবে বিগত ৫

বছরে হিসাবের গড়মিল ২ হাজার কোটি টাকা। এই

গরমিলের হিসাব ধরলে টাকা পাচারের পরিসংখ্যান পাওয়া

যাবে।’

ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আস্থা ও বিশ্বাস নষ্ট

হলে ব্যাংক দেউলিয়া হবে। আর্থিক খাতে

অপরাধের দায়ে কোনো শাস্তি হচ্ছে না।

বেসিক ব্যাংকের বাচ্চুকে আজ পর্যন্ত শাস্তির

আওতায় আনা হয়নি। রাজনৈতিক বিবেচনায় এখন ব্যাংক

দেয়া হয়েছে পুঁজিবাজার পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করা

হয়েছে।’

গোলটেবিল বৈঠকে আরও বক্তব্য দেন সুজন

সভাপতি এম হাফিজ উদ্দিন খান, ব্যাংকার রাব্বী রতন

প্রমুখ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সুজনের সাধারণ

সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার।

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

কবিতা- “স্কাউট আত্মকথা”

Development by: bdhostweb.com

চুরি করে নিউজ না করাই ভাল