«» মূলমন্ত্রঃ : সত্যের পথে,জনগনের সেবায়,অপরাধ দমনে,শান্তিময় সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে" আমরা বাঙালি জাতীয় চেতনায় বিকশিত মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার স্বপক্ষে সত্য এবং ধর্মমতে বস্তুনিষ্ঠ, সৎ ও সাহসী সাংবাদিকতায় সর্বদা নিবেদিত। «»

আবরারের খুনিদের বিচার চেয়ে পলাশীতে সড়ক অবরোধ শিক্ষার্থীদের

বুধবার, ০৯ অক্টোবর ২০১৯ | ৩:১৮ অপরাহ্ণ | 43 বার

আবরারের খুনিদের বিচার চেয়ে পলাশীতে সড়ক অবরোধ শিক্ষার্থীদের
পলাশীর মোড আটকিয়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ প্রকেৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র

আবরার ফাহাদকে ছাত্রলীগের পিটিয়ে হত্যার বিচার

চেয়ে পলাশীর মোড় সড়কে অবরোধ করে

বিক্ষোভ করছেন শিক্ষার্থীরা। আবরার হত্যার

বিচারসহ ১০ দফা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন

চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

বুধবার দুপুর ১২টার দিকে বকশিবাজার থেকে

পলাশী মোড় পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে

বেরিকেড দিয়ে সড়ক অবরোধ করেন

বুয়েটের শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীরা জানান, বুয়েটের ভিসি অধ্যাপক ড.

সাইফুল ইসলামকে দুপুর ২টার মধ্যে ক্যাম্পাসে হাজির

হয়ে আবরার হত্যায় প্রশাসনিক ব্যর্থতার জবাব দিতে

হবে। তিনি কেন আবরারের জানাজায় উপস্থিত

ছিলেন না সেটিও জানাতে হবে। পাশাপাশি ১০ দফা দাবি

পূরণ করতে হবে। তা না-হলে আন্দোলন চালিয়ে

যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

এ সময় ভিসি বিরোধী ও আবরার হত্যাকাণ্ডে

জড়িতদের ফাঁসির দাবিতে স্লোগান দিচ্ছেন

শিক্ষার্থীরা।

এর আগে সকালে থেকে বুয়েটের

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে এসে অবস্থান

নেন শিক্ষার্থীরা। সেখানে এক সংবাদ সম্মেলন

থেকে তুলে ধরা হয়েছে নতুন ১০ দফা দাবি।

১১ অক্টোবরের মধ্যে শেরে বাংলা হলের

প্রভোস্টকে প্রত্যাহার, আবরারের পরিবারকে

ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি, জড়িতদের বুয়েট

থেকে আজীবন বহিষ্কারের পুরনো দাবির

সঙ্গে অবিলম্বে আবরার হত্যা মামলার চার্জশিট

প্রকাশ এবং ১৫ অক্টোবরের মধ্যে বুয়েটে

ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করার দাবি জানান তারা।

সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষে তিন জন এসব দাবি

সাংবাদিকদের সামনে পড়ে শোনান। তাদের একজন

প্রতিনিধি বলেন, বেঁধে দেয়া সময়ে দাবি পূরণ না

করা হলে ১৪ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় বুয়েটের

ভর্তি পরীক্ষাসহ সব অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম স্থগিত

রাখতে হবে।

দাবিগুলো হলো-

১. খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে:

সিসিটিভি ফুটেজ ও জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যানুসারে

শনাক্তকারী খুনিদের প্রত্যেকের সর্বোচ্চ

শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

২. বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে সিসিটিভি ফুটেজ

থেকে শনাক্ত করা সবাইকে ১১ অক্টোবর ২০১৯

বিকাল ৫টার মধ্যে আজীবন বহিষ্কার নিশ্চিত করতে

হবে।

৩. মামলা চলাকালে সব খরচ এবং আবরারের

পরিবারের সব ক্ষতিপূরণ বুয়েট প্রশাসনকে বহন

করতে হবে। এ মর্মে অফিশিয়াল নোটিশ ১১ তারিখ

৫টার মধ্যে প্রদান করতে হবে।

৪. আবরার হত্যায় দায়ের করা মামলা দ্রুত বিচার

ট্রাইব্যুনালের অধীনে স্বল্পতম সময়ে নিষ্পত্তি

করতে বুয়েট প্রশাসনকে যথাযথ পদক্ষেপ

নিতে হবে। বুয়েট প্রশাসনকে সক্রিয় থেকে

সব প্রক্রিয়া নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে এবং

নিয়মিত ছাত্রদের আপডেট করতে হবে।

৫. অবিলম্বে চার্জশিটের কপিসহ অফিশিয়াল নোটিশ

দিতে হবে।

৬. বুয়েটে সাংগঠনিক ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করতে

হবে। রাজনৈতিক সংগঠনের ব্যানারে দীর্ঘদিন

ধরে বুয়েট হলে হলে ত্রাসের রাজনীতি

কায়েম করে রাখা হয়েছে। জুনিয়র মোস্ট

ব্যাচকে সবসময় ভয়ভীতি প্রদর্শনপূর্বক জোর

করে রাজনৈতিক মিটিং–মিছিলে যুক্ত করা হয়েছে।

রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে যেকোনো

সময় যেকোনো হল থেকে সাধারণ ছাত্রদের

জোর প্রদর্শনপূর্বক হল থেকে বিতাড়িত করা

হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ক্ষমতার

অপব্যবহার করে হলে হলে মানসিক ও শারীরিক

নির্যাতন করা হয়েছে। রাজনৈতিক সংগঠনের এমন

কর্মকাণ্ডে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ। তাই

আগামী সাত দিনের মধ্যে (১৫ অক্টোবর)

বুয়েটে সব রাজনৈতিক সংগঠন এবং এর কার্যক্রম

স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করতে হবে।

৭. বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম

কেন ৩০ ঘণ্টা অতিবাহিত হওয়ার পরও ঘটনাস্থলে

উপস্থিত হননি এবং ৩৮ ঘণ্টা পর উপস্থিত হয়ে

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিরূপ আচরণ করেন এবং

কোনো প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে স্থান ত্যাগ

করেন। তাকে সশরীরে ক্যাম্পাসে এসে আজ

বেলা ২টার মধ্যে জবাবদিহি করতে হবে।

৮. আবাসিক হলগুলোতে র্যা গের নামে ও

ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর সব ধরনের শারীরিক

এবং মানসিক নির্যাতন বন্ধ করতে হবে। এবং এ

ধরনের সন্ত্রাসে জড়িত সবার ছাত্রত্ব প্রশাসনকে

বাতিল করতে হবে। একই সঙ্গে আহসানউল্লা হল

এবং সোহরাওয়ার্দী হলের পূর্বের

ঘটনাগুলোতে জড়িত সবার ছাত্রত্ব বাতিল ১১

অক্টোবর, ২০১৯ তারিখ বিকাল ৫টার মধ্যে নিশ্চিত

করতে হবে।

৯. পূর্বের এ ধরনের ঘটনা প্রকাশ এবং পরবর্তী

সময়ে ঘটা যেকোনো ঘটনা প্রকাশের জন্য

একটা কমন প্ল্যাটফরম, কোনো সাইট বা ফরম

থাকতে হবে এবং নিয়মিত প্রকাশিত ঘটনা রিভিউ করে

দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিচারের ব্যবস্থা নিতে

হবে। এই প্ল্যাটফরম হিসেবে বুয়েটের

বিআইআইএস অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতে হবে এবং

১১ অক্টোবর, ২০১৯ তারিখ বিকাল ৫টার মধ্যে

দৃশ্যমান অগ্রগতি প্রদর্শন করতে হবে।

পরবর্তী ১ তারিখের মধ্যে কার্যক্রম পূর্ণরূপে

শুরু করতে হবে। নিরাপত্তার স্বার্থে সব হলের

প্রত্যেক ফ্লোরে উইংয়ের দুপাশে সিসিটিভি

ক্যামেরার ব্যবস্থা করতে হবে।

১০. রাজনৈতিক ক্ষমতা ব্যবহার করে আবাসিক হল

থেকে ছাত্র উৎখাতের ব্যাপারে অজ্ঞ থাকা এবং

ছাত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ

হওয়ায় শেরেবাংলা হলের প্রভোস্টকে ১১

অক্টোবর ২০১৯ তারিখ বিকাল ৫টার মধ্যে প্রত্যাহার

করতে হবে।

প্রসঙ্গত ভারতের সঙ্গে চুক্তির বিরোধিতা করে

শনিবার বিকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম

ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন ফাহাদ। এর জের

ধরে রোববার রাতে শেরেবাংলা হলের নিজের

১০১১ নম্বর কক্ষ থেকে তাকে ডেকে নিয়ে

২০১১ নম্বর কক্ষে বেধড়ক পেটানো হয়।

এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পিটুনির সময় নিহত

আবরারকে ‘শিবিরকর্মী’ হিসেবে চিহ্নিত করার

চেষ্টা চালায় খুনিরা।

তবে আবরার কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে

সম্পৃক্ত ছিলেন না বলে নিশ্চিত করেছেন তার

পরিবারের সদস্যসহ সংশ্লিষ্টরা।

হত্যাকাণ্ডের প্রমাণ না রাখতে সিসিটিভি ফুটেজ

মুছে (ডিলেট) দেয় খুনিরা। তবে পুলিশের আইসিটি

বিশেষজ্ঞরা তা উদ্ধারে সক্ষম হন। পুলিশ ও

চিকিৎসকরা আবরারকে পিটিয়ে হত্যার প্রমাণ

পেয়েছেন।

এ ঘটনায় বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি

মুহতাসিম ফুয়াদ ও সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান

রাসেলসহ ১০ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

তবে এ ঘটনায় ১৪ জন জড়িত বলে জানিয়েছেন

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ) কৃষ্ণপদ রায়।

এ ঘটনায় ১৯ জনকে আসামি করে তার বাবা চকবাজার

থানায় সোমবার রাতে একটি হত্যা মামলা করেন।

বুয়েট কর্তৃপক্ষ একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি)

করেছে। পাশাপাশি গঠন করেছে একটি তদন্ত

কমিটিও।

এদিকে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ মেলায়

বুয়েট শাখার সহসভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ১১

জনকে ছাত্রলীগ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার

করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ১০

জনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

বাগেরহাট  মোরেলগঞ্জ প্রেস ক্লাবের নির্বাচন সস্পন্ন  লিপন সভাপতি, মাসুম সম্পাদক

Development by: bdhostweb.com

চুরি করে নিউজ না করাই ভাল