«» মূলমন্ত্রঃ : সত্যের পথে,জনগনের সেবায়,অপরাধ দমনে,শান্তিময় সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে" আমরা বাঙালি জাতীয় চেতনায় বিকশিত মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার স্বপক্ষে সত্য এবং ধর্মমতে বস্তুনিষ্ঠ, সৎ ও সাহসী সাংবাদিকতায় সর্বদা নিবেদিত। «»

বাংলাদেশে ভারতীয় উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

শুক্রবার, ০৪ অক্টোবর ২০১৯ | ৫:২০ অপরাহ্ণ | 48 বার

বাংলাদেশে ভারতীয় উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
ছবি-সংগৃহীত

বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে ভারতের

উদ্যোক্তাদের আহ্বান জানিয়েছেন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘আজ দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশে

সবচেয়ে বেশি স্বাধীন ও উদার বিনিয়োগের

পরিবেশ বিরাজ করছে।

বক্তব্যের প্রমাণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন,

‘বিনিয়োগবান্ধব বাংলাদেশে বৈদেশিক

বিনিয়োগকারীরদের জন্য আইনি সুরক্ষা, উদার

রাজস্বব্যবস্থা, মেশিনপত্র আমদানির ক্ষেত্রে

বিশেষ ছাড়, আনরেস্ট্রিকটেড এক্সিট পলিসি,

সম্পূর্ণ বিনিয়োগ ও পুঁজি নিয়ে চলে যাওয়ার

সুবিধাসহ নানাবিধ সুবিধা রয়েছে।’

নয়াদিল্লির হোটেল তাজ প্যালেসে ওয়ার্ল্ড

ইকোনমিক ফোরামের ইন্ডিয়া ইকোনমিক সামিটে

বাংলাদেশের ওপর কৌশলগত আলোচনাকালে তিনি এ

আহ্বান জানান।

বাংলাদেশই বর্তমানে বিনিয়োগের উত্তম স্থান

জানিয়ে এর ব্যাখ্যায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে

নিরবচ্ছিন্ন সুবিধা ও সেবা নিশ্চিত করে ১০০টি বিশেষ

অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন করেছি। এদের মধ্যে

১২টি অঞ্চল ইতোমধ্য কাজ শুরু করে দিয়েছে।

দুটি অঞ্চলকে ভারতের বিনিয়োগকারীদের

জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী

প্রতিষ্ঠানের জন্য বেশ কয়েকটি হাইটেক পার্ক

প্রস্তুত করা হয়েছে।’

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিনিয়োগকারী বিশেষ

করে ভারতীয় বিনিয়োগকারীদের জন্য

বাংলাদেশের শিক্ষা, হালকা প্রকৌশল শিল্প,

ইলেকট্রনিকস শিল্প, অটোমোটিভ শিল্প, কৃত্তিম

বৃদ্ধিমত্তা শিল্পের মতো ক্ষেত্রগুলোতে

বিনিয়োগ করার সময় এখনই বলে জানান

প্রধানমন্ত্রী।

তিনি যোগ করেন, ‘অনেকেই বাংলাদেশকে তিন

কোটি মধ্য ও উচ্চবিত্ত মানুষের একটি বাজার’ ও

‘অলৌকিক উন্নয়ন’ হিসেবে দেখে থাকেন।’

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নের কথা

উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এ বছরে আমাদের

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সর্বোচ্চ ৮ দশমিক ১ শতাংশের

রেকর্ড করেছে। আমরা দুই ডিজিট প্রবৃদ্ধি

অজর্নের কাছাকাছি পৌঁছে গেছি। বাংলাদেশের

অর্থনীতি ২০০৯ সালের পর থেকে ১৮৮ শতাংশ

বেড়েছে। আমাদের মাথাপিছু আয় হয়েছে প্রায়

২০০০ মার্কিন ডলার।’

বাংলাদেশকে একটি দ্রুতবর্ধনশীল উচ্চমূল্য,

জ্ঞানভিত্তিক সমাজ, তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক

দেশ হিসেবে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা

বলেন, আমরা গত বছরে কোরিয়ায় ১২টি শিল্প

রোবট রফতানি করেছি। বাংলাদেশে তৈরি চারটি জাহাজ

ভারতে আসছে।

২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বে ২৬তম

সর্ববৃহৎ অর্থনীতির দেশ হবে বলে আশাবাদ

ব্যক্ত করেন তিনি।

এ সময় বাংলাদেশে বাণিজ্যিক সম্পর্ক প্রসারের

ক্ষেত্রে ভারতীয় বিনিয়োগকারীদের কথা

উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশ বৈশ্বিক এবং ভারতীয়

ব্যবসার একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক স্থান হিসেবে

নজরকাড়ার মতো যোগ্যতা অর্জন করেছে।

আমরা এ উপ-অঞ্চলের জন্য একটি অর্থনৈতিক

কেন্দ্র হতে পারি। আমাদের নিজস্ব ১৬২ মিলিয়ন

জনসংখ্যার বাইরেও বাংলাদেশ প্রায় তিন বিলিয়ন

মানুষের একটি ভূখণ্ডের সম্মিলিত বাজারের সঙ্গে

সংযুক্ত হতে পারে।’

উদাহরণস্বরুপ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ভারতের

রিলায়েন্স কোম্পানি সম্প্রতি বাংলাদেশে তৈরি

বিপুলসংখ্যক রেফ্রিজারেটর আমদানি করেছে।

বাংলাদেশে ছয় লাখ আইটি ফ্রিল্যান্সার রয়েছে।

সর্বাধিকসংখ্যক লোক ফ্রিল্যান্সিং করছে।’

অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশ কেন

বিনিয়োগের সর্বোত্তম স্থান সেই ব্যাখ্যাও

দেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘ব্যবসার জন্য বাংলাদেশে খুবই

উপযোগী পরিবেশ রয়েছে। এর পেছনে

যেসব কারণ রয়েছে, সেগুলো হলো

বাংলাদেশের উন্মুক্ত সমাজ, ধর্মীয় সম্প্রীতি,

উদার মূল্যবোধ, ধর্মনিরপেক্ষ সংস্কৃতি।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমাদের মোট

জনগোষ্ঠীর দুই-তৃতীয়াংশ তরুণ। এদের

বেশিরভাগের বয়স ২৫ বছরের নিচে। তারা দক্ষতা

অর্জন করছে, তারা প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন, তারা

প্রতিযোগিতামূলক কাজে যুক্ত হতে প্রস্তুত।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ

মুজিবুর রহমান একটি ক্ষুধা-দারিদ্র্য ও দুর্নীতিমুক্ত

সোনার বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন,

বাংলাদেশ এখন জাতির পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে

বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধন

করেছে।’

বঙ্গবন্ধুর অনুপ্রেরণা বাংলাদেশকে ২০২১ সালের

মধ্যে একটি উন্নয়নশীল দেশ এবং ২০৪১ সালের

মধ্যে একটি উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তুলবে

বলে দৃঢ়প্রত্যয় ব্যক্ত করেন শেখ হাসিনা।

২০২৫ সালের মধ্যে মোবাইল ইন্টারনেট সুবিধা

বাংলাদেশের ৪০ শতাংশ মানুষের কাছে পৌঁছে

যাবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ২০০৯

সালের পর দেশকে ডিজিটাল বাংলাদেশে রূপান্তর

করেছি। তৃণমূল পযার্য়ে শতভাগ লোক আইসিটি

সুবিধা পাচ্ছেন। বাংলাদেশ এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয়

অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে পঞ্চম সর্ববৃহৎ

ইন্টারনেট ব্যবহারকারী দেশ।’

ডব্লিউইএফের প্রেসিডেন্ট বোর্জ ব্রান্ডসহ

সংস্থার নেতৃবৃন্দ বাংলাদেশের অর্থনীতির

উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী

শেখ হাসিনার উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন। তারা

দেশের অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জনে নেতৃত্বের

রোল মডেল হিসেবে বর্ণনা করেন।

৪০ দেশের ৮০০ প্রতিনিধি দুদিনের এই

সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন। শুক্রবার সম্মেলনটি

শেষ হবে। সমাপনী অধিবেশনে বাংলাদেশের

প্রধানমন্ত্রী বক্তৃতা দেবেন।

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

বাগেরহাট  মোরেলগঞ্জ প্রেস ক্লাবের নির্বাচন সস্পন্ন  লিপন সভাপতি, মাসুম সম্পাদক

Development by: bdhostweb.com

চুরি করে নিউজ না করাই ভাল