«» মূলমন্ত্রঃ : সত্যের পথে,জনগনের সেবায়,অপরাধ দমনে,শান্তিময় সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে" আমরা বাঙালি জাতীয় চেতনায় বিকশিত মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার স্বপক্ষে সত্য এবং ধর্মমতে বস্তুনিষ্ঠ, সৎ ও সাহসী সাংবাদিকতায় সর্বদা নিবেদিত। «»

গোদাগাড়ীর সৈয়দপুর স্কুলের শিক্ষিকা মোবাসসারার বিরুদ্ধে জাল সনদে চাকুরীর অভিযোগ

শুক্রবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৪:৩৭ পূর্বাহ্ণ | 206 বার

গোদাগাড়ীর সৈয়দপুর স্কুলের শিক্ষিকা মোবাসসারার বিরুদ্ধে জাল সনদে চাকুরীর অভিযোগ

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার সৈয়দপুর শহিদ মঞ্জু উচ্চ বিদ্যালয়ের এক স্কুল শিক্ষিকার বিরুদ্ধে শিক্ষক নিবন্ধনের সনদ জাল করে চাকুরী করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত ওই শিক্ষিকার নাম মোবাসসারা,তার স্বামীর বাড়ি গোদাগাড়ী বলে জানা গিয়েছে।

 

সুত্রে জানা গিয়েছে,গোদাগাড়ী উপজেলার সৈয়দপুর শহিদ মঞ্জু উচ্চ বিদ্যালয়ে সমাজ বিজ্ঞানের শিক্ষকের পদ শুন্য হলে ওই স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সমাজ বিজ্ঞান শিক্ষক নিয়োগের জন্য সরকারি বিধি মোতাবেক বিজ্ঞপ্তি প্রদান করেন । নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির আলোকে অভিযুক্ত শিক্ষিকা মোবাসসারা “সমাজ বিজ্ঞান শিক্ষক” পদে আাবেদন করেন ।

সেখানে তার কাগজ পত্রের সাথে ২০০৬ সালের বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধনে পাস করা সাটিফিকেট দাখিল করেছেন।যাহার রোল নং-২১১৬০৭৭৯,এবং নিবন্ধন নং-৬১০৮৫২৮/২০০৬ পিতার নাম মো: আফসার আলী উল্লেখ আছেন।এবং সেই শিক্ষক নিবন্ধনের সনদে ততকালীন প্রধান শিক্ষক খোশ মোহাম্মদ নিজেই সত্যায়িত করেছে যাহা স্পস্ট দেখা যায়।

 

আস্তে আস্তে অভিযুক্ত শিক্ষিকা মোবাসসারার থলের বিড়াল বেরিয়ে আসতে শুরু করলে স্কুল পাড়ার সমস্ত গ্রাম,ওই স্কুলের শিক্ষক,শিক্ষিকা,ছাত্র/ছাত্রী,অভিভাবক সহ সচেতন মহলের মাঝে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে সবারই অভিযোগ অভিযুক্ত শিক্ষিকা মোবাসসারার বিরুদ্ধে যে, জাল সনদে এতগুলো বছর তিনি কিভাবে চাকুরীতে বহাল আছেন?

 

এমন অবস্থায় বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যম সহ অনান্য মাধ্যমে অভিযুক্ত শিক্ষিকা মোবাসসারার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশিত হলে স্কুল পাড়া সহ আশেপাশে তুমুল গুঞ্জন শুরু হয় ওই ম্যাডামকে নিয়ে।

 

তারই প্রেরিপেক্ষিতে বিভিন্ন মাধ্যমে অভিযুক্ত শিক্ষিকা মোবাসসারার শিক্ষক নিবন্ধনের সনদটি সঠিক কিনা পরীক্ষা করা হলে দেখা যায় তিনি অন্য একজনের সনদ জাল করে সার্টিফিকেট বানিয়ে চাকুরী করছেন।

উপরিক্ত রোল নম্বারের প্রকৃত সনদের অধিকারীনি রোজী খাতুন এবং তার পিতার নাম মো: আব্দুর রহিম।

 

এমন অবস্থায় স্কুল পাড়া সহ এলাকায় গুঞ্জন উঠেছে যে,ততকালীন প্রধান শিক্ষক খোশ মোহাম্মদ অভিযুক্ত শিক্ষিকা মোবাসসারার শিক্ষক নিবন্ধনের সনদ যাচাই বাছাই না করে কিভাবে সত্যায়িত করে চাকুরী নিশ্চিত করলেন।

 

এ বিষয়ে ততকালীন প্রধান শিক্ষক খোশ মোহাম্মদের সাথে সাক্ষাত করা হলে তিনি জানান,অভিযুক্ত শিক্ষিকা মোবাসসারার জাল সনদে আমিই সত্যায়িত করেছি।তবে নিয়োগ দিয়েছে হায়ার ম্যানেজমেন্ট বোর্ড।মোবাসসারা শিক্ষক নিবন্ধনের সনদটিযে জাল এটি আমিও শুনেছি। ইতিপূর্বে শিক্ষা অফিস থেকে বিষয়টি দেখার জন্য অনেকে এসেছিলো তবে রহস্যজনক কারনে বিষয়টি আর এগুইনি।

 

এ প্রসংগে অভিযুক্ত শিক্ষিকা মোবাসসারার সাথে সাক্ষাত হলে তিনি জানান,ভাই আমার শিক্ষক নিবন্ধনের সনদটি ঠিক ই আছে আপনারা খামাখা এসেছেন স্কুলে আমার কিছু করতে পারবেন না।আমি আপনাদের উপর মামলা করবো।যান স্কুল থেকে বেরিয়ে যান বলে অকথ্য ভাষায় সাংবাদিকদের গালি দিতে থাকে।একপর্যায়ে এই প্রতিবেদক ক্যামেরা বের করলে অভিযুক্ত ম্যাডাম মোবাসসারা দৌড়ে স্কুল রুমে ঢুকে যায়।

 

অত্র স্কুলের প্রধান শিক্ষক তরিকুল ইসলামের সাথে উক্ত প্রসংগে সাক্ষাত হলে তিনি ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি।অবশেষে স্কুলের বাইরে গিয়ে তিনি জানান,মোবাসসারার নিয়োগের সময় আমি এই স্কুলে দায়িত্বরত ছিলাম না।সত্যি যদি জাল সনদে চাকুরীতে বহাল থাকে তাহলে শিক্ষা অফিসাররা বিষয়টি দেখবে।তবে সংবাদে প্রধান শিক্ষক তরিকুল ইসলাম তার নাম না দেওয়ার অনুরোধ জানান।

 

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্কুল পাড়ার কিছু অভিভাবক এই প্রতিবেদককে জানান,অভিযুক্ত মোবাসসারাকে সবরকম সহযোগিতা করেন ওই স্কুলের ই প্রধান শিক্ষক তরিকুল ইসলাম।বিষয়টি সরাসরি দেখার জন্য এই প্রতিবেদক কৌশলে ৫/৯/২০১৯ বৃহস্পতিবার উক্ত প্রধান শিক্ষক তরিকুল ইসলামকে অনুসরন করতে থাকলে দেখা যায়,বৃহস্পতিবার সকালে প্রধান শিক্ষক তরিকুল ইসলাম স্কুলে ঢুকেন খালি হাতে,কিন্তু বের হওয়ার সময় একটি কালো রংয়ের ব্যাগ নিয়ে দ্রুত স্কুল থেকে বেরিয়ে মোটরসাইকেল যোগে রওয়ানা হলে এই প্রতিবেদকগনও পিছু নেন।পরে বিষয়টি প্রধান শিক্ষক তরিকুল ইসলাম টের পেয়ে কেটে পড়েন।পরে গোদাগাড়ী উপজেলা গিয়ে প্রধান শিক্ষক এবং অভিযুক্ত শিক্ষিকা মোবাসসারাকে ঘুরাঘুরি করতে দেখা যায় এবং অনান্য সাংবাদিকদের সাথে আলাপ করতে দেখা যায়।

 

এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সাথে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ফোন রিসিভ না করার কারনে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

 

আর ওই স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির ততকালীন সভাপতি সফিকুল ইসলাম সরকারের সাথে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান,অভিযুক্ত মোবাসসারার নিয়োগের সময় শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদের সত্যতা যাচাইবাছাইয়ের তেমন সুব্যাবস্থা ছিলোনা।আমরা সার্টিফিকেট শুধু দেখেছি আর কিছু জানিনা।মোবাসসারার নিয়োগের বিষয়টি চূড়ান্ত হয়েছিলো শিক্ষা কর্মকর্তাকে নিয়ে গঠিত বোর্ডের মাধ্যমে। যাহাতে আমাদের কোন সম্পর্ক ছিলোনা বলে জানান অত্র স্কুলের সাবেক এই সভাপতি।

 

সূত্র: ভোরের বার্তা

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

সমুদ্র-দর্শন অথবা প্রেম- আমিনুল ইসলাম

Development by: bdhostweb.com

চুরি করে নিউজ না করাই ভাল