«» মূলমন্ত্রঃ : সত্যের পথে,জনগনের সেবায়,অপরাধ দমনে,শান্তিময় সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে" আমরা বাঙালি জাতীয় চেতনায় বিকশিত মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার স্বপক্ষে সত্য এবং ধর্মমতে বস্তুনিষ্ঠ, সৎ ও সাহসী সাংবাদিকতায় সর্বদা নিবেদিত। «»

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়: শিক্ষক নিয়োগ-পদোন্নতির নীতিমালা ঝুলছে ৪ বছর

মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট ২০১৯ | ৭:১৩ পূর্বাহ্ণ | 44 বার

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়: শিক্ষক নিয়োগ-পদোন্নতির নীতিমালা ঝুলছে ৪ বছর
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। ফাইল ছবি প্রায় ৪ বছরেও তৈরি হ

প্রায় ৪ বছরেও তৈরি হয়নি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের নিয়োগ ও পদোন্নতির নীতিমালা। ২০১৫ সালে জাতীয় পে-স্কেল ঘোষণার পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এ নীতিমালা তৈরির সিদ্ধান্ত হয়।

নীতিমালার পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপকদের বেতন-ভাতা বৈষম্যসহ গ্রেড-১ মর্যাদা প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত হবে। পাশাপাশি শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতি নিয়ে উত্থাপিত অভিযোগেরও নিষ্পত্তি হবে। কিন্তু প্রস্তাবিত খসড়াটি আজও চূড়ান্ত হয়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালে জাতীয় পে-স্কেল ঘোষণার পর বিভিন্ন ইস্যুতে ২৭ ক্যাডার এবং প্রকৃচির মতো বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকরাও আন্দোলনে নামেন।

তখন অর্থমন্ত্রীকে প্রধান করে বেতন-ভাতা বৈষম্য দূরকরণ সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করেছিল সরকার। ওই কমিটির সঙ্গে আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে নীতিমালাটি তৈরির সিদ্ধান্ত হয়েছিল। সুপারিশ অনুযায়ীই বৈষম্য নিরসনের কথা সরকারের।

এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহ সোমবার যুগান্তরকে বলেন, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে বেশকিছু দিন আগে একটি ‘অভিন্ন নীতিমালা’ তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল।

নীতিমালাটি প্রণয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মশালা, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে শিক্ষক সমিতির মতামত সংগ্রহসহ আনুষঙ্গিক কাজ হয়েছে। এ কারণে বিলম্ব হয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের প্রতিনিধির অংশগ্রহণে তৈরি নীতিমালার খসড়া চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে।

শিক্ষামন্ত্রীর উপস্থিতিতে পরবর্তী সভায় এটি চূড়ান্ত হতে পারে। জানা গেছে, গণমাধ্যমে ইতিমধ্যে খসড়া নীতিমালার কিছু অংশ প্রকাশিত হয়েছে। এরপরই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে একশ্রেণির শিক্ষকের মধ্যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

বিশেষ করে পদোন্নতির ক্ষেত্রে গবেষণা এবং প্রকাশনার সংখ্যা ও উচ্চতর ডিগ্রির বাধ্যবাধকতার ব্যাপারে বেশি প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এ ক্ষেত্রে শর্ত শিথিলের পক্ষে তারা।

তবে ইউজিসির এক শীর্ষ নীতিনির্ধারক জানান, নিয়োগ ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে গবেষণা, প্রকাশনা ও একাডেমিক রেজাল্টের ওপর জোর দেয়া হয়েছে। উচ্চতর শিক্ষা (এমফিল-পিএইচডি) ও গবেষণার ক্ষেত্রে ইউজিসি কোনো ছাড়া দেবে না।

উচ্চশিক্ষার মান উন্নয়নে শিক্ষকের মান বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই। ওই নীতিনির্ধারক কিছুটা হতাশার সুরে বলেন, যারাই ইতিপূর্বে নীতিমালার এ খসড়া তৈরি করেছেন, এখন তারাই এটি সংশোধনের কথা বলছেন। যা বেদনাদায়ক বলে মন্তব্য করেন তিনি।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান বলেন, অভিন্ন নিয়োগ ও পদোন্নতি নীতিমালা সময়ের দাবি। কেননা, সব বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক একটি অভিন্ন পে স্কেলে বেতন-ভাতা পান। কিন্তু নিয়োগ ও পদোন্নতি নীতিতে বিশ্ববিদ্যালয় ভেদে ভিন্নতা আছে।

প্রস্তাবিত নীতিমালা সেই ভিন্নতা দূর করবে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নীতিমালায় দুটি অংশ আছে। একটি হচ্ছে নিয়োগ, অপরটি পদোন্নতি। প্রভাষক পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে যোগ্যতা হিসেবে সিজিপিএ-৩.৫ রাখার পক্ষপাতী ইউজিসি।

এছাড়া প্রার্থীদের লিখিত পরীক্ষা এবং প্রদর্শনী ক্লাস (যে ক্লাসে শিক্ষার্থীদের সামনে প্রার্থী লেকচার দেবেন) নিতে হবে। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বেশির ভাগ বিশ্ববিদ্যালয় শুধু ভাইভা পরীক্ষা নেয়া হয় নিয়োগের ক্ষেত্রে। দু-চারটিতে লিখিত পরীক্ষা ও প্রদর্শনী ক্লাস নেয়ার ব্যবস্থা আছে।

এ প্রসঙ্গে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে যোগ্যতায় কোনো ছাড় দেয়া উচিত নয়। খসড়া নীতিমালায় যে প্রস্তাব আছে তারচেয়ে কঠিন শর্ত বর্তমানে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়েই আছে।

যেমন খসড়ায় প্রার্থীর এসএসসি ও এইচএসসি মিলে জিপিএ ৮ এবং অনার্স-মাস্টার্সে সিজিপিএ ৩.৫ করে প্রস্তাব করা হয়েছে। কিন্তু জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে এসএসসি ও এইচএসসি মিলে জিপিএ ৯ আর অনার্স-মাস্টার্সে বিজনেস স্টাডিজ ও বিজ্ঞানে সিজিপিএ ৩.৮৫ এবং কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে যথাক্রমে ৩.৫ ও ৩.৭৫ থাকতে হবে প্রার্থীর। প্রার্থী সংখ্যা বেশি হলে আমরা লিখিত পরীক্ষাও নিয়ে থাকি। সুতরাং প্রস্তাবিত নীতিমালা স্বাগত জানানোর মতোই।

ইউজিসি সূত্র জানিয়েছে, পদোন্নতি বা উচ্চতর পদে নিয়োগের ক্ষেত্রেও প্রস্তাবিত নীতিমালায় বেশকিছু নতুনত্ব আছে। সহযোগী অধ্যাপক থেকে অধ্যাপক পদে পদোন্নতির জন্য ন্যূনতম ১০ বছরসহ ২২ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

এর মধ্যে এমফিল প্রার্থীর ক্ষেত্রে ৭ বছরসহ মোট ১৭ বছর বিশ্ববিদ্যালয়ে সক্রিয় শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। ছুটির সময়টা বাদ যাবে। পিএইচডি ডিগ্রিপ্রাপ্তদের বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ৫ বছরের অভিজ্ঞতাসহ ন্যূনতম ১২ বছর সক্রিয় শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

সহকারী থেকে সহযোগী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পেতে একজন শিক্ষককে কমপক্ষে সাত বছর ক্লাসরুম শিক্ষকতাসহ ১৪ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। এমফিল ডিগ্রিধারী প্রার্থীর ক্ষেত্রে ন্যূনতম ৬ বছরসহ ৯ বছর সক্রিয় শিক্ষকতায় অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। পিএইচডি ডিগ্রিধারীদের ক্ষেত্রে ন্যূনতম ৪ বছরসহ মোট ৭ বছর শিক্ষকতা করতে হবে।

সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পেতে একজন শিক্ষককে ন্যূনতম ৩ বছরের সক্রিয় শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। থিসিসসহ এমফিল ডিগ্রিধারীদের জন্য ২ বছর এবং পিএইচডি ডিগ্রি থাকলে ১ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। একই সঙ্গে স্বীকৃত কোনো জার্নালে অন্তত চারটি প্রকাশনা থাকতে হবে।

খসড়ায় বিজ্ঞান, সামাজিক বিজ্ঞান, কলা, মানবিক, বিজনেস স্টাডিজ, চারুকলা ও আইন অনুষদভুক্ত বিষয়গুলোর জন্য প্রভাষক থেকে সহকারী অধ্যাপক, সহকারী থেকে সহযোগী এবং সহযোগী থেকে অধ্যাপক পদে নিয়োগের জন্য একটি অভিন্ন শর্তাবলী যোগ করা হয়েছে।

একইভাবে ইঞ্জিনিয়ারিং, আর্কিটেকচার, নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিষয়, মেডিসিন ও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য আলাদা আলাদা শর্ত যুক্ত হয়েছে।

জানা গেছে, অধ্যাপকদের গ্রেড-৩ থেকে গ্রেড-২ তে উন্নীত হওয়ার জন্য অন্তত ৪ বছর চাকরি এবং স্বীকৃত কোনো জার্নালে বিষয়ভিত্তিক দুটি নতুন গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হতে হবে।

একইভাবে দ্বিতীয় গ্রেডপ্রাপ্ত অধ্যাপকদের মোট চাকরিকাল অন্তত ২০ বছর এবং দ্বিতীয় গ্রেডের সর্বশেষ সীমায় পৌঁছানোর ২ বছর পর জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে প্রথম গ্রেড দেয়ার শর্ত দেয়া হয়েছে। তবে এ সংখ্যা মোট অধ্যাপকের ১৫ শতাংশের বেশি হবে না।

নামপ্রকাশ না করে ইউজিসির একাধিক কর্মকর্তা এবং কয়েকজন শিক্ষক নেতা ভিন্ন আলাপে যুগান্তরকে জানান, বর্তমানে অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পেতে কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন শিক্ষককে প্রায় ২৫ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়।

আবার কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে মাত্র ১১ বছরেই অধ্যাপক হওয়ার সুযোগ থাকে। কোথাও প্রভাষক পদে যোগ দিতে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অনার্স ও মাস্টার্স পর্যায়ে প্রথম শ্রেণি বাধ্যতামূলক। আবার কোথাও যে কোনো একটিতে প্রথম শ্রেণি থাকলেই হয়। অভিন্ন নীতিমালা হলে এমন সুযোগ বন্ধ হবে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যাপক ড. এএসএম মাকসুদ কামাল বলেন, সরকার বা ইউজিসি চাপিয়ে দিতে কোনো নীতিমালা করছে না। নিয়োগ-পদোন্নতিতে বিদ্যমান ভিন্নতা দূর করতে একটি গাইডলাইন দরকার সেটিই এখন তৈরি হচ্ছে।

এটা তৈরির ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতিগুলো এবং ফেডারেশন পরামর্শ দিয়েছে। ইউজিসি অ্যাপক্সে বডি হিসেবে এ ক্ষেত্রে সমন্বয়ের কাজটি করেছে। এটি বাস্তবায়নের কাজটি স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোই করবে।

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

সমুদ্র-দর্শন অথবা প্রেম- আমিনুল ইসলাম

Development by: bdhostweb.com

চুরি করে নিউজ না করাই ভাল