«» মূলমন্ত্রঃ : সত্যের পথে,জনগনের সেবায়,অপরাধ দমনে,শান্তিময় সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে" আমরা বাঙালি জাতীয় চেতনায় বিকশিত মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার স্বপক্ষে সত্য এবং ধর্মমতে বস্তুনিষ্ঠ, সৎ ও সাহসী সাংবাদিকতায় সর্বদা নিবেদিত। «»

সীমান্তে চরম উত্তেজনা: পাকিস্তানের মর্টার হামলায় ভারতীয় সেনা নিহত

রবিবার, ১৮ আগস্ট ২০১৯ | ৬:৩৮ পূর্বাহ্ণ | 48 বার

সীমান্তে চরম উত্তেজনা: পাকিস্তানের মর্টার হামলায় ভারতীয় সেনা নিহত
ছবি-সংগৃহীত

জম্মু ও কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণরেখায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। শনিবার সকালে কাশ্মীরের রাজৌরির নওশেরা সেক্টরে পাকিস্তানের মর্টার হামলায় এক ভারতীয় সেনা নিহত হয়েছে।

এতে পাকিস্তান বাহিনীর ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে কিছু জানা যায়নি। এ সংঘর্ষের পর সীমান্তে দু’পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় ব্যাপক গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফোনালাপ করেছেন। এদিকে, দুই সপ্তাহ বন্ধ থাকার পর জম্মু ও কাশ্মীরে ল্যান্ডফোন, মোবাইল ইন্টারনেট আংশিক চালু করা হয়েছে। খবর এএফপি, বিবিসি, পিটিআই, এনডিটিভি, ডন ও আনন্দবাজার পত্রিকার।

শনিবারের সীমান্ত সংঘর্ষ নিয়ে ভারতের অভিযোগ, যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে নিয়ন্ত্রণরেখায় পাকিস্তানি সেনাবাহিনী মর্টারশেল নিক্ষেপ ও গুলি চালিয়েছে। এতে এক ভারতীয় সেনা নিহত হয়েছে। নিহত সেনা সদস্য দেরাদুনের বাসিন্দা ন্যান্স নায়েক সন্দীপ থাপা (৩৫)। ভারতীয় এক সিনিয়র কর্মকর্তা বলেন, দুই দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে প্রচণ্ড গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এ গোলাগুলিকে তিনি ‘হেভি’ বলে উল্লেখ করেন। তবে এ ব্যাপারে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, নওশেরা সেক্টরে সকাল সাড়ে ৬টায় সীমান্তের ওপার থেকে মর্টার ছোড়ে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী। এ সময় ভারতীয় সেনাবাহিনী পাল্টা জবাবও দেয়। তিনি জানান, সারাদিন দু’পক্ষের মধ্যে থেমে থেমে গোলাগুলি চলে। কাশ্মীর সীমান্তে চলছে টানটান উত্তেজনা। গত সপ্তাহে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী দাবি করে, ভারতীয় বাহিনীর গুলিতে একজন পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়। তাদের হিসাব মতে, ভারতের স্বাধীনতা দিবসে কাশ্মীর সীমান্তে গোলাগুলিতে চার পাকিস্তানি ও পাঁচ ভারতীয় সেনা সদস্য নিহত হয়েছে। গত মাসে কাশ্মীরের পুঞ্জ ও রাজৌরিতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর গুলিতে ভারতের দুই সেনা কর্মকর্তা ও এক শিশু নিহত হয়।

জম্মু ও কাশ্মীরকে দেয়া বিশেষ মর্যাদা সপ্তাহখানেক আগে ভারতের নরেন্দ্র মোদি সরকার বাতিল করায় ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। বিষয়টি নিয়ে শুক্রবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে রুদ্ধদ্বার আলোচনাও হয়েছে। ৫ আগস্ট ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের মধ্য দিয়ে কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসনের অধিকার ও বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নেয় বিজেপি নেতৃত্বাধীন ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। এর প্রতিবাদে ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক হ্রাস করাসহ ইসলামাবাদে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনারকে বহিষ্কার করে পাকিস্তান। দুই দেশের সীমান্তে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করা হয়।

জম্মু ও কাশ্মীরে ল্যান্ডফোন, মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট আংশিক চালু : শ্রীনগরের কয়েকটি অংশসহ কাশ্মীর উপত্যকার ১৭টি টেলিফোন এক্সচেঞ্জের ল্যান্ডফোনের সংযোগ সচল করা হয়েছে। শনিবার সকাল থেকে এসব সংযোগ চালু করা হয়েছে বলে কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়। কাশ্মীরের একশ’রও বেশি টেলিফোন এক্সচেঞ্জের মধ্যে ১৭টির কার্যক্রম ফের শুরু করা হয়েছে।

জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বিলোপ করার সিদ্ধান্ত ঘোষণার আগে থেকে সেখানে আরোপ করা নিষেধাজ্ঞার অংশ হিসেবে এসব ফোন লাইন বন্ধ করা হয়েছিল। প্রায় দুই সপ্তাহ পর সেগুলো আবার চালু হল। কেন্দ্রীয় কাশ্মীরের বুদগাম, সোনামার্গ ও মানিগাম এলাকায়, উত্তর কাশ্মীরের গুরেজ, তাংমার্গ, উরি কেরান কার্নাহ ও টাংধর এলাকায় এবং শ্রীনগরের সিভিল লাইন এলাকা, ক্যান্টনমেন্ট ও বিমানবন্দর এলাকায় ল্যান্ডলাইন সেবা সচল করা হয়েছে। জম্মু অঞ্চলের জম্মু, রেয়াসি, সাম্বা, কাঠুয়া ও উধমপুর জেলায় টু-জি মোবাইল ইন্টারনেট সংযোগ ফের চালু করা হয়েছে।

সোমবার থেকে ‘এলাকা অনুযায়ী’ স্কুল খুলবে এবং ধাপে ধাপে টেলিফোন সেবাগুলো চালু করা হবে বলে শুক্রবার জানান মুখ্য সচিব বিভিআর সুব্রামানিয়াম। ৪ আগস্ট থেকে জম্মু ও কাশ্মীরকে নজিরবিহীন নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়। এজন্য টেলিফোন লাইন, ইন্টারনেট ও টেলিভিশন নেটওয়ার্ক বন্ধ করে দেয়া হয়। লোকজনের অবাধ চলাচল ও জমায়েতের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।

কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে ইমরান ও ট্রাম্পের ফোনালাপ : কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফোনালাপ করেছেন। এ নিয়ে নয়াদিল্লি ও ইসলামাবাদকে আলোচনায় বসার জন্য তিনি জোর দিয়েছেন। হোয়াইট হাউসের বরাত দিয়ে শনিবার এ তথ্য জানানো হয়।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশির দাবি, ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইমরান খানের মধ্যে ‘সৌহার্দ্যপূর্ণ আলাপচারিতা’ হয়েছে। কাশ্মীর ইস্যুতে খোঁজখবর রাখবে যুক্তরাষ্ট্র। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম রেডিও পাকিস্তান কোরেশির বরাত দিয়ে জানায়, কাশ্মীরের সাম্প্রতিক ঘটনাবলিতে আঞ্চলিক শান্তি নষ্ট হওয়ার যে হুমকির সৃষ্টি হয়েছে, সে বিষয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

এদিকে কাশ্মীর ইস্যুতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের রুদ্ধদ্বার বৈঠকে রাশিয়া জানিয়েছে, তারা আশা করে কাশ্মীর নিয়ে বিরোধ সমাধানে ভারত ও পাকিস্তান জাতিসংঘের চার্টার, সংশ্লিষ্ট রেজুলেশন এবং দ্বিপক্ষীয় চুক্তি মেনে চলবে। রাশিয়ার প্রতিনিধি হিসেবে নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে অংশ নেয়া রুশ কূটনীতিক দিমিত্রি পলিয়ানস্কি টুইটারে লিখেছেন, রাশিয়া সব সময়ই ভারত ও পাকিস্তানের সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের পক্ষে জোর দিয়ে আসছে।

তিনি আরও লিখেছেন, আমরা আশা করি কাশ্মীর বিরোধ রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উপায়ে দ্বিপক্ষীয়ভাবে সমাধান হবে। এর ভিত্তি হবে ১৯৭২ সালের সিমলা চুক্তি ও ১৯৯৯ সালের লাহোর ঘোষণা এবং জাতিসংঘের চার্টার, জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট রেজুলেশন এবং ভারত ও পাকিস্তানের দ্বিপক্ষীয় চুক্তি।

 

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

সমুদ্র-দর্শন অথবা প্রেম- আমিনুল ইসলাম

Development by: bdhostweb.com

চুরি করে নিউজ না করাই ভাল