«» মূলমন্ত্রঃ : সত্যের পথে,জনগনের সেবায়,অপরাধ দমনে,শান্তিময় সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে" আমরা বাঙালি জাতীয় চেতনায় বিকশিত মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার স্বপক্ষে সত্য এবং ধর্মমতে বস্তুনিষ্ঠ, সৎ ও সাহসী সাংবাদিকতায় সর্বদা নিবেদিত। «»

ঈদের ছুটিতে ঘুরে আসতে পারেন বনলতা সেনের নাটোরে

মঙ্গলবার, ১৩ আগস্ট ২০১৯ | ৮:৩৩ পূর্বাহ্ণ | 86 বার

ঈদের ছুটিতে ঘুরে আসতে পারেন বনলতা সেনের নাটোরে

নাসিম উদ্দিন নাসিমঃ



ভ্রমনপিপাসুরা পবিত্র ঈদুল আজহার দীর্ঘ ছুটিতে কোথাও না কোথাও ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন সবাই নিজের মতো করে। বিদেশে যাঁরা যাচ্ছেন, তাঁরা তো পরিকল্পনা করেই ফেলেছেন। কিন্তু যাঁরা দেশে থাকছেন বা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরতে আগ্রহী, তাঁদের জন্য আমার পক্ষ থেকে বনলতা সেনের নাটোরে ভ্রমনের আমন্ত্রণ। দেশের উত্তরাঞ্চলের রাজধানীখ্যাত রাজা রাজণ্যের স্মৃতিধন্য এবং মহারানী ভবানীর স্মৃতিধন্য নাটোরের বেশ কিছু নান্দনিক জায়গায় ভ্রমণের প্রাথমিক তথ্য। পরিবার-পরিজন নিয়ে নাটোরে অল্প সময়ে ঘুরে আসতে পারেন নাটোরে যেকোনো সময়।

FB_IMG_15656632042722790

উত্তরবঙ্গে প্রবেশের শুরুতেই দেখা হয়ে যায় চলনবিলের সঙ্গে। নাটোর রাজশাহী, সিরাজগঞ্জ এবং পাবনা জেলাজুড়ে বিস্তৃত এই বিলের সঙ্গে যুক্ত আছে ১৪টি নদী। খাল বা নদী ছাড়াও এই বিলের বুকে জেগে রয়েছে কয়েক শ গ্রাম। এখানে শুকনো মৌসুমেও নৌকায় ভেসে বেড়ানোর মতো পানি থাকে বিস্তৃত এলাকাজুড়ে। আর এই ভরা বর্ষায় তো কথাই নেই। এই বর্ষায় পুরো চলনবিল যেন একটা সমুদ্র! উন্মুক্ত বিলের মাতাল হাওয়ায় বিশাল বিশাল ঢেউয়ের দোলায় নৌকায় করে বিলে ঘুরে বেড়ানোর আনন্দ উপভোগ করার চমৎকার একটা মৌসুম চলছে এখন। আর চলনবিলে একটা বিকেল ঘুরে বেড়িয়ে বাড়ি ফেরার পথে কিনে নিতে পারেন একদম তরতাজা মাছ, নিজের পছন্দমতো। যে তাজা মাছের স্বাদ এই ইট–পাথরের শহরে পাওয়া সম্ভব নয় কিছুতেই।

FB_IMG_15656632635963357

সীমাহীন সৌন্দর্যের চাঁদরে মোড়ানো হালতির বিল মাঝে মাঝে অতি প্রাকৃতিক পরিবেশ কেউ হার মানায়।বাংলাদেশের বৃহত্তম বিলগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি হালতি বিল যা বর্তমানে ‘মিনি কক্সবাজার’ নামে পরিচিত। হালতিকে দেশের সবচেয়ে গভীর বিল বলা হয়। প্রায় ১২ মিটার গভীর এই বিলে সারা বছরই পানি থাকে। বর্ষায় পানির পরিমাণ বেড়ে যায় অনেক বেশি। ৩টি জেলা জুড়ে এর বিস্তৃতি।

নাটোর, নওগাঁ ও রাজশাহী জেলার বিস্তৃত অংশ জুড়ে যে জলভূমি, বর্ষা এবং বর্ষা পরবর্তী সময়ে দেখা যায় সেটাই বিখ্যাত হালতি বিল। শুকনা মৌসুমে এই বিলে জল থাকে না। তখন চাষাবাদ চলে বিলের জমিনে। তবে বর্ষায় কানায় কানায় পানিতে পরিপূর্ণ হয়ে রূপের পসরা সাজিয়ে বসে।

জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত হালবিল ভ্রমণের উপযুক্ত সময়।

৪০ হাজার একর জমি নিয়ে গঠিত এ বিল ছয়মাস পানিতে নিমজ্জিত থাকে আর বাকি ছয় মাস শুকনো অবস্থা বিরাজ করে। শুকনো মৌসুমে হালতি বিলে সবুজের সমারোহ আর বর্ষা মৌসুমে বন্যায় থৈ থৈ করে পানি। এক মনোরম পরিবেশের সৃষ্টি হয়। ওই মনোরম পরিবেশ উপভোগ করতে দূর-দুরান্ত থেকে হাজার হাজার দর্শনার্থী প্রতি বছরই ভিড় জমায় হালতি বিলে।২০০৪ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ প্রায় ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে পাটুল থেকে খাজুরা পর্যন্ত ৭ কিলোমিটার সাব মারসেবল সড়ক নির্মাণ করে। এই সড়ক নির্মাণের পর থেকে এক নয়নাভিরাম দৃশ্যের সূচনা হয়। অর্থাৎ হালতি বিলেই সমুদ্র সৈকতের আমেজ সৃষ্টি হয়। এই আমেজ নিতেই দূর-দুরান্ত থেকে মানুষের আনাগোনা বেড়ে যায়।

কারণ, সময় ও অর্থের অভাবে অনেকের পক্ষে কক্সবাজারের হিমশীতল সমুদ্র সৈকত দেখতে যাওয়া সম্ভব হয় না। তাই অতি স্বল্প খরচে হালতি বিলেই সমুদ্র সৈকতের আমেজ নিতেই হাজার হাজার মানুষ ভিড় করে।

বর্তমানে হালতি বিল এখন পর্যটন এলাকা হিসাবেই পরিচিতি লাভ করেছে। রাস্তার দু’ধারে থৈ থৈ পানি, মাঝে পিচ ঢালা পথ। পথটি যেন পানিতে ভাসছে। পথের দু’ধারে সবুজ লতাপাতার সমাহার। দুরে ছোট ছোট গ্রামগুলো দেখতে অনেকটা দ্বীপের মতো। আর এই রাস্তাটি বিলের মাঝের গ্রামগুলোর মধ্যে গড়ে তুলেছে সেতু বন্ধন। এখানে দাঁড়িয়ে বিকেলের স্নিগ্ধ বাতাস, দোলায়িত ঢেউ, শেষ বিকেলের সূর্যাস্ত দেখতে অপূর্ব লাগে।

চলনবিলে রয়েছে বাংলাদেশের বড় গ্রামগুলোর মধ্যে অন্যতম ‘কলম’ নামের গ্রামটি। প্রবাদ আছে ‘বিল দেখতে চলন/ আর গ্রাম দেখতে কলম’। এই কলম গ্রাম নাটোরের সিংড়া উপজেলার ৪ নম্বর কলম ইউনিয়নে পড়েছে। মূলত কলম গ্রামের নাম থেকেই ইউনিয়নের নামকরণ করা হয়েছে।ক্রিকেটের জন্য বাঙালি দুজন মানুষের কাছে চিরকাল ঋণী থাকবে। একজন সারদারঞ্জন রায়। অন্যজন অবিভক্ত বাংলার প্রথম বাঙালি ক্রিকেট সংগঠক জগদিন্দ্র নাথ রায়। এই জগদিন্দ্র নাথ রায় ছিলেন নাটোর রাজবাড়ির মানুষ। রানি ভবানীর বংশধর এই ক্রিকেটপাগল মানুষটি সারদারঞ্জন রায়কে পৃষ্ঠপোষকতা করেছিলেন নিজে ক্রিকেট স্টেডিয়াম বানিয়ে, ‘নাটোর ইলেভেন’ নামে একটি পেশাদার ক্রিকেট টিম তৈরি করে। নাটোর রাজবাড়ি গিয়ে মাশরাফি-সাকিবদের পূর্বসূরি এই বাঙালি মানুষটিকে একবার শ্রদ্ধা জানিয়ে আসতেই পারেন আপনি।

নাটোর থেকে চলার পথে রাজশাহীর দিকে এগিয়ে যেতে যেতে হাতের ডান দিকে পড়বে রানি ভবানী এবং জগদিন্দ্র নাথ রায়ের স্মৃতিবিজড়িত এই রাজবাড়িটি। ‘নাটোর রাজবাড়ি’ নামে পরিচিত এই রাজবাড়িটি এখন উত্তরা গণভবন নামে পরিচিত। অনেকে একে রানি ভবানীর রাজবাড়ি নামেও চিনে থাকে। এখনো যে রাজবাড়ি তার ঐতিহ্য আর আভিজাত্য ধরে রেখেছে আগের মতোই। রাজবাড়ির ভেতরে প্রবেশের আগে আপনাকে অনুমতি নিতে হবে। নাটোর গেলে  অবশ্যই নাটোরের কাঁচাগোল্লা খাবেন। কারণ, উৎকৃষ্ট কাঁচাগোল্লা নাটোর ছাড়া আর কোথাও পাওয়া যায় না। এখান থেকে চলনবিলের নাটোরের অংশেও যেতে পারেন ঘুরতে।

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

পঞ্চগড় তেতুলিয়ায় চোর সন্দেহে আটক – ১

Development by: bdhostweb.com

চুরি করে নিউজ না করাই ভাল