«» মূলমন্ত্রঃ : সত্যের পথে,জনগনের সেবায়,অপরাধ দমনে,শান্তিময় সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে" আমরা বাঙালি জাতীয় চেতনায় বিকশিত মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার স্বপক্ষে সত্য এবং ধর্মমতে বস্তুনিষ্ঠ, সৎ ও সাহসী সাংবাদিকতায় সর্বদা নিবেদিত। «»

বাহারি নামের বড় গরুর বিক্রি নেই: ছোট ও মাঝারিতেই ক্রেতাদের আগ্রহ

শনিবার, ১০ আগস্ট ২০১৯ | ৭:২৬ পূর্বাহ্ণ | 32 বার

বাহারি নামের বড় গরুর বিক্রি নেই: ছোট ও মাঝারিতেই ক্রেতাদের আগ্রহ
রাজধানীর গাবতলী হাটে কোরবানির পশু

ঈদের মাত্র দু’দিন বাকি থাকলেও রাজধানীর পশুর হাটগুলো এখনও জমে ওঠেনি। ক্রেতা সমাগম নেই বললেই চলে। বিক্রেতারা বলছেন, বৃষ্টির কারণে বেশির ভাগ ক্রেতা এখনও হাটমুখী হননি।

যারা আসছেন তাদের আগ্রহ ছোট ও মাঝারি গরুতে। তাই ছোট ও মাঝারি সাইজের গরুগুলোর দাম তুলনামূলক বেশি হাঁকাচ্ছেন বিক্রেতারা। এদিকে বাহারি নামের বড়গুলোতে ক্রেতারা কোনো আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।

ছাগল বিক্রি একেবারেই নেই। এমন পরিস্থিতিতে পশু ব্যবসায়ীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। তাদের আশা, শেষ দু’দিনে হয়তো ক্রেতারা হাটমুখী হবেন। এ সময় ব্যাপক চাপ থাকবে।

তখন গরুর দাম আরও বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। শুক্রবার সরেজমিন রাজধানীর গাবতলী, আফতাবনগর, কমলাপুর, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল, উত্তরাসহ বিভিন্ন হাট ঘুরে এসব তথ্য জানা গেছে।

দুপুরে গাবতলীর স্থায়ী পশুর হাটে গিয়ে দেখা যায়, দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রজাতির প্রচুর গরু এসেছে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে। তবে ক্রেতা নেই বললেই চলে। যারা এসেছেন তাদের নজর ছোট ও মাঝারি গরুর দিকেই।

অন্যান্য হাটেরও একই অবস্থা। হাটের মূল গেট দিয়ে ঢুকতেই বামপাশে চোখে পড়ে মনোয়ারা ডেইরি অ্যান্ড এগ্রো ফার্মের ব্যানার। সেখানে কথা হয় প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী মাইদুল হকের সঙ্গে।

তিনি জানান, জামালপুরের আলীপাড়ায় তার খামার। তিন দিন আগে খামারের ২৪টি গরু নিয়ে তিনি হাটে এসেছেন। এখন পর্যন্ত একটি গরুও বিক্রি করতে পারেননি। তার গরুগুলোর দাম দেড় লাখ থেকে ৬ লাখ টাকার মধ্যে।

তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত হাটে তেমন ক্রেতা নেই। তবে শেষ দু’দিনে হয়তো ক্রেতা সমাগম বাড়বে। আশা করছি সবগুলো গরু বিক্রি করেই বাড়ি ফিরতে পারব।’ কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে তিন দিন আগে ৩৫টি গরু নিয়ে এসেছেন আবদুল খালেক নামে এক ব্যবসায়ী।

তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত চারটি গরু বিক্রি করেছি। আমার সব গরুই ছোট ও মাঝারি সাইজের। দাম ৭০ হাজার থেকে চার লাখের মধ্যে। ছোট ও মাঝারি সাইজের গরুগুলোর তুলনামূলক দাম বেশি। এখনও হাটে তেমন ক্রেতা নেই। তবে যারা আসছেন তারা সবাই ছোট ও মাঝারি গরুর প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছেন।’

এই প্রতিবেদকের সামনেই মোহাম্মদপুরের ব্যবসায়ী সাইদুর রহমান ৭৫ হাজার টাকায় একটি ছোট গরু কিনেন খালেকের কাছ থেকে। তিনি যুগান্তরকে বলেন, ‘ভেবেছিলাম ঈদের আগের দিন গরু কিনব। এসেছিলাম বাজার দেখতে। কালো রঙের দেশি গরুটি দেখে পছন্দ হওয়ায় কিনে ফেললাম। তবে দাম একটু বেশি মনে হচ্ছে।’

গাবতলী হাটে ছাগল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এখন পর্যন্ত ছাগল বেচা নিয়ে তারা হতাশ।

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘তিন ব্যবসায়ী মিলে ৯৪টি খাসি নিয়ে এসেছি। তিন দিনে মাত্র ৩টি খাসি বিক্রি হয়েছে। কোনো লাভই হয়নি। ক্রেতা না থাকার কারণে বিক্রি নেই।’

দিনাজপুর সদরের ছাগল ব্যবসায়ী জাকির হোসেন জানান, তিন দিন আগে ৩৫টি খাসি নিয়ে এসেছেন। এর মধ্যে তিনটি খাসি তিনি বিক্রি করেছেন। একটি ২৫ কেজি ওজনের খাসি বিক্রি করেছেন ১৮ হাজার টাকায়।

এই খাসিটি তিনি দিনাজপুরের স্থানীয় বাজার থেকে ১৪ হাজার টাকায় ক্রয় করেছেন।

মিরপুর-১ এর বাসিন্দা বোরহান উদ্দিন ১৬ হাজার টাকায় একটি খাসি ক্রয় করেছেন। তিনি বলেন, ‘এটির ওজন আনুমানিক ২০ কেজি হবে। দাম মনে হয় ঠিকই আছে।’

আফতাবনগর, কমলাপুর ও তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল হাট ঘুরে দেখা যায়, দুপুরের পর ক্রেতা সমাগম বেড়েছে। এখানেও ছোট ও মাঝারি সাইজের গরুর প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি।

আফতাবনগর হাটে কথা হয় গরু ব্যবসায়ী সাদেক খানের সঙ্গে। তিনি জানান, জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ থেকে ৫৬টি গরু নিয়ে এসেছেন তিনি। প্রতি সপ্তাহে তিনি গাবতলীর পশুর হাটে গরু নিয়ে আসেন। তবে ঈদের আগে তিনি বেছে নেন আফতাবনগরের হাট।

গত দু’দিনে একটি গরুও বিক্রি করতে পারেননি। তিনি বলেন, ‘এখন ক্রেতা না থাকলেও শনিবার (আজ) থেকে ক্রেতা সমাগম বাড়বে। বিক্রিও শুরু হবে পুরোদমে।’

বাহারি নামের বড় গরুর বিক্রি নেই : গাবতলী পশুর হাট এবং কমলাপুর পশুর হাট ঘুরে দেখা যায়, বাহারি নামের বড় গরুগুলোর বিক্রি একেবারেই নেই। এমনকি ক্রেতারা দাম পর্যন্ত জিজ্ঞাসা করতে চাইছেন না।

গাবতলী পশুর হাটের মূল গেট দিয়ে ঢুকতেই বামপাশের কয়েকটি শেডে বাহারি নামের বড় গরু চোখে পড়ে। শেরপুর নকলার বানেশ্বরদ্দী থেকে জোবায়দুল ইসলাম ‘লাল বাহাদুর’ নামে একটি বড় গরু নিয়ে এসেছেন। গরুটি সাড়ে চার বছর লালন-পালন করেছেন তিনি।

গরুটির দাম চাচ্ছেন ১৫ লাখ টাকা। তার আশা অন্তত ৮ লাখ টাকায় গরুটি বিক্রি করতে পারবেন। তবে তিন দিনে কোনো ক্রেতা গরুর দাম জিজ্ঞাসা করেননি। নেত্রকোনার কৃষ্ণপুর থেকে ৪৫ মণ ওজনের একটি গরু হাটে তুলেছেন এক খামারি। নাম ‘শাহজাদা’।

তিনি গরুটির দাম চাচ্ছেন ২৫ লাখ টাকা। আশা করছেন ২০ লাখ বিক্রি করতে পারবেন। তিন দিন আগে গরুটি হাটে তুললেও কোনো ক্রেতাই কেনার আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।

ধামরাইয়ের কালামপুরের নুর মোহাম্মদ ‘লালু’ ও ‘কালু’ নামের দুটি বড় গরু নিয়ে এসেছেন। কিশোরগঞ্জের লাইমপাশার সালাউদ্দিন নিয়ে এসেছেন ‘বীর বাহাদুর’ নামে একটি গরু। এগুলো কেনার জন্যও কেউ আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।

কমলাপুরের হাটে সাড়ে ৩০ মণ ওজনের দুটি ষাঁড় তুলেছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের ‘এফ অ্যান্ড এফ এগ্রো ফার্ম’। ষাঁড় দুটির নাম দেয়া হয়েছে ‘বাহাদুর’ ও ‘বাহুবলী’। হাটে আসা সব ক্রেতা ও বিক্রেতার নজর কাড়লেও ষাঁড় দুটির প্রকৃত ক্রেতা নেই।

তবে বিক্রেতাদের আশা, শেষ দু’দিন ষাঁড় দুটি কিনতে অনেক ক্রেতাই আগ্রহ দেখাবেন।

বৃষ্টিতে বিড়ম্বনা : গাবতলীর গরু ব্যবসায়ীরা জানান, যেভাবে বৃষ্টি হচ্ছে তাতে ওপরের শেড কিংবা ত্রিপল কোনো কাজে আসছে না। গরুও ভিজছে, মানুষও ভিজছে। এভাবে চলতে থাকলে গরু নিয়ে আরও তিন দিন কাটানো কঠিন হয়ে দাঁড়াবে।

কেরানীগঞ্জের গরু ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘বৃষ্টির কারণে চরম সংকটময় পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বৃষ্টি হলেই কাদা হচ্ছে। কাদার মধ্যেই গরু রাখতে হচ্ছে। এতে গরুর স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে।’ গাবতলী স্থায়ী পশুর হাটের ইজারা কর্মকর্তা সানাউল হক জানান, ব্যবসায়ীদের জন্য খুপরি ঘর ও গরু রাখার স্থান তৈরি করা হয়েছে।

পাশাপাশি অস্থায়ী শেড তৈরি করা হয়েছে যেন পশু না ভিজে। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি সমস্যার সমাধান করতে। তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকার হাটের ব্যবসায়ীরা জানান, সামান্য বৃষ্টি হলেই পুরো এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। বৃহস্পতিবার বৃষ্টির পর দীর্ঘ সময় গরুগুলো পানির মধ্যেই দাঁড়ানো ছিল।

গরু মোটাতাজাকরণে ইনজেকশন, গাবতলীতে একজনকে ছয় মাসের জেল : গাবতলীর পশুর হাটে ইনজেকশন দিয়ে গরু মোটাতাজা করার অপরাধে একজনকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। এছাড়া অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগে তিশা পরিবহনকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

শুক্রবার রাতে এ পৃথক দুটি অভিযান পরিচালনা করেন র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম। অভিযান শেষে তিনি বলেন, র্যাব-৪ ও প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের যৌথ সহযোগিতায় গাবতলী পশুর হাটে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

স্টেরয়েড ইনজেকশন ব্যবহার করে কৃত্রিমভাবে গরু মোটাতাজাকরণের অভিযোগে একজনকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে তাকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়।

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

জাকির নায়েকের বসবাসের অনুমতি বাতিল করা হতে পারে: মাহাথির

Development by: bdhostweb.com

চুরি করে নিউজ না করাই ভাল