«» মূলমন্ত্রঃ : সত্যের পথে,জনগনের সেবায়,অপরাধ দমনে,শান্তিময় সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে" আমরা বাঙালি জাতীয় চেতনায় বিকশিত মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার স্বপক্ষে সত্য এবং ধর্মমতে বস্তুনিষ্ঠ, সৎ ও সাহসী সাংবাদিকতায় সর্বদা নিবেদিত। «»

নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা: বেসরকারি খাতের ঋণে লাগাম মুদ্রানীতি

বৃহস্পতিবার, ০১ আগস্ট ২০১৯ | ৭:৫৪ পূর্বাহ্ণ | 34 বার

নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা: বেসরকারি খাতের ঋণে লাগাম মুদ্রানীতি

বেসরকারি খাতের ঋণে লাগাম টেনে চলতি অর্থবছরে (২০১৯-২০) মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ খাতে ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ১৪ দশমিক ৮ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি আগের অর্থবছরে (২০১৮-১৯) ছিল ১৬ দশমিক ৯ শতাংশ। সে হিসাবে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহের লক্ষ্যমাত্রা ২ দশমিক ১ শতাংশ কমানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঘোষিত মুদ্রানীতি বিনিয়োগবান্ধব হয়নি। এতে উদ্যোক্তারা পর্যাপ্ত ঋণ পাবেন না। ঋণের বেশির ভাগ যাচ্ছে সরকারি খাতে। ২৪ শতাংশ ঋণ সরকার নিলে বেসরকারি খাত ১৪ শতাংশ ঋণও পাবে না।

বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স হলে চলতি অর্থবছরের জন্য নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করেন গভর্নর ফজলে কবির।

এ সময় ডেপুটি গভর্নর এসএম মনিরুজ্জামান, আহমেদ জামাল, পরিবর্তন ব্যবস্থাপনা উপদেষ্টা আল্লাহ মালিক কাজেমী, আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান আবু হেনা মোহাম্মদ রাজী হাসান, ব্যাংকিং রিফর্ম উপদেষ্টা এসকে সুর চৌধুরী, অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. মো. আখতারুজ্জামানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জানতে চাইলে পিআরআইয়ের নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর যুগান্তরকে বলেন, ২৪ শতাংশ ঋণ সরকার নিলে ব্যক্তি খাত ১৪ শতাংশ ঋণও পাবে না। এতে বেসরকারি খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। মূল সমস্যা আমানত। ব্যাংকগুলোকে আমানত বাড়াতে হবে।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন যুগান্তরকে বলেন, মুদ্রানীতিতে আর্থিক খাতের যেসব সমস্যা আছে সেগুলোর কিছুটা স্বীকৃতি থাকলেও এর থেকে উত্তরণের সুষ্পষ্ট দিকনির্দেশনা নেই। ব্যক্তি খাতে ১৪ দশমিক ৮ শতাংশ ঋণের লক্ষ্য ধরা হয়েছে। এটি অনেক কম হয়েছে। কারণ ৮ দশমিক ২ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হলে ব্যক্তি খাতে ঋণের লক্ষ্য ১৬ থেকে ১৭ শতাংশ ধরা উচিত ছিল। সে ক্ষেত্রে তা অর্জনে ঋণমান নিয়ে নির্দেশনা থাকত। কিন্তু ঘোষিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হলেও তা বিনিয়োগের মাত্র ২০ শতাংশ অবদান রাখতে পারবে। তাহলে বিনিয়োগের ৮০ শতাংশ কোথা থেকে আসবে? এটি সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি হয়েছে।

এছাড়া মুদ্রানীতিতে তারল্য সংকট নেই দাবি করা হয়েছে। তাহলে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ ১১ দশমিক ৩ শতাংশে নামল কেন? এছাড়া মুদ্রা বাজারের জন্য কিছুই নেই। মুদ্রানীতির শেষের দিকে বিদেশি কিছু ঝুঁকির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু অভ্যন্তরীণ ঝুঁকিগুলো গেল কোথায়, সেগুলো নিয়ে খুব বেশি বলা হয়নি।

গভর্নর ফজলে কবির বলেন, ঘোষিত মুদ্রানীতি আগের মতো সতর্কভাবে সংকুলানমুখী করা হয়েছে। এটি কর্মসংস্থানমুখী, প্রবৃদ্ধি সহায়ক ও সংকুলানমুখী মুদ্রানীতি। তার দাবি, মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৫ শতাংশ পরিমিত রেখে ৮ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য পর্যাপ্ত ঋণ প্রবাহের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। নতুন মুদ্রানীতিতে ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত বেসরকারি খাতে ১৪ দশমিক ৮ শতাংশ ঋণ প্রবাহ ধরা হয়েছে। এর মধ্যে ডিসেম্বর ২০১৯ পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রা ১৩ দশমিক ২ শতাংশ ঠিক করা হয়েছে। গেল অর্থবছরের জুন পর্যন্ত লক্ষ্য ছিল ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ।

চলতি অর্থবছর পর্যন্ত সরকারি খাতে ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ২৪ দশমিক ৩ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। যা আগের অর্থবছরে ছিল ঋণাত্মক ২ দশমিক ৪ শতাংশ। তবে আগামী ৬ মাসে অর্থাৎ ডিসেম্বর পর্যন্ত এটি আরও বাড়িয়ে ২৫ দশমিক ২ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। আর অভ্যন্তরীণ ঋণ প্রবৃদ্ধি ১৫ দশমিক ৯ শতাংশ ধরা হয়। ব্যাপক মুদ্রার সরবরাহ ১২ দশমিক ৫ এবং রিজার্ভ মানির লক্ষ্য ১২ শতাংশ ধরা হয়েছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহের লক্ষ্য ছিল সাড়ে ১৬ শতাংশ। কিন্তু জুন শেষে এ খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ১১ দশমিক ৩ শতাংশ হয়েছে। এটি গত অর্থবছ?রের ঘোষিত মুদ্রানীতির লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ৫ শতাংশ কম।

গভর্নর ফজলে কবির আরও বলেন, এখন থেকে মুদ্রানীতি ঘোষণাপত্র অর্থবছরের দুই অর্ধের জন্য দু’বারের বদলে অর্থবছরের শুরুতে গোটা বছরের জন্য একবার ঘোষণা করা হবে। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ব্যাংকিং খাতে কোনো তারল্য সংকট নেই। তবে কিছু ব্যাংক প্রশ্নযোগ্য মানের ঋণ সৃষ্টি করেছে। কিছু মিসম্যাস হয়েছে। এটাই সমস্যা।এক প্রশ্নের উত্তরে বাংলাদেশ ব্যাংকের উপদেষ্টা আল্লাহ মালিক কাজেমী বলেন, বর্তমানে বাজারে কোনো তারল্য সংকট নেই। যে কারণে সম্প্র্রতি কোনো ব্যাংক ডলার নিতে আসছে না। টাকার জন্যও কাউকে আসতে দেখা যাচ্ছে না। জুন পর্যন্ত ব্যাংক খাতে ৮৫ হাজার ৬১৬ কোটি টাকা উদ্বৃত্ত তারল্য রয়েছে। তবে তারল্যে অসামঞ্জস্যতা আছে। এখন কিছু ব্যাংকের হাতে বেশি টাকা আছে, তাদের হয়তো ঋণ রয়েছে কম। একইভাবে কিছু ব্যাংকের হাতে যে পরিমাণ টাকা রয়েছে, ঋণ আছে হয়তো বেশি। এ অসামঞ্জস্য বা মিসম্যাস দূর করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কাজ করছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের উপদেষ্টা এসকে সুর চৌধুরী বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সরকারসহ সব পর্যায় থেকে গুণগত মানের ঋণ বাড়ানোর শক্ত প্রচেষ্টা ছিল। ফলে এখন আগ্রাসী বিনিয়োগ হচ্ছে না। চাহিদার আলোকে ঋণ যাচ্ছে। এতে করে গুণগতমানের ঋণ বিতরণ হচ্ছে। এখন চাহিদা ও সরবরাহে একটি সামঞ্জস্য আছে। ফলে বর্তমানের এ ঋণ দিয়ে কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব।

তিনি বলেন, বেসরকারি খাতে ১৬ শতাংশ ঋণ প্রবৃদ্ধি অর্জন করা কোনো বিষয় নয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক চাইলে ৩ মাসে সেটা করা সম্ভব। এখন ৮৫ হাজার কোটি টাকা উদ্বৃত্ত তারল্য আছে। তবে সব ব্যাংকের কাছে এক রকম নয়। সেখানে সামঞ্জস্য আনার চেষ্টা চলছে। গুণগতমানের ঋণকে কেন্দ্র করে এবারের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। সেখানে যদি দেখা যায় বছরের মাঝখানে গুণগতমানের ঋণ চাহিদা বাড়ছে সেখানে আটকানো হবে না।

গভর্নর বলেন, পিপলস লিজিংসহ কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান ২০১৩ সাল থেকে বিভিন্ন অসুবিধার মধ্যে ছিল। প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাঁচাতে সব রকম চেষ্টা করেও পিপলস লিজিংকে রক্ষা করা যায়নি। এতে তেমন কোনো প্রভাব পড়বে বলে মনে হয় না।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক একটি ইন্টারেস্টিং অবস্থানে আছে। ২০১৮ সালে ফারমার্স ব্যাংককে অবসায়ন না করে রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলোর মূলধন জোগানের মাধ্যমে টিকিয়ে রাখার পর অনেকে বলেছিলেন এটা করা ঠিক হয়নি। ব্যাংক আসবে-যাবে এ রকম ব্যাংক টিকিয়ে রাখার কি আছে। আবার পিপলস লিজিং অবসায়নের পর এখন বলা হচ্ছে, এটা কেন করা হল। এখন আমানতকারীদের কি হবে।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে টাকা মেরে ব্যাংকের পরিচালক হয়েছেন- এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এসএম মনিরুজ্জামান বলেন, নির্দিষ্ট একটি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তারা টাকা-পয়সা বের করে নিয়েছেন। তখন ইচ্ছা করলেই তাকে দায়ী করে পরিচালক পদ আটকানো যায়নি। এটা প্রমাণ করার বিষয়। তবে যাদের বিষয় প্রমাণিত হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থানেয়া হয়েছে।

পিপলস লিজিং ছাড়াও কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান আমানতকারীর টাকা ফেরত না দেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেয়ার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের। তবে নিয়ন্ত্রক সংস্থ’া হিসেবে এসব প্রতিষ্ঠানের সুরক্ষায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক কাজ করছে।

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

জাকির নায়েকের বসবাসের অনুমতি বাতিল করা হতে পারে: মাহাথির

Development by: bdhostweb.com

চুরি করে নিউজ না করাই ভাল