«» মূলমন্ত্রঃ : সত্যের পথে,জনগনের সেবায়,অপরাধ দমনে,শান্তিময় সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে" আমরা বাঙালি জাতীয় চেতনায় বিকশিত মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার স্বপক্ষে সত্য এবং ধর্মমতে বস্তুনিষ্ঠ, সৎ ও সাহসী সাংবাদিকতায় সর্বদা নিবেদিত। «»

বৈরি আবহাওয়া

চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পণ্য খালাসে অচলাবস্থা

শুক্রবার, ১২ জুলাই ২০১৯ | ৫:৪২ পূর্বাহ্ণ | 25 বার

চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পণ্য খালাসে অচলাবস্থা

বৈরী আবহাওয়ায় টানা ছয়দিন বন্ধ রয়েছে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পণ্য খালাস। দীর্ঘ হচ্ছে পণ্যবোঝাই জাহাজের সারি।

আবহাওয়া অফিস তিন নম্বর সতর্কতা সংকেত প্রত্যাহার করে নিলেও টানা বৃষ্টির সঙ্গে সাগরে প্রচণ্ড ঢেউয়ের কারণে লাইটার জাহাজ বহির্নোঙরে যেতে পারছে না।

ফলে মাদার ভেসেল (বড় আকারের সমুদ্রগামী জাহাজ) থেকে পণ্য খালাস বন্ধ রয়েছে। যেভাবে বৃষ্টি হচ্ছে তাতে আগামী দু’একদিনও লাইটার জাহাজ বহির্নোঙরে যেতে পারবে কিনা তা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। এতে ক্ষতির মুখে পড়বেন আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা।

বহির্নোঙরে বৃহস্পতিবার জাহাজ ছিল ৭৬টি। এর মধ্যে কনটেইনার জাহাজ ১৪টি। বাকি ৬২টি জাহাজ খোলা পণ্যবোঝাই। এগুলোতে খাদ্যশস্য, সিমেন্ট ক্লিংকার, চিনিসহ বিভিন্ন ধরনের কয়েক লাখ টন পণ্য রয়েছে।

এক সপ্তাহের মধ্যে আসবে আরও ১৫-২০টি জাহাজ। সব জাহাজ একসঙ্গে পণ্য খালাস শুরু করলে লাইটার জাহাজেরও সংকট দেখা দিতে পারে। তখন পণ্য খালাসে বিশৃঙ্খল অবস্থার সৃষ্টি হতে পারে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব ওমর ফারুক জানান, বৈরী আবহাওয়ায় বৃহস্পতিবারও বহির্নোঙরে পণ্য খালাস হয়নি। একটানা কয়েকদিন পণ্য খালাস না হওয়ায় বহির্নোঙরে জাহাজের গড় অবস্থানকাল আগের চেয়ে বেড়ে গেছে।

এদিকে বন্দরের অভ্যন্তরে বিভিন্ন জেটিতে পণ্য খালাস পুরোপুরি বন্ধ না হলেও মুষলধারে বৃষ্টির কারণে অনেকটাই ব্যাহত হচ্ছে। কনটেইনার খালাস মোটামুটি স্বাভাবিক থাকলেও বৃষ্টিতে ভিজে নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় জেটিতে খোলা পণ্য (বাল্ক কার্গো) খালাস হচ্ছে না।

এজন্য ইয়ার্ডগুলোতে পণ্যবোঝাই কনটেইনারের সংখ্যা বাড়ছে। এছাড়া কিছু আমদানি পণ্যের ওপর আগাম কর আরোপের ফলে পণ্য ডেলিভারি নিতে অনেকের অনীহা, টানা বৃষ্টি, সেই সঙ্গে সৃষ্ট যানজট এবং কাস্টমসের সার্ভার এসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সম্প্রতি ১৮ ঘণ্টা বন্ধ থাকার প্রভাবে বন্দরে এমন অবস্থা তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

এ অবস্থায় জট ছাড়াতে বন্দর কর্তৃপক্ষ দ্রুত এফসিএল (ফুল কনটেইনার লোড) কনটেইনারগুলো সরিয়ে নিতে বলেছে আমদানিকারকদের। এরপরও যদি এক সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি না হয়, তাহলে চারদিন ফ্রি টাইমের পর জরিমানা আরোপ করা হতে পারে বলে বন্দরের পক্ষ থেকে এরই মধ্যে সংশ্লিষ্টদের জানিয়ে দেয়া হয়েছে।

এদিকে পণ্য খালাস ও ডেলিভারিতে ধীরগতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন আমদানিকারকরা। একেকটি মাদার ভেসেলের অতিরিক্ত একদিন অবস্থানের কারণে গুনতে হচ্ছে ১০-১৫ হাজার ডলার জরিমানা।

এছাড়া যথাসময়ে পণ্য নিতে না পারায় ব্যবসায়ীরা আরও ক্ষতির মুখে পড়বেন। কাঁচামাল যথাসময়ে কারখানায় না পৌঁছলে উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে। বন্দরে জাহাজের গড় অবস্থানকাল বাড়ার ফলে দেখা দিতে পারে ইমেজ সংকট। এসবের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বন্দরের ওপর পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরোয়ার্ডিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (সিঅ্যান্ডএফ) যুগ্ম সম্পাদক কাজী মাহমুদ ইমাম বিলু যুগান্তরকে বলেন, বহির্নোঙরে বর্তমানে পণ্য খালাসে অচলাবস্থা এবং এর আগে নানা কারণে কনটেইনার ডেলিভারিতে ধীরগতির প্রভাব মোকাবেলা করা বন্দরের জন্য চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জাহাজের গড় অবস্থানকাল বাড়ছে। আমদানি ব্যয়ও বেড়ে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতি সামাল দিতে হবে। তা না হলে আমদানি-রফতানি কার্যক্রমের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হবে। বর্তমান পরিস্থিতি থেকে বন্দরকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে যেতে কমপক্ষে এক মাস সময় লাগবে।

আমদানি ব্যয় বাড়লে শুধু ব্যবসায়ীরা নন, ভোক্তারাও ক্ষতির মুখে পড়েন। কারণ ব্যবসায়ীরা ব্যয় সমন্বয় করতে পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেন, যা পরোক্ষভাবে ভোক্তার ওপরেই পড়ে।

লাইটার জাহাজ চলাচল তদারককারী প্রতিষ্ঠান ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট সেলের যুগ্ম সচিব আতাউল করিম রঞ্জু যুগান্তরকে বলেন, সাগর উত্তাল থাকায় শনিবার থেকে বহির্নোঙরে কোনো লাইটার জাহাজ যায়নি। তাই পণ্য খালাসও হয়নি।

বুধবার ২-৩টি লাইটার বহির্নোঙরে গিয়েছিল। কিন্তু প্রচণ্ড ঢেউয়ের কারণে সেগুলো মাদার ভেসেলের কাছে ভিড়তে না পেরে ফিরে আসে। বৃহস্পতিবারও কোনো লাইটার যেতে পারেনি।

তিন নম্বর সতর্কতা সংকেত প্রত্যাহার করা হলেও বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। বৃষ্টিতে খোলা পণ্য খালাস করতে গেলে ভিজে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

 

ও/আ

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

গভীর রাতে রাজশাহীর ৪৩ হজযাত্রীকে নিয়ে গেল বিমান

Development by: bdhostweb.com

চুরি করে নিউজ না করাই ভাল