«» মূলমন্ত্রঃ : সত্যের পথে,জনগনের সেবায়,অপরাধ দমনে,শান্তিময় সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে" আমরা বাঙালি জাতীয় চেতনায় বিকশিত মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার স্বপক্ষে সত্য এবং ধর্মমতে বস্তুনিষ্ঠ, সৎ ও সাহসী সাংবাদিকতায় সর্বদা নিবেদিত। «»

অপরাধ প্রমাণ হলে অতিরিক্ত ডিআইজি মোজাম্মেলের বিচার হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

শুক্রবার, ১২ জুলাই ২০১৯ | ৫:৩১ পূর্বাহ্ণ | 25 বার

অপরাধ প্রমাণ হলে অতিরিক্ত ডিআইজি মোজাম্মেলের বিচার হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, জোর করে বৃদ্ধের জমিজমা ও গাড়িবাড়ি লিখে নেয়ার যে অভিযোগ উঠেছে, তা প্রমাণিত হলে অতিরিক্ত ডিআইজি গাজী মোজাম্মেল হকের বিচার হবে।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠন বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরামের (বিএসআরএফ) কার্যনির্বাহী কমিটির নবনির্বাচিত নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন। সভায় বিএসআরএফ’র সভাপতি তপন বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমেদ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

‘রিমান্ডে থাকাবস্থায় জমি রেজিস্ট্রি, বৃদ্ধের সর্বস্ব লিখে নিলেন অতিরিক্ত ডিআইজি’ শিরোনামে ১ জুলাই যুগান্তরে অনুসন্ধানী রিপোর্ট প্রকাশিত হয়। এ ঘটনায় একাধিক তদন্ত কমিটি গঠন করে পুলিশ সদর দফতর।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ঘটনার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে পুলিশ সদর দফতরের বক্তব্য চেয়ে চিঠি দেয়। একই সঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পুলিশ সদর দফতরকে নির্দেশ দিয়েছে।

প্রসঙ্গত, সাজানো মামলায় জাহের আলী নামের এক বৃদ্ধকে রিমান্ডে আনে পুলিশ। অস্ত্রের মুখে নির্যাতন চালিয়ে তার জমিজমা ও গাড়িবাড়ি লিখে নেয়া হয়। আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ২৫ জুলাই জাহের আলীকে রিমান্ডে নেয়া হয়।

২৬ জুলাই রেজিস্ট্রি করে নেয়া হয় জমি। ডেমরা সাবরেজিস্ট্রি অফিসে রেজিস্ট্রি করা দুটি দলিল নং যথাক্রমে ৫৩৬৭ ও ৯২২৬। ব্যাংকে বন্দক রাখা অপর একটি জমিও জোরপূর্বক পাওয়ার অব অ্যাটর্নি নেয়া হয়। যার দলিল নং ৫৩৬৬।

রিমান্ড শেষে ৩১ জুলাই তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়। এর অকাট্য প্রমাণ যুগান্তরের হাতে রয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ সদর দফতরে কর্মরত অতিরিক্ত ডিআইজি গাজী মোজাম্মেল হক ও তার স্ত্রী ফারজানা মোজাম্মেলের বিরুদ্ধে মামলা করে ভুক্তভোগী পরিবার। অভিযোগ আমলে নিয়ে ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্তের আদেশ দেন মহানগর হাকিম দেবব্রত বিশ্বাস।

বৃহস্পতিবার সাংবাদিকরা এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করলে মন্ত্রী বলেন, ‘এ নিউজটি শুনেছি এবং দেখেছি। আমি আগেও বলেছি, কেউ অপরাধ করে যদি পার পেয়ে যায়, তাহলে আমরা বসে আছি কেন? আমরা নিশ্চয়ই এটা দেখব।

আমাদের দেখার কাজ শুরু হয়ে গেছে। আপনারা নিশ্চিত থাকেন, তিনি যদি ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকেন, যদি প্রমাণিত হয়, তবে তার বিচারও সঠিকভাবে হবে।’

এদিকে সূত্র জানায়, রিমান্ডে এনে জমি লিখে নেয়ার ঘটনা প্রকাশিত হওয়ার পর ভুক্তভোগীদের সঙ্গে আপসের চেষ্টা করা হচ্ছে। এরই মধ্যে নির্যাতনের শিকার বৃদ্ধ জাহের আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করে সবকিছু মিটমাট করে ফেলার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।

এমনকি রিমান্ডে থাকা অবস্থায় জোর করে লিখে নেয়া জমিও ফেরত দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট অভিযুক্তরা। এর বিনিময়ে অতিরিক্ত ডিআইজি গাজী মোজাম্মেলের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই মর্মে লিখিত প্রতিশ্রুতি দিতে বলা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জাহের আলীর আইনজীবী হাসনা খাতুন বৃহস্পতিবার যুগান্তরকে বলেন, ‘আপস-মীমাংসা করলেও রিমান্ডে জমি লিখে নেয়ার ঘটনা ধামাচাপা দেয়া যাবে না।

এটি একটি ফৌজদারি অপরাধ। তাছাড়া রেজিস্ট্রি অফিস ও আদালতের নথিতে এ ঘটনার অকাট্য দালিলিক প্রমাণ রয়েছে, যা কোনোভাবে রাতারাতি মুছে ফেলা যাবে না।’

এদিকে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে শিশু ধর্ষণের ঘটনা বেড়ে যাওয়া প্রসঙ্গে অপর এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, হত্যাকাণ্ড ও শিশু ধর্ষণের মতো চরম অমানবিক ঘটনাগুলো আমাদের বিবেককে নাড়া দেয়।

দেশের সামাজিক শাসন ও মূল্যবোধ কমে গেছে। এগুলো রোধ করতে পারলে আমরা কিছুটা ফল পাব। যেমন- ছোটবেলায় দেখেছি, এ ধরনের ঘটনা ঘটলে গ্রামে বিচার হতো। এখন আর সেটা হয় না। সামাজিক বিচারব্যবস্থা উঠে গেছে।

তবে আমরা অপরাধীকে ধরে এনে আইনের হাতে তুলে দিচ্ছি, এটাই আমাদের প্রধান কাজ। এক্ষেত্রে আপনাদেরও (সাংবাদিকদের) ভূমিকা আছে। তিনি বলেন, ‘সংবাদমাধ্যম অনেক শক্তিশালী।

সংবাদিকরা যদি লেখনীতে এগুলো তুলে আনেন, তবে আমরা সামাজিক অবক্ষয় থেকে মুক্তি পাব।’ তিনি আরও বলেন, ‘সমাজের শুরু থেকেই অনাচার ছিল। শুধু বাংলাদেশ নয়, সমগ্র পৃথিবীতেই এটা হচ্ছে। এর জন্য সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।’

বিচার বিলম্বের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘মামলাজটের কারণে বিচার বিলম্বিত হচ্ছে।’ দুর্বল চার্জশিটের কারণে অপরাধীরা পার পেয়ে যাচ্ছে, এমন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, চার্জশিট যাতে নির্ভুল হয়, সেজন্য পুলিশকে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সময় দিলে চলতি মাসেই ই-পাসপোর্ট উদ্বোধন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ই-পাসপোর্টের আগে এমআরপি করেছি।

২ কোটি ৬০ লাখ মানুষের কাছে এমআরপি (মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট) হ্যান্ডওভার করতে পেরেছি। পৃথিবীতে নতুন প্রযুক্তিতে ই-পাসপোর্ট চলে আসছে।

ই-পাসপোর্ট ও ই-গেট প্রজেক্ট নিয়ে কাজ করছি। জার্মানির একটি খ্যাতনামা কোম্পানি পুরো প্যাকেজ হিসেবে কাজ করছে। তারা সব ধরনের কাজ গুছিয়ে এনেছে।

জুলাইয়ের যে কোনো সময় প্রধানমন্ত্রী এটি উদ্বোধন করতে পারবেন। যদি না হয়, এটি প্রধানমন্ত্রীর সময়ের ওপর নির্ভর করছে। কারণ এটি একটি ঐতিহাসিক জিনিস আমরা করতে যাচ্ছি। সেই জায়গাটিতে যখন যাব, প্রধানমন্ত্রী সেটা উদ্বোধন করবেন।’

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের জুলাইয়ে পাসপোর্ট অধিদফতরের সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মাসুদ রেজওয়ান জার্মানির কোম্পানি ভেরিডোসের সঙ্গে ই-পাসপোর্টের চুক্তি করেন।

এরপর ডিসেম্বরে পাসপোর্ট দেয়ার কথা থাকলেও সেই সিদ্ধান্তে কিছুটা পরিবর্তন আনে অধিদফতর। নির্বাচনের আগ দিয়ে প্রথম ধাপে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার ও বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে (সিআইপি) ই-পাসপোর্ট দিয়ে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করার কথা ছিল। সর্বসাধারণকে জানুয়ারিতে পাসপোর্ট দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। তবে নানা জটিলতায় তা সম্ভব হয়নি।

 

ও/আ

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

গভীর রাতে রাজশাহীর ৪৩ হজযাত্রীকে নিয়ে গেল বিমান

Development by: bdhostweb.com

চুরি করে নিউজ না করাই ভাল