«» মূলমন্ত্রঃ : সত্যের পথে,জনগনের সেবায়,অপরাধ দমনে,শান্তিময় সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে" আমরা বাঙালি জাতীয় চেতনায় বিকশিত মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার স্বপক্ষে সত্য এবং ধর্মমতে বস্তুনিষ্ঠ, সৎ ও সাহসী সাংবাদিকতায় সর্বদা নিবেদিত। «»

গাজীপুর শ্রীপুরের স্কুল ছাত্রীর অপহরণ নাটক, রাজশাহী পুলিশে তোলপাড়

বৃহস্পতিবার, ১১ জুলাই ২০১৯ | ৬:৪৩ অপরাহ্ণ | 86 বার

গাজীপুর শ্রীপুরের স্কুল ছাত্রীর অপহরণ নাটক, রাজশাহী পুলিশে তোলপাড়

নিজস্ব প্রতিনিধি: গাজীপুরের শ্রীপুর থেকে স্কুল যাওয়ার পথে অপহরণ করা হয়েছিল মাওনা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী মিতা আক্তার বর্ষা (১৪)। তার দাবি, গতকাল বুধবার সকাল ৯টার দিকে শ্রীপুর উপজেলার শান্তিনগর এলাকা থেকে একটি সাদা রঙের মাইক্রোবাসে করে তাকেসহ তার আরো দুই বান্ধবীকে অপহরণ করা হয়। রাত ৮টার দিকে মাইক্রোবাসটি রাজশাহী নগরীর তালাইমারী এলাকায় পৌছালে বর্ষা (১৪) মাইক্রোবাস থেকে লাফ দেয়। এসময় পাশের ওষুধের দোকানদার হাসিবুর রহমান চৌধুরী তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যায় মতিহার থানায়। বর্ষা শ্রীপুরের শান্তিনগর এলাকার মতিউর রহমান ও নাজমা বেগমের মেয়ে। তারা দু’জনই গার্মেন্টস কর্মী।

 

বর্ষার দাবি, তার সঙ্গে অপহরণ হওয়া তার সহপাঠি বান্ধবীরা হলো জ্যোতি ও মেঘলা। তবে বর্ষার এই দাবির সত্যতা খুঁজে পায়নি পুলিশ।

 

রাজশাহী নগরীর মতিহার থানার ওসি শাহাদাত হোসেন খান জানান, বর্ষার দাবি অনুযায়ি গাজীপুর থেকে তিন স্কুলছাত্রীকে রাজশাহী আনার খবরে বুধবার রাতে তোলপাড়া শুরু হয় মহানগর পুলিশে। বর্ষার ভাষ্য অনুযায়ী রাজশাহীর প্রতিটি চেকপোস্টে সাদা রঙের মাইক্রোবাস তল্লাশি করা হয়েছে। কিন্তু কাউকে পাওয়া যায়নি। বিস্তারিত খোঁজ নিতে গিয়ে দেখা যায়, বর্ষা আরো যে দুই ছাত্রীকে অপহরণের কথা বলছে, সেই জ্যোতি ও বর্ষা অপহৃত হয়নি। তারা বুধবার ক্লাস করেছে। বৃহস্পতিবারও তারা স্কুলে উপস্থিত ছিল। বিষয়টি মতিহার থানার ওসিকে নিশ্চিত করেছে তাদের পরিবার, মাওনা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং শ্রীপুর থানা পুলিশ।

 

রাজশাহী নগরীর বিনোদপুর এলাকার বাসিন্দা হাসিবুর রহমান চৌধুরী (৬৫) তালাইমারী মোড়ে বর্ষাকে উদ্ধার করেছেন। তিনি বলেন, তালাইমারী মোড়ে তার একটি ওষুধের দোকান রয়েছে। দোকানের সামনে একটি চেয়ার পাতা থাকে। বুধবার রাত আটটার দিকে হঠাৎ স্কুলের ইউনিফরম পরা একটি মেয়ে দৌড়ে এসে ওই চেয়ারে বসে কান্নাকাটি শুরু করে। তিনি তার কাছ থেকে অপহরণের ঘটনাটি জানতে পারেন। সঙ্গে সঙ্গে তিনি মতিহার থানার ওসিকে বিষয়টি অবহিত করেন এবং নিজেই থানায় গিয়ে মেয়েটিকে দিয়ে আসেন।

 

বুধবার রাতে মিতা আক্তার বর্ষা মতিহার থানা পুলিশকে জানায়, বুধবার সকাল নয়টার দিকে সে এবং তার দুই সহপাঠি বাড়ি থেকে বিদ্যালয়ে যাচ্ছিল। পথের মধ্যে একটি সাদা রঙের বড় মাইক্রোবাস গতিরোধ করে তাদের মাইক্রোবাসে তুলে নেয়। এরপর তার আর জ্ঞান ছিল না। জ্ঞান ফেরার পরে গাড়িটি এক জায়গায় দাঁড়ালে সে দরজা খুলে লাফ দিয়ে নেমে দৌড় দেয়। পরে সে জানতে পারে সে রাজশাহীতে। লাফ দেয়ার সময় তার দুই সহপাঠী অচেতন অবস্থায় ছিল। তাদের পরনেও স্কুল ড্রেস রয়েছে বলে দাবি করেছিল বর্ষা।

 

বর্ষার দাবি অনুযায়ি মতিহার থানা পুলিশ তার দুই সহপাঠি এবং সাদা রঙের মাইক্রোবাসের খোঁজে মাঠে নামে। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে বর্ষার দাবি সত্য নয়। বর্ষা আরো যে দুই ছাত্রীর কথা বলছে, তারা বুধবার স্কুলে উপস্থিত ছিল। নাম প্রকাশ না করার শর্তে রাজশাহী মহানগর পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, পুলিশ বর্ষাকে জিজ্ঞাসাবাদে জানতে পেরেছে ফেসবুকে এক ছেলের সাথে তার পরিচয় হয়। বুধবার ওই ছেলের সাথে সে রাজশাহী আসার পর বুঝতে পারে, ছেলেটির উদ্দেশ্য ভালো নয়। এরপর সে ওই ছেলের হাত থেকে বাঁচতে অপহরণের গল্প সাজায়। বাবা-মায়ের সাথে বর্ষা গাজীপুরের শ্রীপুরে থাকলেও তাদের মূল বাড়ি রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার দমদমা গ্রামে। সেই সুবাদে সে তার প্রেমিকের সাথে বুধবার রাজশাহী এসেছিল।

 

এদিকে গাজীপুর পুলিশ বলছে, তিন স্কুলছাত্রীর অপহরণের মতো কোন ঘটনা ঘটেনি। রাজশাহীতে উদ্ধার হওয়া মেয়েটি যে দুই ছাত্রীর কথা বলেছে, তারা অপহরণের শিকার হয়নি। তারা অষ্টম শ্রেণীতে পড়ে। বৃহস্পতিবার তারা ক্লাস করেছে। গাজীপুরের শ্রীপুর থানার ওসি লিয়াকত আলী বলেন, তিনটি মেয়ে অপহরণের শিকার হলে এলাকায় হুলস্থুল পড়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু এ ঘটনার খবর রাজশাহী পুলিশ না জানানো পর্যন্ত তারা জানতেই পারেননি। বুধবার রাতে ঘটনা শুনেই রাজশাহীতে উদ্ধার মেয়েটির বাবাকে থানায় আনা হয়। তিনি অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে থানায় অপহরণের মামলা করেছেন। শ্রীপুরের আর কোন ছাত্রী নিখোঁজ নেই।

 

রাজশাহী মহানগর পুলিশের মতিহার থানার ওসি জানান, মিতা আক্তার বর্ষাকে রাজশাহী মহানগর পুলিশের ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে রাখা হয়েছে। তার পরিবারকে খবর দেয়া হয়েছে। শ্রীপুর থানার পুলিশসহ তারা রাজশাহীতে এলে বর্ষাকে তাদের হাতে হস্তান্তর করা হবে। এদিকে বর্ষার মা নাজমা বেগম মুঠোফোনে জানান, তিনি একটি গার্মেন্টস কারখানায় চাকরি করেন। বুধবার সকাল আটটায় তিনি বাড়ি থেকে বেরিয়ে কর্মস্থরেল যান। সন্ধ্যা ছয়টায় তাকে বাড়ি থেকে ফোন করে জানানো হয় যে, মেয়ে বাড়ি ফিরে যায়নি। এরপর বুধবার রাতে রাজশাহীর মতিহার থানা থেকে তাকে ফোন করে জানানো হয় বর্ষা রাজশাহীতে আছে।

 

ও/আ

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

গভীর রাতে রাজশাহীর ৪৩ হজযাত্রীকে নিয়ে গেল বিমান

Development by: bdhostweb.com

চুরি করে নিউজ না করাই ভাল