«» মূলমন্ত্রঃ : সত্যের পথে,জনগনের সেবায়,অপরাধ দমনে,শান্তিময় সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে" আমরা বাঙালি জাতীয় চেতনায় বিকশিত মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার স্বপক্ষে সত্য এবং ধর্মমতে বস্তুনিষ্ঠ, সৎ ও সাহসী সাংবাদিকতায় সর্বদা নিবেদিত। «»

উন্মুক্ত হয়নি ভালো গ্রাহকের একক ঋণসীমা

বৃহস্পতিবার, ১১ জুলাই ২০১৯ | ১০:২২ পূর্বাহ্ণ | 21 বার

উন্মুক্ত হয়নি ভালো গ্রাহকের একক ঋণসীমা

ব্যাংকের ভালো গ্রাহকদের একক ঋণসীমা বা সিঙ্গেল বরোয়ার এক্সপোজার লিমিট প্রত্যাহার করে নেয়ার প্রতিশ্রুতি তিন মাসেও বাস্তবায়ন হয়নি।

ফলে ব্যাংকের ভালো গ্রাহকরা চাহিদা অনুযায়ী বাড়তি ঋণ নিতে পারছেন না। এ কারণে তারা নতুন বিনিয়োগ থেকেও মুখ ফিরিয়ে রেখেছেন।

এতে দেশের শিল্পায়নের গতি যেমন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনি প্রত্যাশা অনুযায়ী বাড়ছে না নতুন কর্মসংস্থানের হার। এতে দেশের সার্বিক অর্থনীতি প্রত্যাশিত গতি পাচ্ছে না।

১২ এপ্রিল ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের সঙ্গে বৈঠক করে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘ব্যাংকের ভালো গ্রাহকদের ক্ষেত্রে একক ঋণসীমা থাকবে না। এটা তুলে দেয়া হবে। ফলে ভালো গ্রাহকরা চাহিদা অনুযায়ী ঋণ পাবেন।’

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বর্তমানে প্রচলিত নীতিমালা অনুযায়ী ব্যাংকগুলো একক কোনো ব্যক্তি বা গ্রুপকে তাদের মূলধনের ১৫ শতাংশের বেশি নগদ আকারে এবং ২০ শতাংশের বেশি পরোক্ষ আকারে (ঋণপত্র, গ্যারান্টি ইত্যাদি) ঋণ দিতে পারে না।

এর বেশি দিতে হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন নিতে হয়। ফলে এটি একটি সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া হয়ে দাঁড়ায়। এতে প্রকল্পে অর্থায়ন বিলম্বিত হয়। প্রকল্প বাস্তবায়নে বেশি সময় লেগে

যায়। এতে বেড়ে যায় খরচের পরিমাণ। এ জটিলতা এড়াতে ভালো গ্রাহকদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল, যারা ঋণখেলাপি নন, ব্যাংকিং খাতে যেসব শিল্পপতি ও উদ্যোক্তার সুনাম রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে একক ঋণসীমা তুলে দিতে হবে। যাতে তারা চাহিদা অনুযায়ী ঋণ নিতে পারেন।

উদ্যোক্তারা জানান, অর্থমন্ত্রীর এই ঘোষণার পর আমরা আশা করেছিলাম ভালো ঋণ গ্রাহকদের ক্ষেত্রে একক ঋণসীমার বিধিনিষেধ বাংলাদেশ ব্যাংক তুলে দেবে। কিন্তু অর্থমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দেয়ার ৩ মাস পার হলেও বিষয়টি এখনও উন্মুক্ত হয়নি। এটি বরং আগের মতোই বহাল রয়েছে।

এতে উদ্যোক্তাদের বড় অঙ্কের ঋণ নিতে ব্যাংকের পর্ষদ ও বাংলাদেশ ব্যাংকে দৌড়ঝাঁপ করতে হচ্ছে। অথচ যারা ঋণখেলাপি, তাদেরকে ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিয়ে সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ সুদে ১ বছর গ্রেস পিরিয়ডসহ সর্বোচ্চ ১০ বছরের জন্য পুনঃতফসিলের সুযোগ দেয়া হয়েছে।

ওই সময়ে অর্থমন্ত্রী আরও বলেছিলেন, ব্যাংকিং খাতে একক ব্যক্তি ঋণসীমা থাকবে না। ভালো ঋণগ্রহীতারা চাহিদা অনুযায়ী ঋণ নিতে পারবেন। কিন্তু খারাপ ঋণগ্রহীতাদের ক্ষেত্রে একক ব্যক্তি ঋণসীমা বহাল থাকবে।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘আগে ব্যাংকিং খাতে এক ব্যক্তি ঋণসীমা নিয়ে আতঙ্কে থাকতে হতো। এ নিয়ে শঙ্কায় পড়তে হতো যে, টাকা নিয়ে তা ফেরত দেবে কি না। কিন্তু আমরা চাই, একজনই ব্যাংকের সব টাকা গ্রহণ করুক। তাতে আপত্তি থাকবে না। তবে তাকে হতে হবে ভালো ঋণ পরিশোধকারী।

অর্থমন্ত্রী নিজেই প্রশ্ন করে বলেন, আর যিনি বা যারা ভালোভাবে ঋণ পরিশোধ করে দেশের অগ্রগতিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে তাকে ঋণ দেব না কেন?’

একক ব্যক্তি ঋণসীমা সংশোধনের ইঙ্গিত দিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এটি বাইবেল না যে, তা পরিবর্তন করা যাবে না। ব্যাংকিং খাতে এ ধরনের ভুল সিদ্ধান্তসহ আরও অনেক কিছু আছে, তা ধীর ধীরে ঠিক করা হবে।’

তিনি আরও বলেছিলেন, ‘একক ব্যক্তি ঋণসীমা তাদের জন্য রাখা হবে, যারা খারাপ ঋণগ্রহীতা। কিন্তু যারা ভালো ব্যবসায়ী, সৎ উদ্যোক্তা, ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে ব্যবসা করবেন, দেশের ব্যবসাবান্ধব পরিবেশে নিজেদের সম্পৃক্ত করবেন, তাদের জন্য একক ব্যক্তি ঋণসীমার প্রয়োজন নেই। পৃথিবীর কোনো দেশে এটি নেই।’

এ বিষয়ে বাংলাদেশ রফতানিকারক সমিতির সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী যুগান্তরকে বলেন, যারা ঋণ নিয়ে নিয়মিত সুদসহ ঋণ ফেরত দিচ্ছেন, তাদের বাড়তি ঋণ দিতে ব্যাংকগুলোর কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়। ব্যাংকগুলো ভালো গ্রাহকদের ডেকে নিয়ে ঋণ দেয়। ভালো গ্রাহকরা বেশি ঋণ চাইলে সেটিও দিতে চায়। কিন্তু দিতে পারে না একক ঋণসীমার কারণে। এই বিধিবিধানের আওতা থেকে ভালো গ্রাহকদের অব্যাহতি দিলে তারা বেশি ঋণ নিতে পারবে। এতে ব্যাংকের ঝুঁকির মাত্রা যেমন কমবে, তেমনি বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে। বিষয়টি কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিবেচনা করে দেখতে পারে।

তিনি আরও বলেন, সরকারি খাতের চেয়ে এখন বেসরকারি খাত অনেক বেশি এগিয়ে রয়েছে। তিনি প্রশ্ন করে বলেন, সরকারি খাতকে যদি একক ঋণসীমার আওতা থেকে অব্যাহতি দেয়া যায়, তবে বেসরকারি খাতকে দেয়া যাবে না কেন?

সূত্র জানায়, কোনো শিল্পগ্রুপ বা ব্যক্তি একক ঋণসীমার মধ্যে ঋণ নিতে চাইলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পর্ষদই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দিতে পারে। কিন্তু একক ঋণসীমার বেশি হলে তা অনুমোদনের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠাতে হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠাতে হলে তাদের শর্ত অনুযায়ী নির্ধারিত একটি প্রতিবেদনসহ পাঠাতে হয়। এ প্রতিবেদনটি তৈরি করতেও বেশ সময় লাগে। এছাড়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকে পাঠানোর পর তারা পুরো আবেদনটি পর্যালোচনা করে একটি সারসংক্ষেপ তৈরি করে।এটি করতেও বেশ সময় লেগে যায়। পরে এটি অফিসার থেকে পর্যায়ক্রমে উপপরিচালক, যুগ্ম পরিচালক, উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম), মহাব্যবস্থাপক (জিএম), নির্বাহী পরিচালক (ইডি), ডেপুটি গভর্নর পর্যন্ত যায়। ডেপুটি গভর্নর সিদ্ধান্ত না দিলে সেটি গভর্নর পর্যন্ত যায়।

এতে বেশ সময় চলে যায়। ওপর থেকে অনুমোদন পেলে সে চিঠি ব্যাংকে আসতেও বেশ সময় লাগে। এ কারণে প্রক্রিয়াটি বেশ সময়সাপেক্ষ। এতে ভালো গ্রাহকদেরও হয়রানি হতে হয়। এ জটিলতা এড়াতে ভালো গ্রাহকরা একক ঋণসীমা তুলে দেয়ার দাবি জানিয়ে আসছেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমানে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, ব্যবসা-বাণিজ্য, সরকারের রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা বেড়েছে। পাশাপাশি বেড়েছে বেসরকারি খাতে বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের সংখ্যাও। দেশের উদ্যোক্তা এখন আমদানির বিকল্প হিসেবে বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করছেন। এসব মিলে উদ্যোক্তারা এখন ৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের প্রকল্পও বাস্তবায়ন করছেন। এসব প্রকল্পে উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগ যেমন বেশি, তেমনি ব্যাংকের ঋণের পরিমাণও বেশি।

বর্তমানে ব্যাংকগুলো গ্রাহক ভেদে সাধারণত প্রকল্প ৭০ শতাংশ ঋণ দিচ্ছে, বাকি ৩০ শতাংশ দিতে হচ্ছে উদ্যোক্তাদের। এক্ষেত্রে বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে কয়েকশ কোটি টাকার ঋণের প্রয়োজন হচ্ছে। কিন্তু ব্যাংকগুলো একক ঋণসীমার কারণে চাহিদা অনুযায়ী ঋণ দিতে পারছে না।

কোনো ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন ৪০০ কোটি টাকা হলে তারা একক ঋণ হিসেবে নগদ দিতে পারে মাত্র ৬০ কোটি টাকা। আর পরোক্ষ ঋণ হিসেবে দিতে পারে ৮০ কোটি টাকা। দুইভাবে মোট ১৪০ কোটি টাকা দিতে পারে। এর বেশি দিতে গেলেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন নিতে হবে।

একক ঋণসীমার চেয়ে বেশি ঋণ নিতে গিয়ে বাড়তি জটিলতায় পড়ে সরকারি খাতের অগ্রাধিকার পাওয়া বড় প্রকল্পগুলোও। ফলে তাদের অর্থায়ন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়। এ জটিলতা এড়াতে সরকারি খাতের অগ্রাধিকার পাওয়া বড় প্রকল্পগুলোকে একক ঋণসীমার আওতা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে ১৬ মে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে একটি সার্কুলার জারি করা হয়েছে। ফলে এখন সরকারি খাতের বড় প্রকল্পগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়াই বড় অঙ্কের ঋণ নিতে পারছে।

বেসরকারি খাতের ভালো উদ্যোক্তাদেরকেও এই সুবিধা দেয়ার জন্য অর্থমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দিলেও তা এখনও দেয়া হচ্ছে না। এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে কোনো উদ্যোগও নেয়া হয়নি।

বিশ্লেষকরা বলেছেন, দেশের জিডিপিতে এখন সরকারি খাতের চেয়ে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগের অবদান বেশি। চলতি অর্থবছরের জিডিপিতে সরকারি খাতের বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৮ দশমিক ৭ শতাংশ। আর বেসরকারি খাতের বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৪ দশমিক ১৫ শতাংশ।

সরকারি খাতের চেয়ে ৩ গুণের বেশি। এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। এর জন্য বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবাহ বাড়াতে হবে। বিদায়ী বছরে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়ানোর লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। বিদায়ী বছরে এ খাতে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল সাড়ে ১৬ শতাংশ।

মে পর্যন্ত অর্জিত হয়েছে মাত্র ১০ দশমিক ২৯ শতাংশ। চলতি অর্থবছরেও যদি বেসরকারি খাতে ঋণসীমা বাড়ানোর উদ্যোগ না নেয়া হয় তবে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে না। আর এ লক্ষ্য অর্জন করতে হলে ভালো গ্রাহকদের ঋণ দেয়ার ক্ষমতা বাড়াতে হবে।

 

ও/আ

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

গভীর রাতে রাজশাহীর ৪৩ হজযাত্রীকে নিয়ে গেল বিমান

Development by: bdhostweb.com

চুরি করে নিউজ না করাই ভাল