«» মূলমন্ত্রঃ : সত্যের পথে,জনগনের সেবায়,অপরাধ দমনে,শান্তিময় সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে" আমরা বাঙালি জাতীয় চেতনায় বিকশিত মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার স্বপক্ষে সত্য এবং ধর্মমতে বস্তুনিষ্ঠ, সৎ ও সাহসী সাংবাদিকতায় সর্বদা নিবেদিত। «»

পাট নিয়ে শংকায় কুষ্টিয়ার পাট চাষিরা

রবিবার, ৩০ জুন ২০১৯ | ৬:১৫ অপরাহ্ণ | 82 বার

পাট নিয়ে শংকায় কুষ্টিয়ার পাট চাষিরা

কুষ্টিয়ার অর্থকরি ফসলের মধ্যে অন্যতম পাট। সোনালী আঁশ খ্যাত পাট নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন চাষিরা। ভরা মৌসুমেও অনাবৃষ্টির কারণে এক দিকে যেমন পাট বাড়েনি অন্যদিকে পাট পঁচানো পানি নিয়েও চিন্তিত চাষিরা। তবে কৃষি অফিস বিকল্প পদ্ধতিতে পাট পঁচানোর পরামর্শ দিচ্ছেন।

 

দৌলতপুর উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা গেছে চলতি মৌসুমে দৌলতপুর উপজেলায় মোট১৩ হাজার হেক্টর জমিতে পাট চাষ করা হয়েছে। যার উৎপাদন লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় নয় লাখ মন। চাষিরা দুই জাতের পাট চাষ করেছেন। পাট চাষিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ছাড়াও মাঠ দিবসে পাট চাষে করণীয় সম্পর্কে চাষিদেরকে দিক নির্দেশনা প্রদান করা হয়। কিন্তু বৈরি আবহাওয়ার কারণে পাটের বাড়তে পারেনি। বিভিন্ন পাট ক্ষেতে পাতা মোড়ানো রোগ দেখা দিয়েছে।

 

উপজেলার দিঘলকান্দী গ্রামের পাট চাষি জাহাঙ্গীর জানান, তিনি গতবছর ৮ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছিলেন। চলতি মৌসুমে তিনি ৫ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছেন। পাট পঁচানোর জায়গা না থাকায় তিনি পাট চাষ কমিয়ে দিয়েছেন। তিনি জানান, ভরা মৌসুমে বৃষ্টির দেখা না পাওয়ায় পাট ক্ষেতে পাতা মোড়ানো রোগ দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন বালাই নাশক প্রয়োগ করেও এ থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যাচ্ছেনা।গতবছর প্রতি মণ পাট বিক্রয় করতে হয়েছিল ১২শ’ টাকায়। এবার পাট বাড়তে পারেনি ও পাট পঁচানোর জায়গা না পাওয়ায় সনাতন পদ্ধতিতে পাট পঁচাতে হবে। ফলে পাটের রং কালো হওয়ায় কাংখিত মুল্য পাওয়া যাবেনা বলে তিনি শংকা প্রকাশ করছেন। একই কথা জানালেন ঐ গ্রামের চাষি রমজান আলি।

বর্ষা মৌসুমে প্রচুর বৃষ্টিপাত হওয়ায় চাষিরা হাজামজা গর্তে খালবিল ও নদীতে পাট পঁচাতো। কিন্তু সেই সব হাজামজা গর্ত ও পুকুরে মাছ চাষ করায় পাট পঁচানো জায়গা নেই বললেই চলে। চলতি মৌসুমে একবারেই বৃষ্টি নেই তাই অন্যের পুকুর ভাড়া নিয়ে তাতে সেচ পাম্প চালিয়ে পানির ব্যাবস্থা করে পাট জাগ দিতে হবে। এতে পাট উৎপাদন খরচ উঠবে কিনা সন্দেহ।

ধলা গ্রামের পাট চাষি হুসেন জানান, এক বিঘা জমিতে পাট উৎপাদনে খরচ হয় নয় থেকে ১০ হাজার টাকা। অথচ ব্যবসায়ি ও ফড়িয়াদের মধ্যস্বত্তভোগ হওয়ায় পাটের মুল্য ১১ থেকে ১২শ’ টাকা মণ দরে বিক্রি করতে হয়। ফলে পাট চাষ এখন লোকসানে পরিণত হয়েছে। এতে করে চাষিরা ক্রমশই পাট চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে।উপজেলা কৃষি অফিস থেকে জানান, চলতি মৌসুমে বৃষ্টিপাত না হওয়ায় পাটের গঠন বৃদ্ধি হয়নি। অনেক ক্ষেতে রোগবালাই দেখা দিয়েছে। এটি আবহওয়া জনিত বিষয়। তবুও কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তাছাড়া পাট জাড় দেওয়ার জন্য বিভিন্ন জলাশয়ে কৃত্রিমভাবে পানির ব্যবস্থা করে পাট পঁচানোর জন্য পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

 

ও/আ

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

সমুদ্র-দর্শন অথবা প্রেম- আমিনুল ইসলাম

Development by: bdhostweb.com

চুরি করে নিউজ না করাই ভাল