«» মূলমন্ত্রঃ : সত্যের পথে,জনগনের সেবায়,অপরাধ দমনে,শান্তিময় সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে" আমরা বাঙালি জাতীয় চেতনায় বিকশিত মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার স্বপক্ষে সত্য এবং ধর্মমতে বস্তুনিষ্ঠ, সৎ ও সাহসী সাংবাদিকতায় সর্বদা নিবেদিত। «»

নাটোরে শিল্পকলা একাডেমি সম্মাননা নিয়ে তুঘলকি কান্ড

শুক্রবার, ২৮ জুন ২০১৯ | ৮:৫৬ অপরাহ্ণ | 104 বার

নাটোরে শিল্পকলা একাডেমি সম্মাননা নিয়ে তুঘলকি কান্ড

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ



চিন্তা ও বিবেকের দুর্নীতিকেই সবচেয়ে বড় দুর্নীতি

পুরস্কার ও সম্মাননায় মানুষের এক চিরন্তন ভাল লাগার অনুভূতি আছে। আছে তৃপ্তি ও মর্যাদার ভালোলাগা। প্রতিটি মানুষই তাঁর কাজের মূল্যায়ণ করলে খুশি হয় । আর সেটা যদি হয়, সারা বছর গাঁটের পয়সা ,মেধা,শ্রম আর দক্ষতা দেখিয়ে একটি অঞ্চলের সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে প্রতিনিধিত্ব করা ।তাহলে তো কথায় নেই ।নাটোর জেলা শিল্পকলা একাডেমির এবারের সম্মাননা পাচ্ছেন ৫সংস্কৃতি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান। সম্প্রতি সম্মাননা মনোনয়ন কমিটি ৪ব্যক্তি ও একটি প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা দেওয়ার সুপারিশ করেছেন। আর এটা নিয়েই নাটোরের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে বইছে সমলোচনার ঝড় ।।

সম্মাননার পুরস্কার মাঝে মাঝে বিদ্রুপের খোরাক হয়ে ওঠে।পুরস্কারের দলীয়করণ নিয়ে কচলাকচলি সেও নতুন কথা নয়। রাষ্ট্রীয় বিবেচনায় ব্যক্তির নিজস্ব প্রত্যাশার প্রতিফলন না হলে পুরস্কার প্রত্যাশীরা ফেসবুক স্ট্যাটাসে ক্ষোভ জানান এবং সেই ক্ষোভের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় প্রত্যাশিত পুরস্কারটিও জুটে যায়, এমন ঘটনাও নিকট অতীতে ঘটেছে। সুতরাং সম্মাননার এসব স্মারক সময়ে সময়ে বিতর্কের স্মারকে পরিণত হয়। সম্মাননা দেয়ার আগে জুরি বোর্ড বা কর্তৃপক্ষের বিচার ও বিবেচনার পদ্ধতি অধিকাংশ ক্ষেত্রে এসব বিতর্কের মূল কারণ।সমাজ বিনির্মাণে যাদের সত্যিকার অবদান রয়েছে তাদের বিড়ম্বনায় ফেলে দিচ্ছেন। পদক ও সম্মাননার এমন অপপ্রয়োগ দেখে প্রকৃত সম্মানিত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান আজ অনেক ক্ষেত্রেই লজ্জিত হন।

যেমনটা লজ্জিত হয়েছে নাটোরের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের নিবেদিতপ্রান কর্মীরা ।।প্রতিবছর জেলা শিল্পকলা একাডেমি সংস্কৃতিতে অবদান রাখা বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা দিয়ে আসছে। সম্মাননা পাওয়া ব্যক্তিরা হচ্ছে, কণ্ঠ সংঙ্গীতে আব্দুর রাজ্জাক, নাট্যকলায় ওবায়দল হক, লোকসংস্কৃতিতে আব্দুল আওয়াল, যন্ত্রশিল্পী বাবলু দাস এবং প্রতিষ্ঠান ক্যাটাগরিতে মনোবীনা সংঘ।

আর এই মনোনয়ন পাওয়া ব্যক্তিদের নাটোরের সংস্কৃতিঅঙ্গনে কতখানি অবদান তা নিয়ে যেমন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে এবং ঠিক তেমনি জুড়ি বোর্ডের সদস্যদের সংস্কৃতিক জ্ঞান নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। নাটোরের সংস্কৃতিকে যাদের অবদান অনস্বীকার্য তাদের বাদ দিয়ে ভূঁইফোড় কিছু ব্যক্তিকে সন্মাননার জন্য মনোনয়ন দিয়েছে ।। আর এই মনোনয়নের নেপথ্যে কলকাঠি নেড়েছেন নাটোরের আলোচিত কালচারাল অফিসার বেয়াদব শাহাদাৎ হোসেন ।। যার বিরুদ্ধে ঘুষ,দূর্ণীতি ও অনিয়মেরর বহু অভিযোগ রয়েছে ।

একাডেমির এবারের সম্মাননা পাচ্ছেন কণ্ঠ সংঙ্গীতে আব্দুর রাজ্জাক । উনার নাটোরের সাংস্কৃতিকে কি অবদান রয়েছে ।নাটোরের সংস্কৃতি অঙ্গনের পরিচিতমুখ ,বিটিভি ও বেতারের বিশেষ গ্রেডের ও দেশবরণ্যে কন্ঠশিল্পীদের বাদ দিয়ে কারা তাকে নির্বাচিত করলো । শুনলাম উনার বয়স হয়েছে ।কখন মরে যায় বলা যায় না ।তাই আব্দুর রাজ্জাককে কন্ঠশিল্পে সম্নাননা দেয়া হয়েছে। জুড়িদের কাছে যোগ্যতা বা অবদানের চেয়ে যদি বয়সই বিবেচ্য হয় তাহলে যন্ত্রশিল্পে বাবলু দাসকে কেন দেয়া হলো ? এক্ষেত্রে সন্মাননা পাওয়ার সবচেয়ে যোগ্য ব্যক্তি অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক সত্তোর্ধ শাহজামাল স্যার ।নাট্যকলায় ওবায়দল হক,। উনার নাটোরের নাট্যকলায় কি অবদান ? সাকামে যারা নিজেদের গাঁটের পয়সা খরচ করে নাটোরের নাট্যঙ্গনকে সারা বছর মুখরিত রাখে । কিংবা নাটকের মানুষ ইঙ্গিত থিয়েটারের সুখময় রায় বিপ্লুসহ প্রকৃত সক্রিয় নাট্যকর্মীদের নাম আসেনি । লোকসংস্কৃতিতে আব্দুল আওয়াল, উনি আবার কে ? কাউকেই চিনলাম না ।। সবচেয়ে আশ্চর্যজনক ব্যাপার হলো..জুড়ি বোর্ডের অন্যতম একজন সদস্য সাদিকুল ইসলাম সাাদী মনোবীনা সংঘের সভাপতি ।এবার প্রতিষ্ঠান ক্যাটাগরিতে মনোবীনা সংঘকেই সন্মাননার জন্য মনোনয়ন দেয়া হয়েছে।

যাত্রাশিল্পী ফারুক,নৃত্যশিল্পী সৌরভ আর কালচারাল অফিসার বেয়াদব শাহাদাৎ কিভাবে জুড়িবোর্ডের সদস্য হোন ।উনারা নাটোরের সংস্কৃতির ইতিহাস কতটুকু জানে ।।তাদের কি যোগ্যতা আছে ? যোগ্যতা নেই বলেই তারা অলোকা ভৌমিককে চিনেনা ।খাবারের টাকা বাঁচিয়ে ২০টি বই লিখে দেশ বিদেশের মানুষের প্রশংসা পেয়েছেন নাটোরের অলোকা ভৌমিক। অলোকা ভৌমিককে শিল্পকলা একাডেমির সম্মাননা দেয়া হবে জানিয়েছিলেন জেলা প্রশাসক। কিন্তু কমিটির সদস্যরা অলোকা ভৌমিককে না চেনায় নাকি সেটা দেয়া সম্ভব হয়নি! জেলা প্রশাসকের কথাও যদি কমিটি উপেক্ষা করে তবে আমরা কোন রাজ্যে আছি? শুধুই দুর্ভাগ্যজনক ছাড়া বলার কিছু নাই।নাটোরে কন্ঠসংগীতে,নাট্যকলায়,লোক সংস্কৃতিতে যারা অবদান রেখে আসছে তাদের আমরা চিনি ।। জানি ।। তারা কোথায় ? প্রকৃত সম্মাননা পাওয়ার যোগ্যদের বাদ দিয়ে ভূইফোঁড় চারজনকে কারা মনোনীত করলো ।

দ্রুত এ সব অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে পুরোপুরিই আস্থা হারাবে এই স্বীকৃতি।এই সম্মান দেয়া নিয়ে যেন চলছে তুঘলকি কাণ্ড। বুঝে-না বুঝে দেয়া হচ্ছে পুরষ্কার। জুড়ি বোর্ডের সদস্যদের নাটোরের সংস্কৃতির জ্ঞান নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এই সম্নাননা নিয়ে আছে, নানা প্রশ্ন। যত দিন যাচ্ছে ততই বাড়ছে বিতর্ক। নানা অসঙ্গতি তুলে ধরেছেন সংস্কৃতিক ব্যক্তিরা।

 

 

 

ও/আ

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

রাজশাহীতে সাংবাদিক রফিকুলের উপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন

Development by: bdhostweb.com

চুরি করে নিউজ না করাই ভাল