«» মূলমন্ত্রঃ : সত্যের পথে,জনগনের সেবায়,অপরাধ দমনে,শান্তিময় সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে" আমরা বাঙালি জাতীয় চেতনায় বিকশিত মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার স্বপক্ষে সত্য এবং ধর্মমতে বস্তুনিষ্ঠ, সৎ ও সাহসী সাংবাদিকতায় সর্বদা নিবেদিত। «»

আর্থিক খাত সংস্কার

দুর্বল আর্থিক প্রতিষ্ঠান মার্জারে আইন হচ্ছে

শুক্রবার, ২১ জুন ২০১৯ | ৫:৫৪ পূর্বাহ্ণ | 50 বার

দুর্বল আর্থিক প্রতিষ্ঠান মার্জারে আইন হচ্ছে

দুর্বল আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে (ব্যাংক ও নন ব্যাংক) একে অপরের সঙ্গে মার্জার বা একীভূত করতে আইনি কাঠামো হচ্ছে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনে ব্যাংক কোম্পানি আইন সংশোধন করা হবে। আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এই ঘোষণা দিয়েছেন।

বাজেট বক্তৃতায় তিনি আর্থিক খাত সংস্কারে ৬ দফা কর্মসূচির কথা উল্লেখ করেছেন। এর মধ্যে ৩ নম্বরে রাখা হয়েছে ব্যাংক মার্জারের বিষয়টি।

সূত্র জানায়, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মার্জারে বর্তমানে সুনির্দিষ্টভাবে কোনো আইনি কাঠামো নেই। ফলে দুর্বল কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান স্বেচ্ছায় মার্জার বা একীভূত হচ্ছে না। তাদের দুর্বলতার কারণে গ্রাহকরা টাকা ফেরত না পেলে পুরো আর্থিক খাতের দুর্নাম হচ্ছে। এ দুর্নাম এড়াতে বা আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা রক্ষায় দুর্বল ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে বাধ্যতামূলকভাবে একে অপরের সঙ্গে মার্জার ও একীভূত হতে পারে, সেজন্য ব্যাংক কোম্পানি আইন সংশোধন করা হবে।

আইনের সংশোধন এমনভাবে করা হবে যাতে কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সার্বিক অবস্থা দুর্বলতার একটি স্তরে নেমে গেলে তারা নিজেরাই অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মার্জার হয়ে উদ্ধারের পথ খুঁজতে পারে।

এদিকে এর আগে এ সরকার ক্ষমতায় আসার পর ব্যাংকিং খাতে সংস্কারের বেশকিছু উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে ৭টি কমিটি গঠন করা হয়। এর মধ্যে ব্যাংক মার্জারের বিষয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা করতে আর্থিক স্থিতিশীলতা বিভাগের মহাব্যবস্থাপক ড. মো. কবির আহমদের নেতৃত্বে একটি কমিটি রয়েছে।

এ কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগ এবং অফ সাইট সুপারভিশন বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। ওই কমিটি এখন এ বিষয়ে কাজ করছে। তারা এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রণয়ন করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগের মহাব্যবস্থাপকের কাছে দাখিল করবে। পরে এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।

এ প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, পুরো আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা নষ্ট বা দুর্নাম করার জন্য একটি দুর্বল ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানই যথেষ্ট। কোনো কারণে একটি ব্যাংক আমানতকারীদের টাকা দিতে না পারলে তা গ্রাহকদের আস্থায় চিড় ধরায় এবং এটি দ্রুত ক্যান্সারের মতো পুরো ব্যাংকিং খাতে ছড়িয়ে পড়ে। এ কারণে কোনো প্রতিষ্ঠান দুর্বল হলে তা প্রকাশের আগেই প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।

এজন্য ব্যাংকের কোন কোন সূচক কী অবস্থায় গেলে সেটিকে দুর্বল হিসেবে চিহ্নিত করে মার্জারের সংকেত দেয়া যায়, সেটি চূড়ান্ত করতে হবে। এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় ব্যাংককেই দায়িত্ব নিতে হবে।

সূত্র জানায়, বর্তমানে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মার্জারের বিষয়ে কোনো আইনি কাঠামো না থাকলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একটি সংক্ষিপ্ত নীতিমালা রয়েছে। এ নীতিমালায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান নিজেরা প্রয়োজন মনে করলে এক প্রতিষ্ঠান অন্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মার্জার হতে পারবে। এক্ষেত্রে দুই প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের সভায়ই মার্জারের বিষয়টি অনুমোদিত হতে হবে। এরপর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন নিতে হবে। এই নীতিমালায় দুর্বলতা বা অন্য কোনো কারণে মার্জারের বিষয়টি বাধ্যতামূলক করা হয়নি। যে কারণে কোনো প্রতিষ্ঠান দুর্বল হয়ে গ্রাহকদের আমানতের টাকা পরিশোধ করতে না পারলেও মার্জার হতে চায় না। কেননা মার্জার হলে ওই প্রতিষ্ঠানের আর অস্তিত্ব থাকে না।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বর্তমানে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বেশকিছু প্রতিষ্ঠানের অবস্থা অত্যন্ত দুর্বল। তারা গ্রাহকদের আমানতের টাকাও পরিশোধ করতে পারছে না। যে কারণে আর্থিক খাতের দুর্নাম হচ্ছে। আইনি সীমাবদ্ধতার কারণে এদের কেন্দ্রীয় ব্যাংক মার্জারও করতে পারছে না। এর মধ্যে নতুন নামে পরিচালিত পদ্মা ব্যাংক ও আইসিবি ইসলামিক ব্যাংককে দুর্বলতা থেকে উদ্ধার করতে বিশেষ প্যাকেজের আওতায় তদারকি করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

 

ও/আ

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

গভীর রাতে রাজশাহীর ৪৩ হজযাত্রীকে নিয়ে গেল বিমান

Development by: bdhostweb.com

চুরি করে নিউজ না করাই ভাল