«» মূলমন্ত্রঃ : সত্যের পথে,জনগনের সেবায়,অপরাধ দমনে,শান্তিময় সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে" আমরা বাঙালি জাতীয় চেতনায় বিকশিত মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার স্বপক্ষে সত্য এবং ধর্মমতে বস্তুনিষ্ঠ, সৎ ও সাহসী সাংবাদিকতায় সর্বদা নিবেদিত। «»

জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার উদ্বোধন

কর্মস্থল-বাসস্থানে গাছ লাগান, সন্তানদের উদ্বুদ্ধ করুন-প্রধানমন্ত্রী

শুক্রবার, ২১ জুন ২০১৯ | ৫:৫০ পূর্বাহ্ণ | 48 বার

কর্মস্থল-বাসস্থানে গাছ লাগান, সন্তানদের উদ্বুদ্ধ করুন-প্রধানমন্ত্রী
ছবি-সংগৃহীত

নতুন প্রকল্প গ্রহণকালে প্রাকৃতিক জলাধার সৃষ্টি ও তা সংরক্ষণ এবং অধিক হারে বৃক্ষরোপণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, প্রত্যেকে কর্মস্থল ও বাসস্থানে গাছ লাগান এবং সন্তানদের পরিবেশ সম্পর্কে সচেতন করুন।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। পরিবেশ, বন এবং জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী ও মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুল্লাহ আল মোহসীন চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, সংসদ সদস্য, সরকারের বিভিন্ন পদস্থ কর্মকর্তা, দফতর এবং বিভাগের প্রধান, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক-রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনার এবং উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে ‘বঙ্গবন্ধু অ্যাওয়ার্ড ফর ওয়াইল্ড লাইফ কনজারভেশন-২০১৯, বৃক্ষরোপণে প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় পুরস্কার-২০১৮ ও সামাজিক বনায়নের লভ্যাংশের চেক এবং একইসঙ্গে পরিবেশ সংরক্ষণে ভূমিকা রাখার জন্য জাতীয় পরিবেশ পদক-২০১৯ প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী।

সরকার প্রধান বলেন, ‘বিভিন্ন প্র্রজেক্ট নেয়ার সময় দেখেছি যেখানে জলাধার রয়েছে সেটা ভরাট করে বিল্ডিং তোলা হচ্ছে। এই করতে করতে ঢাকা শহরে যতগুলো খাল, পুকুর ছিল এখন আর তা নেই।’ তিনি বলেন, ‘একটি সংস্থার পরামর্শে পূর্বের সরকার এ কাজ শুরু করে দিল।

আমাদের বক্স কালভার্ট করার কোনো প্রয়োজন নেই। আমাদের খালগুলোকে ওভাবে রেখেই আমরা কিন্তু খালের দুই পাড় দিয়ে রাস্তা করতে পারি অথবা আমরা সেখানে এলিভেটেড রাস্তাও করে দিতে পারি।’

শেখ হাসিনা বলেন, সভ্যতা এবং তার ক্রমবিকাশ অবশ্যই অব্যাহত থাকবে। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে আমাদের সর্বক্ষেত্রেই এ বিষয়টা লক্ষ্য রাখতে হবে যে, আমাদের পরিবেশটাকেও রক্ষা করতে হবে।

সবাইকে গাছ লাগানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রত্যেকেই নিজের কর্মস্থল ও বাসস্থানে গাছ লাগাবেন। অন্তত, একটি করে বনজ, ফলদ এবং ভেষজ গাছ লাগান। ছেলেমেয়েদেরও বৃক্ষরোপণ কাজে উদ্বুদ্ধ করুন।’ তিনি বলেন, ‘শুধু গাছ লাগালেই হবে না, পরিচর্যাও করতে হবে। প্রত্যেকে নিজের এলাকায় যত ইচ্ছে গাছ লাগান। এতে কয়েক বছর পর টাকাও পাওয়া যায়, বছর বছর ফলও পাওয়া যায়।’

এ সময় প্রধানমন্ত্রী আজিমপুর গার্লস স্কুলে পড়ার সময় বান্ধবীদের সঙ্গে নিয়ে গাছ লাগানোর স্মৃতিচারণ করেন।

সরকার প্রধান বলেন, মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছি। কিন্তু এ কারণে ধ্বংস হয়ে গেছে সেখানকার পাহাড়ি বন। পরিবেশ দূষণে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা নিজেরা আর ক’দিন থাকব। কিন্তু আমাদের বংশধররা যেন সুন্দরভাবে বাঁচতে পারে, টিকে থাকতে পারে, সে জন্য শতবর্ষব্যাপী ডেল্টা প্ল্যান নিয়ে কাজ করছি।

তিনি বলেন, ‘আমরা একশ’টি অর্থনৈতিক অঞ্চল করে যাচ্ছি। এর প্রতিটি জায়গায়ই জলাধার থাকবে এবং বৃক্ষরোপণ করা হবে। এমনকি আমরা যথন হাউজিং প্ল্যান করছি সেখানেও জলাধারের ব্যবস্থা রাখছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যত বেশি যন্ত্রের ব্যবহার করছি তত বেশি পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। রান্নার ধোঁয়া, ডিটারজেন্ট, সাবান, শ্যাম্পু, মনুষ্য বর্জ্য, ইটভাটা, বিভিন্ন কেমিক্যাল পরিবেশ দূষণ করছে। মনুষ্যসৃষ্ট এসব দূষণের হাত থেকে পরিবেশকে রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের মোট ভূমির ২০ ভাগ বনায়ন করতে হবে। এ ছাড়া যে বনগুলো আছে তা রক্ষা করতে হবে। নদী ড্রেজিং, নদী প্রবহমান রাখতে হবে। বিভিন্ন দ্বীপে প্রচুর বৃক্ষরোপণ করতে হবে।’

যানবাহনের কালো ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ঢাকাসহ সব বড় শহরগুলোতে বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকারি সংস্থাসমূহ সমন্বিত কার্যক্রম পরিচালনা করছে।’

ঝড়-জলোচ্ছ্বাসসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রতিরোধে সারা দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে সবুজ বেষ্টনী গড়ে তুলতে সরকারের উদ্যোগের বিষয়ও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘উপকূলীয় এলাকায় সবুজ বেষ্টনী সৃজন এবং বনভূমির ডিজিটাল ম্যাপ প্রস্তুত করা হচ্ছে।’

জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবেলায় তার সরকার নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলায় লাগসই প্রকল্প গ্রহণের জন্য কান্ট্রি ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যান-সিআইপি ২০১৬-২১ প্রণয়ন করা হয়েছে।’

শেখ হাসিনা দারিদ্র্য বিমোচনে তার সরকারের অন্যতম কৌশল সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির সাফল্য তুলে ধরে বলেন, ‘বনের পাশে এবং প্রান্তিক ভূমিতে বসবাসরত দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করে সামাজিক বন সৃষ্টি করা হচ্ছে। যেখানে সরকারি জমিতে বৃক্ষরোপণ  ও পরিচর্যাকারী ব্যক্তি বা সংগঠনকে বনজসম্পদ থেকে আহরিত লভ্যাংশের ৭৫ ভাগ দেয়া হয়। বাকি ২৫ ভাগ সরকারের রাজস্ব খাতে জমা হয়।’

তিনি বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বিপর্যয় মোকাবেলায় আমরা ক্লাইমেট চেঞ্জ স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড অ্যাকশন প্ল্যান (বিসিসিএসএপি) প্রণয়ন করেছি। এ ছাড়া নিজস্ব উদ্যোগে ক্লাইমেট চেঞ্জ ট্রাস্ট ফান্ড গড়ে তুলেছি। ইতিমধ্যে ক্লাইমেট চেঞ্জ ট্রাস্ট ফান্ডে ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।’ বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী সুন্দরবন রক্ষণাবেক্ষণে সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচির কথা তুলে ধরেন।

জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক অভিঘাত মোকাবেলায় বর্তমান সরকারের গৃহীত উদ্যোগের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৫ সালে জাতিসংঘ প্রধানমন্ত্রীকে লিডারশিপ ক্যাটাগরিতে ‘চ্যাম্পিয়ন্স অব দি আর্থ’ পুরস্কারে ভূষিত করে। অনুষ্ঠানে তিনি সে কথাও স্মরণ করেন। বক্তব্য শেষে প্রধানমন্ত্রী পরিবেশ ও বৃক্ষমেলার উদ্বোধন করেন এবং বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন।

অনুষ্ঠানস্থল থেকে গাজীপুরে ‘শেখ কামাল ওয়াইল্ড লাইফ সেন্টার’ এবং পরিবেশ অধিদফতরের জন্য নতুন ভবনও উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানের শুরুতে পরিবেশ ও বনের ওপর একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। প্রতি বছর ৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালিত হলেও এ বছর ঈদুল ফিতরের কারণে দিবসটি পিছিয়ে উদ্যাপন করা হয়। জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচি এ বছর বিশ্ব পরিবেশ দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করেছে ‘বায়ুদূষণ।’

 

 

ও/আ

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

গভীর রাতে রাজশাহীর ৪৩ হজযাত্রীকে নিয়ে গেল বিমান

Development by: bdhostweb.com

চুরি করে নিউজ না করাই ভাল