«» মূলমন্ত্রঃ : সত্যের পথে,জনগনের সেবায়,অপরাধ দমনে,শান্তিময় সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে" আমরা বাঙালি জাতীয় চেতনায় বিকশিত মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার স্বপক্ষে সত্য এবং ধর্মমতে বস্তুনিষ্ঠ, সৎ ও সাহসী সাংবাদিকতায় সর্বদা নিবেদিত। «»

আনন্দ-উচ্ছ্বাসে ঈদুল ফিতর উদযাপিত

শনিবার, ০৮ জুন ২০১৯ | ৪:৩৯ পূর্বাহ্ণ | 93 বার

আনন্দ-উচ্ছ্বাসে ঈদুল ফিতর উদযাপিত
ছবি -সংগৃহীত

রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে যথাযোগ্য মর্যাদা, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও আনন্দ-উচ্ছ্বাসের মধ্য দিয়ে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়েছে। বুধবার ঈদের দিন বৃষ্টি বিঘ্নিত হলেও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনে তা তেমন বাধা সৃষ্টি করতে পারেনি।

দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমান বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেই ঈদের নামাজ আদায়ের মধ্যদিয়ে শুরু করে প্রধান ধর্মীয় এ উৎসব। আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে ধর্মপ্রাণ মানুষ সকালে ভারি বর্ষণ উপেক্ষা করে কেন্দ্রীয় ঈদগাহসহ, মসজিদ ও বিভিন্ন ময়দানে আয়োজিত ঈদ জামাতে ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন।

সকাল সাড়ে ৮টায় রাজধানীতে প্রধান ঈদ জামাত হয় হাইকোর্টসংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহে। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হাসান, মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, সংসদ সদস্য, সুপ্রিমকোর্ট ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি, বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতা, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন মুসলিম দেশের কূটনীতিকসহ সর্বস্তরের লাখো মানুষ সেখানে নামাজ আদায় করেন।

নামাজ শেষে রাষ্ট্রপতি উপস্থিত সবার সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। জাতীয় ঈদগাহে জামাতের ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ মিজানুর রহমান। নামাজ শেষে সমগ্র মুসলিম উম্মাহসহ দেশ ও জাতির কল্যাণ, সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন জাতীয় ঈদগাহের এ জামাতের আয়োজন করে। রাষ্ট্রপতি ঈদগাহে পৌঁছলে সিটি মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন তাকে স্বাগত জানান। মহিলা ও বিদেশি কূটনীতিকদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা ছিল। মুসল্লিদের জন্য অজু, খাবার পানি ও মোবাইল টয়লেটেরও ব্যবস্থা ছিল।

জাতীয় ঈদগাহে সুষ্ঠুভাবে ঈদ জামাত আয়োজনে নেয়া হয় তিন স্তরের বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সব প্রবেশ পথ এবং ভিভিআইপি ও ভিআইপিদের নামাজের স্থানসহ মাঠের গোটা প্যান্ডেলে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। মুসল্লিদের ঈদগাহে প্রবেশের আগে মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে নিরাপত্তা তল্লাশির পর আর্চওয়ে দিয়ে প্যান্ডেলে প্রবেশ করতে হয়েছে। সাদা পোশাকে র্যাব এবং পুলিশ সদস্যরা সার্বক্ষণিক তৎপর ছিলেন।

ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন এবার ৫৬৮টি স্থানে ঈদ জামাতের আয়োজন করে। দক্ষিণ সিটির ৭৪টি ওয়ার্ডের প্রত্যেকটিতে ৪টি করে এবং জাতীয় ঈদগাহ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মাঠসহ ২৯৮টি স্থানে ঈদ জামাত হয় এবং উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ৫৪টি ওয়ার্ডে ৫টি করে ২৭০টি ঈদ জামাত হয়।

রাজধানীতে দ্বিতীয় বৃহত্তম জামাত হয় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে। এখানে এবারও ৫টি জামাত হয়। প্রথম জামাত হয় সকাল ৭টায়। এরপর সকাল ৮টা, ৯টা, ১০টা ও পৌনে ১১টায় পরবর্তী জামাত হয়।

প্রথম জামাতে ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররমের পেশ ইমাম হাফেজ মুফতি মুহিবুল্লাহিল বাকী নদভী, দ্বিতীয় জামাতে বায়তুল মোকাররমের পেশ ইমাম মুফতি মহিউদ্দিন কাসেম, তৃতীয় জামাতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক ড. মাওলানা মুশতাক আহমাদ, চতুর্থ জামাতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মুহাদ্দিস মাওলানা ওয়ালীয়ূর রহমান খান এবং পঞ্চম ও সর্বশেষ জামাতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সহকারী পরিচালক মাওলানা জুবাইর আহাম্মদ আল আযহারী ইমামতি করেন।

জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় সকাল সাড়ে ৮টায় ঈদুল ফিতরের জামাতের আয়োজন করা হয়। এখানে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, জাতীয় সংসদের হুইপ, সংসদ সদস্য ও সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ স্থানীয় মুসল্লিরা অংশগ্রহণ করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) কেন্দ্রীয় মসজিদে ঈদের দুটি জামাত হয়। প্রথম জামাত হয় সকাল ৮টায় এবং দ্বিতীয় জামাত হয় সকাল ৯টায়। ঢাবির সলিমুল্লাহ মুসলিম হল মেইন গেটসংলগ্ন মাঠে সকাল সাড়ে ৮টায় ও ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ হল লনে সকাল ৮টায় পৃথক দুটি ঈদ জামাত হয়।

প্রতি বছরের মতো এবারও কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় দেশের অন্যতম বৃহৎ ঈদের জামাত হয়। এবার শোলাকিয়ায় ১৯২তম ইদুল ফিতরের জামাত হয় সকাল ১০টা ২৫ মিনিটে। ইমামতি করেন বাংলাদেশ ইসলাহুল মুসলেমিন পরিষদের চেয়ারম্যান মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদ। এ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশবাসীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে পৃথক বাণী দিয়েছেন। এ উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাও দেশবাসীকে ঈদ শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। এ উপলক্ষে মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ৩ দিনের সরকারি ছুটি ছিল। ঈদকে কেন্দ্র করে রাজধানীর অসংখ্য মানুষ পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে গ্রামের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন।

রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও সড়ক দ্বীপে আলোকসজ্জা এবং জাতীয় ও ঈদ মোবারক খচিত পতাকা দিয়ে সুশোভিত করা হয়। এছাড়াও নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনগুলো আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হয়। ঈদুল ফিতর উপলক্ষে কেন্দ্রীয় কারাগারসহ দেশের সব কারাগার, সরকারি হাসপাতাল, ভবঘুরে কল্যাণ কেন্দ্র, বৃদ্ধাশ্রম, শিশুসদন, ছোটমণি নিবাস, সামাজিক প্রতিবন্ধী কেন্দ্র, সরকারি আশ্রয় কেন্দ্র, সেফ হোমস, দুস্থ কল্যাণ কেন্দ্র এবং শিশু ও মাতৃসদনে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হয়।

ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বাংলাদেশ বেতার, টিভি চ্যানেল ও রেডিও বিনোদনমূলক বিশেষ অনুষ্ঠানমালা সম্প্রচার করেছে। পত্রিকা ও বিভিন্ন অনলাইন সাহিত্যের নানা আয়োজন নিয়ে ঈদ সংখ্যা প্রকাশ করে। এছাড়া এবারের ঈদে বাড়তি আনন্দ হিসেবে যুক্ত হয়েছে বিশ্বকাপ ক্রিকেট। বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোতে সরকারি কর্মসূচির আলোকে ঈদুল ফিতর উদযাপনের ব্যবস্থা নেয়া হয়।

 

ও/আ

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

রাজশাহীতে সাংবাদিক রফিকুলের উপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন

Development by: bdhostweb.com

চুরি করে নিউজ না করাই ভাল