«» মূলমন্ত্রঃ : সত্যের পথে,জনগনের সেবায়,অপরাধ দমনে,শান্তিময় সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে" আমরা বাঙালি জাতীয় চেতনায় বিকশিত মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার স্বপক্ষে সত্য এবং ধর্মমতে বস্তুনিষ্ঠ, সৎ ও সাহসী সাংবাদিকতায় সর্বদা নিবেদিত। «»

মাসুম রেজার বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন মামলা, পুলিশ নির্বিকার

বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০১৯ | ৩:১৪ অপরাহ্ণ | 123 বার

মাসুম রেজার বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন মামলা, পুলিশ নির্বিকার

নাটোরের শিল্প সাহিত্য সাংস্কৃতির জগতে পরিচিত মুখ ও কথিত সাংবাদিক সৈয়দ মাসুম রেজার বিরুদ্ধে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী অত্যাচার নির্যাতনের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি করেছেন তার স্ত্রী দেশের উদীয়মান টিভি-মঞ্চ অভিনেত্রী ও বিশিষ্ট নৃত্যশিল্পী সাদিকা ইয়াসমিন সান্তনা।

এদিকে মামলা দায়েরের ৪ মাস অতিবাহিত হলেও নারী নির্যাতন ও যৌতুক আইনের মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি সৈয়দ মাসুম রেজা নাটোরে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও অজ্ঞাত কারণে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করছে না বলে অভিযোগ করেছেন বাদী সান্তনা।

মামলার বিবরণে জানা যায়, গত ২০১৫ সালের ১১ সেপ্টেম্বর রাজশাহী গোদাগাড়ি উপজেলার গোগ্রামের মরহুম সাদেক আলীর কন্যা টিভি ও মঞ্চ অভিনেত্রী সাদিকা ইয়াসমিনকে প্রথম বিয়ের কথা গোপন রেখে ইসলামী শরীয়া মোতাবেক বিয়ে করেন নাটোর শহরের আলাইপুর ধোপাপাড়া মহল্লার অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক সৈয়দ মোহাম্মদ নাসিহ’র ছেলে সৈয়দ মাসুম রেজা। এর আগে ২০০৭ সালে লীরা মল্লিক নামে এক সংস্কৃতি কর্মীকে বিয়ে করেন মাসুম রেজা। ৮ বছর সংসার করার পর মাসুমের অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে লীরা তাকে ডিভোর্স দেন।

২০১৮ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ব্যবসা করার অজুহাত দেখিয়ে যৌতুক হিসেবে ৩ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। টাকা পাওয়ার পর কিছু দিন চুপচাপ ছিল মাসুম। ২০১৮ সালের ২৮ জুন স্ত্রী সান্তনার বাবা মারা গেলে আবারো ৫ লাখ টাকা যৌতুকের দাবি করলে যৌতুকের টাকা দিতে অস্বীকার করলে তাকে আসামি মাসুম মারধর করে রক্তাক্ত জখম করে।

এমনকি রাজধানীর রামপুরার বাসায় অসুস্থ অবস্থায় একাকী ফেলে রেখে পালিয়ে নাটোরে চলে আসে। তারপর থেকে সে নাটোরে অবস্থান করে স্থানীয় একটি অনলাইন পত্রিকায় সাহিত্য সম্পাদক এবং টিভি চ্যানেলের ক্যামেরাপার্সন হিসেবে কাজ করার নামে গা ঢাকা দেয়। নিজেকে সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নেয়া শুরু করে।

এদিকে স্ত্রী সান্তনা যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে মাসুম তাকে নানা ভাবে হুমকি ধামকি দেওয়া শুরু করে এবং নিজেকে নাটোরের মন্ত্রী, এমপি, ডিসি, এসপিসহ ক্ষমতাবানদের ঘনিষ্ট লোক বলে পরিচয় দিয়ে বলেন, মাসুমের বিচার করার ক্ষমতা কারো নেই!

অন্যদিকে সান্তনা পারিবারিক ও সামাজিকভাবে বিচার না পাওয়ায় অবশেষে গত ১১ জানুয়ারি ঢাকার মূখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন এবং যৌতুক দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলা গ্রহণ করে সৈয়দ মাসুম রেজার বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করে।

এদিকে মামলার দায়েরের পর ৪মাস পেরিয়ে গেলেও অভিযুক্ত আসামি মাসুমকে গ্রেফতার না করায় সে গত ১৯ মে সান্তনার কর্মস্থল বুলবুল ললিত একাডেমীতে গিয়ে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি দিয়ে আসে। এব্যাপারে ২০ মে রাজধানীর রামপুরা থানায় সাধারণ ডাইরী করেন সান্তনা।

বাদী সান্তনা ও তার পরিবার অভিযোগ করেন, পুলিশ আসামিকে না ধরায় মামলা তুলে নেওয়ার জন্য আসামিপক্ষের লোকজন বাদী ও বাদীর পরিবারকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। ফলে তারা এখন চরম নিরাপত্তাহীতায় আছে।

জানা গেছে শুধু সান্তনা, লীরা নয়, সমাজের বেশ কয়েকজন উচ্চশিক্ষিত হাইপ্রোফাইল মেয়ের জীবন ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছেন মাসুম। তার ফাঁদে পড়ে একাধিক মেয়ের সংসার ভেঙে গেছে। এছাড়া তিনি গণমাধ্যমে কর্মরত বেশ কয়েকজন মেয়ের জীবনকেও বিভিন্নভাবে বিষিয়ে তুলেছেন।

পরিচয় গোপন রাখার শর্তে ভুক্তভোগীদের কয়েকজন চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়ে জানান, সহকর্মী উত্যক্ত করার জেরে বিজ্ঞাপনী সংস্থা এশিয়াটিক থেকে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয় তাকে। নারী সহকর্মীদের সাথে অসদচারণ, সিনিয়রদের অপমান, বিভিন্ন অনিয়মসহ নানা অভিযোগে দীপ্ত টিভি, এশিয়াটিক, মানিক মানবিকের প্রোডাকশন হাউস, বিবিসি মিডিয়া সেন্টার, সিসিমপুরসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান থেকে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।

আরো জানা গেছে, মাসুম রেজা মাঝে মধ্যে প্রোডাকশন হাউস, টিভি চ্যানেল এবং বিজ্ঞাপনী সংস্থায় কাজ করলেও নানা অনৈতিক কাজ এবং নারী সহকর্মীদের সাথে অসদচারণের কারণে বারবার চাকুরি হারিয়েছেন। তবে বিয়ের পর থেকে মাসুম তেমন কিছু করতো না। স্ত্রী সান্তনার টাকায় চলতো সংসারের খরচ। এছাড়া বিয়ের পর থেকেই ছোটখাট কথা নিয়ে ও যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী সাদিকা আফরীন সান্তনাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে অত্যাচার ও নির্যাতন করে আসছিল মাসুম।

এছাড়া মাসুমের বন্ধু জাঙ্গাঙ্গীর আলম জানান, সিসিমপুর প্রজেক্টের অধীন বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীদের চিত্রাংকনে উৎসাহী করার জন্য রাজশাহী বিশ্বদ্যিালয়ের চারুকলা বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থীকে নেয়া হয়। প্রজেক্টের কাজ শেষ হওয়ার পর মাসুম সমূদয় অর্থ তুলে নিয়ে আত্মসাৎ করে। এসময় প্রচার করে, জাঙ্গাঙ্গীর তোমাদের টাকা মেরে দিয়েছে। ফলে, শিক্ষার্থীরা ক্ষিপ্ত হয়ে জাঙ্গাঙ্গীর আটকে রেখে সমূদয় টাকা আদায় করে।

এবিষয়ে মামলার প্রধান আসামি সৈয়দ মাসুম রেজার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করে পাওয়া যায়নি।

এব্যাপারে নাটোর সদর থানার (ওসি) তদন্ত ফরিদুল ইসলাম জানান, নারী ও শিশু নির্যাতন এবং যৌতুক আইনের মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি হলে অবশ্যই তাকে গ্রেফতার করা হবে।

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

রাজশাহীতে সাংবাদিক রফিকুলের উপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন

Development by: bdhostweb.com

চুরি করে নিউজ না করাই ভাল