«» মূলমন্ত্রঃ : সত্যের পথে,জনগনের সেবায়,অপরাধ দমনে,শান্তিময় সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে" আমরা বাঙালি জাতীয় চেতনায় বিকশিত মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার স্বপক্ষে সত্য এবং ধর্মমতে বস্তুনিষ্ঠ, সৎ ও সাহসী সাংবাদিকতায় সর্বদা নিবেদিত। «»

বাগমারায় ভুয়া এনজিও ‘জনকল্যাণ সংস্থা’গ্রাহকের ২০ লাখ টাকা নিয়ে লাপাত্তা

সোমবার, ১৩ মে ২০১৯ | ২:২৯ পূর্বাহ্ণ | 190 বার

বাগমারায়  ভুয়া এনজিও ‘জনকল্যাণ সংস্থা’গ্রাহকের ২০ লাখ টাকা নিয়ে লাপাত্তা

বাগমারা প্রতিনিধি : রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার মাড়িয়া ইউনিয়নের শীতলাই গ্রামে ‘জন কল্যান সংস্থা’ নামের ভুয়া এনজিও শতাধিক গ্রাহকের প্রায় ১৫/২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে লাপাত্তা হয়েছে । মাত্র চার দিনের ব্যবধানে তারা গ্রাহকদের কাছ থেকে এ বিপুল পরিমান অর্থ হাতিয়ে নিয়ে কৌশলে উধাও হয়ে গেছে। ওই ঘটনার পর থেকে গ্রাহক ও এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা জানান, গত বৃহস্পতিবার সকালে মধ্যম বয়সী চার প্রতারক উপজেলার মাড়িয়া ইউনিয়নের শীতলাই গ্রামে যায় এবং এনজিও স্থাপনের জন্য লোকজনের সহযোগীতা চায়। এলাকার লোকজন এনজিও স্থাপনের জন্য প্রতারকদের না বুঝেই সহযোগীতা করলে তারা একই গ্রামের সাইদুর রহমান নামের এক কৃষকের বাড়ি ভাড়া নেয়। সাইদুর রহমানও সরল ভাবে তাদের ভাড়া দেয়। বাড়ি মৌখিক ভাড়া নিয়ে জন কল্যাণ সংস্থা নামের একটি এনজিওর সাইন বোর্ড ঝুলিয়ে দেয়। এছাড়াও দুইটি কক্ষে স্থানীয় ডেকোরেটর থেকে চেয়ার টেবিল ভাড়া করে অফিস সাজানো হয়। টেবিলে বিভিন্ন রেজিস্ট্রার খাতা ও ফাইল দেখা যায়। তবে ওই সংস্থার নামীয় কোন ফরম বা ছাপানো কাগজপত্র সেখানে দেখা যায়নি। গতকাল রোববার বাড়ি ভাড়ার চুক্তি করার কথা ছিল বলে স্থানীয় ইউপি সদস্য আবদুল আজিজ জানিয়েছেন। সাইন বোর্ড ঝুলানোর বিষয়টি এলাকার লোকজনকে বিশ্বাস ধরিয়ে দেয়। প্রতারকের দলটি বাড়িতে সাইন বোর্ড ঝুলিয়ে দিয়ে বৃহস্পতিবার বিকেল থেকেই এনজিও’র ঋণ প্রদানের জন্য সদস্য সংগ্রহ শুরু করে। বাড়ির মালিক বুঝে উঠার আগেই তারা হামিরকুৎসা, গোয়ালকান্দি, মাড়িয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে সদস্যদের নিয়ে সমিতি গঠন করে। দুই দিনের ব্যবধানে তারা প্রায় শতাধিক সদস্য সংগ্রহ করে যারা ঋণ গ্রহণ করবে তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে সঞ্চয় বাবদ অগ্রিম টাকা নেয়। গতকাল রোববার সকাল থেকেই গ্রাহকদের মধ্যে ঋণ বিতরণের কথা বলে মাঠ পর্যায়ে গ্রাহক সংগ্রহ ও সমিতি গঠন শুরু করে। বৃহস্পতিবার থেকে শুরু করে গত শনিবার পর্যন্ত একই ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে গ্রাহক সংগ্রহ ও ঋণ প্রদানের জন্য শতাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে প্রায় ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা উত্তোলন করে। গত শনিবার বিকেলে প্রতারকের দলটি অফিসের আসবাবপত্র কিনার জন্য বাগমারা থেকে রাজশাহী শহরের যায়। গ্রাহকদের টাকা ছাড়াও প্রতারকের দলটি বাড়ির মালিক সাইদুর রহমানের কাছ থেকেও আসবাবপত্র কেনার জন্য ৫ হাজার টাকা বিকাশের মাধ্যমে নেয় বলে সাইদুর রহমান জানান। সঞ্চয় নেয়া গ্রাহকদের গতকাল রোববার সকাল ১০ টার দিকে অফিসে আসতে বলা হয়। গ্রাহকেরা শীতলাই গ্রামের কথিত ওই জন কল্যাণ সংস্থার অফিসে ঋণ নিতে আসলে তারা অফিসে কাউকে দেখতে না পেয়ে বিষয়টি প্রকাশ পেয়ে যায়। গ্রাহকেরা বার বার সংস্থার ব্যক্তিদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তাদের দেয়া কয়েকটি নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে প্রতারিত গ্রাহকেরা সংস্থার কার্যালয়ে ভিড় জমায়।
এ ভুয়া এনজিওটি গোয়ালকান্দি ইউনিয়নের চন্দ্রপুর গ্রামের নাসিমা বেগমের কাছ থেকে ছয় হাজার দুইশ, ফেরদৌসি নামক সদস্যের কাছ থেকে পাঁচ হাজার দুইশ, শীতলাই গ্রামের রাসেলের কাছ থেকে একুশ হাজার পাঁচশ, আলোকনগর গ্রামের গরু ব্যবসায়ী মুন্টুর কাছ থেকে দশ হাজার দুইশ, সইলুন এর কাছ থেকে দশ হাজার পাঁচশ, ফরিদ নামের সদস্যের কাছ থেকে দশ হাজার পাঁচশ, আবদুর রশিদ শাহ এর কাছ থেকে পাঁচহাজার, সমসপাড়া গ্রামের মানিক এর কাছ থেকে দশ হাজার দুইশ, কাঠালবাড়ির গিয়াস উদ্দিন ও মোমেনা বিবির কাছ থেকে দশ হাজার করে টাকা আদায় করেছে বলে তারা জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আবদুল মমিন বলেন, বাগমারা উপজেলায় জন কল্যাণ সংস্থা নামের কোন এনজিও বা সংস্থা নেই। যোগাযোগ করা হলে উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা আলাউদ্দিন বলেন, উপজেলায় সমবায় অফিসের মাধ্যমে কোন ক্ষুদ্রঋণদান সমিতি থাকলেও আমাদের আওতায় জন কল্যাণ সংস্থা নামের ঋণদান কোন সংস্থা নেই।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে বাগমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকিউল ইসলাম বলেন, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। খোঁজ খবর নেয়া শুরু করেছেন। খোঁজ খবর নিয়ে প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

সমুদ্র-দর্শন অথবা প্রেম- আমিনুল ইসলাম

Development by: bdhostweb.com

চুরি করে নিউজ না করাই ভাল