«» মূলমন্ত্রঃ : সত্যের পথে,জনগনের সেবায়,অপরাধ দমনে,শান্তিময় সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে" আমরা বাঙালি জাতীয় চেতনায় বিকশিত মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার স্বপক্ষে সত্য এবং ধর্মমতে বস্তুনিষ্ঠ, সৎ ও সাহসী সাংবাদিকতায় সর্বদা নিবেদিত। «»

সাজা দেয়া নিয়ে প্রশ্ন গাড়ি বন্ধের হুমকি

শুক্রবার, ০৩ মে ২০১৯ | ৬:৪৪ পূর্বাহ্ণ | 92 বার

সাজা দেয়া নিয়ে প্রশ্ন গাড়ি বন্ধের হুমকি

সড়ক দুর্ঘটনার কয়েকটি মামলায় উচ্চ আদালতের

সাম্প্রতিক দেয়া রায় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পরিবহন

খাতের নেতারা।

পাঁচটি মামলার রায় উল্লেখ করে মালিক ও শ্রমিক

নেতারা বলেন, সড়ক দুর্ঘটনার মামলায় যে হারে

জরিমানা করা হচ্ছে তা পরিশোধ করা কষ্টসাধ্য।

এভাবে ক্ষতিপূরণের আদেশ দেয়া হলে তারা এ

ব্যবসা ছেড়ে দেবেন। জরিমানা থেকে রেহাই

পেতে তারা গাড়ি চলাচল বন্ধের হুমকি দেন।

বৃহস্পতিবার পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের এক যৌথসভায়

এসব মামলার রায় পুনর্বিবেচনা করারও দাবি জানান তারা।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন ফেডারেশনের কার্যকরী

সভাপতি ও সাবেক নৌমন্ত্রী শাজাহান খান বলেন,

দেশের পরিবহন খাতে এখন ১০ নম্বর

সতর্কসংকেত চলছে। ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’ যেভাবে

ভয়াবহতা নিয়ে হাজির হতে যাচ্ছে, পরিবহন খাতে

এমন ভয়াবহতা ও বিভিন্ন সমস্যা অনেক দিন ধরেই

বিদ্যমান। সড়ক দুর্ঘটনার দায় এককভাবে চালকের নয়,

সারা দেশে এমন জনমত গড়ে তুলতে তিনি সভা,

সেমিনার ও আলোচনা কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি মসিউর

রহমান রাঙ্গা বলেন, গাড়ি না চালালে কৈফিয়ত দিতে হয়।

জরিমানা থেকে রেহাই পেতে গাড়ি চলাচল বন্ধের

কথা জানিয়ে তিনি বলেন, একই সময়ে আমাদের

সবার পেটের পীড়ার কারণে সাত দিন গাড়ি চলাচল

বন্ধ রাখব। দেখব তখন কী হয়!

ঢাকা মহানগর নাট্যমঞ্চে পরিবহন খাতের সাম্প্রতিক

নানা সমস্যা নিয়ে যৌথসভা অনুষ্ঠিত হয়। পরিবহন মালিক ও

শ্রমিকদের যৌথসভায় সভাপতিত্ব করেন সাবেক

নৌমন্ত্রী শাজাহান খান। সভা পরিচালনা করেন শ্রমিক

ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী।

এতে মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতারা বক্তব্য

রাখেন। সড়ক পরিবহন আইন কার্যকর না হওয়া

সত্ত্বেও পুলিশ ও প্রশাসনের অতি উৎসাহী

কর্মকর্তারা পরিবহন মালিক ও চালকদের বিরুদ্ধে মামলা

করছে বলে বেশির ভাগ বক্তা অভিযোগ করেন।

পরিবহন খাতের চাঁদাবাজি ও নানা সমস্যা তারা তুলে

ধরেন। তবে আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে

ছিল সড়ক দুর্ঘটনায় সাম্প্রতিক দেয়া রায়গুলো।

সড়ক দুর্ঘটনার পাঁচটি মামলায় উচ্চ আদালতের আদেশ

উল্লেখ করে সভায় ব্যাপক আলোচনা করা হয়।

এগুলো হল- ১৯৮৯ সালের ৩ ডিসেম্বর সড়ক

দুর্ঘটনায় সাংবাদিক মোজাম্মেল হোসেন মিন্টুর

মৃত্যুতে তিন কোটি ৫২ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণের

আদেশ, ২০১১ সালের ১৩ আগস্ট চলচ্চিত্র পরিচালক

তারেক মাসুদসহ পাঁচজনের মৃত্যুর ঘটনায় চার কোটি

৬১ লাখ টাকা জরিমানা ও চালককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

এবং ২০১৮ সালের ১৭ এপ্রিল রাজধানীতে রাজীব

হোসেন নিহত হওয়ার ঘটনায় এক কোটি টাকা

ক্ষতিপূরণের আদেশ। বাকি দুটি হল- চলতি বছরের

১৯ মার্চ আবরার আহমেদের মৃত্যুর ঘটনায় ১০ লাখ

টাকা ক্ষতিপূরণের আদেশ এবং গত বছরের ২৮

এপ্রিল রাসেল সরকার পা হারানোর ঘটনায় ১২ মার্চ

গ্রীন লাইন পরিবহনের মালিককে ৫০ লাখ টাকা

ক্ষতিপূরণের আদেশ। সভায় জানানো হয়, ২০১২

সালে ১ মে সিলেটে একটি দুর্ঘটনায় আটজন নিহত

হয়। তাদের একজনের পরিবার ১৩ কোটি ২২ লাখ

টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করে জজ কোর্টে মামলা

করেন। এটি বিচারাধীন রয়েছে।

শাজাহান খান বলেন, সড়ক দুর্ঘটনার কয়েকটি মামলায়

সর্বোচ্চ আদালত সম্প্রতি কোটি কোটি টাকা

ক্ষতিপূরণের আদেশ দিয়েছেন। যে হারে

জরিমানা করা হচ্ছে তা পূরণ করা আমাদের জন্য

দুঃসাধ্য। এসব আদেশে আমরা বিস্মিত ও বিচলিত। তিনি

বলেন, এসব মামলার রায়ে উৎসাহিত হয়ে

ক্ষতিগ্রস্তরা এখন সর্বোচ্চ আদালতে যাচ্ছে।

এভাবে ক্ষতিপূরণের আদেশ দেয়া হলে মালিক-

শ্রমিকদের এ ব্যবসা ছেড়ে চলে যাওয়ার কথা

ভাবতে হবে। কারণ ক্ষতিপূরণের টাকা পরিশোধ

করতে যদি গাড়ি বা স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি

করতে হয় এবং চালককে যাবজ্জীবন বা ফাঁসির মুখে

পড়তে হয় তাহলে এ ব্যবসা ছেড়ে দেয়াই

শ্রেয়।

মামলার রায় প্রসঙ্গে সাবেক নৌমন্ত্রী শাজাহান খান

বলেন, দেশে প্রচলিত আইনে সাজা ও

দৃষ্টান্তমূলক সাজা দেয়ার আদেশ সম্পর্কে

আমাদের মনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এসব মামলার

রায় পুনর্বিবেচনার জন্য আমরা নিবেদন জানাচ্ছি। আইন

সম্পর্কে আমাদের ধারণা হয়তো অস্পষ্ট রয়ে

যাচ্ছে।

এ অস্পষ্টতা দূর করতে আমাদের আর্জি

আইনসম্মত হলে তা ভেবে দেখার দাবি রাখছি। তিনি

বলেন, এসব আদেশ অনুরাগ-বিরাগের বর্শবর্তী

হয়ে দেয়ার বিষয় সম্পর্কে কেউ কেউ প্রশ্ন

তুলতে পারেন। তিনি বলেন, যেহেতু আইন সবার

জন্য সমান সেহেতু দেশের প্রচলিত আইন

অনুযায়ী বিচারই আমাদের প্রত্যাশা।

সড়ক দুর্ঘটনার জন্য চালক এককভাবে দায়ী নয় দাবি

করে শাজাহান খান আরও বলেন, তারেক মাসুদের

দুর্ঘটনায় বুয়েটের এআরআই’র প্রতিবেদন আমার

কাছে আছে। ওই প্রতিবেদনে বাসের চালককে

এককভাবে দায়ী করা হয়নি। অথচ ওই মামলায় চার

কোটি ৬১ লাখ টাকা জরিমানা এবং চালকের যাবজ্জীবন

জেল দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, সড়কের ত্রুটির

জন্য দুর্ঘটনায় কোনো প্রকৌশলীর কী সাজা

হয়েছে? পথচারীর কারণে দুর্ঘটনায় কোনো

পথচারীর কী সাজা হয়েছে? তিনি প্রতিটি দুর্ঘটনায়

বুয়েটের এক্সিডেন্ট রিসার্চ ইন্সটিটিউটের

(এআরআই) মাধ্যমে তদন্ত করে দোষীদের

বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান।জানান।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি মসিউর

রহমান রাঙ্গা বলেন, স্মরণকালের সর্বোচ্চ

নির্যাতনের মধ্যে আছি, সর্বোচ্চ সমস্যার মধ্যে

আছি। এখন গাড়ি চালালেও আবার না চালালেও জবাবদিহি

করতে হয়। কিন্তু অন্য খাত নিয়ে সরকারের এমন

মাথাব্যথা নেই। জরিমানা থেকে রেহাই পেতে গাড়ি

চলাচল বন্ধের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, গাড়ি না

চালালে কৈফিয়ত দিতে হয়। একই সময়ে আমাদের

সবার পেটের পীড়ার কারণে সাত দিন গাড়ি চলাচল

বন্ধ রাখব। দেখব তখন কী হয়!

সাম্প্রতিক সড়ক দুর্ঘটনা প্রসঙ্গে মালিক সমিতির

মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ বলেন, রাজধানীর

কুড়িলে সড়ক দুর্ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রের মৃত্যুর

পর সুপ্রভাত কোম্পানির গাড়ির মালিক ও চালককে

গ্রেফতার করা হয়েছে। ছাত্রদের দাবির

পরিপ্রেক্ষিতে পরে সুপ্রভাত কোম্পানির সব গাড়ি

চলাচল বন্ধ করে দেয়া হল। রাজধানীর প্রতিটি গাড়ির

মালিক ভিন্ন। একজনের অপরাধে অন্যদের সাজা

দেয়া হচ্ছে কেন? গ্রীন লাইন পরিবহনের

চালকের সব কাগজ ঠিক থাকার পরও কোন আইনে

৫০ লাখ টাকা জরিমানা করা হল? তিনি বলেন, ‘আমরা

সরকারকে কর দিচ্ছি। সেই করের টাকার বেতনে

অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত এলে আমরা যাব কোথায়?’

বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের

সভাপতি ও শ্যামলী পরিবহনের মালিক রমেশ চন্দ্র

ঘোষ বলেন, খুব দুঃসময়ে আছি। সড়ক দুর্ঘটনায়

মোটরযান অর্ডিন্যান্সে ২০ হাজার টাকা জরিমানার কথা

আছে। অথচ সীমাহীন জরিমানা করা হচ্ছে। তিনি

বলেন, পরিবহন খাতের একটি সুষ্ঠু নীতিমালা দরকার।

দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। রাস্তায় গাড়ি নামালে

জরিমানা গুনতে হয়। তবে গাড়ি বন্ধ করে দিলে

জরিমানা গুনতে হবে না।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সহ-

সভাপতি সাদেকুর রহমান হিরু বলেন, পরিবহন খাতে

আমার ৩৬ বছরের অভিজ্ঞতায় সবচেয়ে কালো ও

ভয়ঙ্কর সময় আর দেখিনি। আমরা পরিস্থিতির শিকার।

অপরাধ না করেও অপরাধী হয়ে যাচ্ছি। তিনি বলেন,

রাস্তায় লাখ লাখ মোটরসাইকেল, নছিমন, করিমন ও

ভটভটি চলছে। এর মাঝে কীভাবে চালকরা গাড়ি

চালাবেন। সড়কে চাঁদাবাজি চলছে। এটা নিয়ন্ত্রণ

করতে হবে। তিনি বলেন, ফাঁসির দড়ি মাথায় নিয়ে

চালকরা গাড়ি চালাতে পারবে না- সে কথা বলার সময়

এসেছে।

সড়ক দুর্ঘটনায় উচ্চ আদালতের রায় নিয়ে প্রশ্ন

তুলে সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সহ-

সভাপতি আবদুর রহিম বক্স বলেন, গাড়ির ফার্স্ট পার্টির

ইন্স্যুরেন্স করতে হয়। কিন্তু দুর্ঘটনা হলে

মালিকদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে কেন? এটা নিয়ে

কোনো রিট হয় না কেন? তিনি বলেন, আমরা কী

ব্যবসা করতে পারব না? এ দেশে বৈধ গাড়ির চেয়ে

অবৈধ গাড়ি বেশি। অথচ অবৈধ গাড়ির লাইসেন্স না থাকায়

সেগুলোর বিরুদ্ধে মামলা হয় না। তিনি আরও বলেন,

আমরা চাই না আইনের বাইরে গিয়ে কোটি কোটি

টাকার জরিমানা ও ১০-২০ বছর কারাদণ্ডের রায় আসুক।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের

চট্টগ্রাম অঞ্চলের সভাপতি মোহাম্মদ মূসা বলেন,

সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ এখনো কার্যকর হয়নি।

অথচ পুলিশ ও প্রশাসনের অতি উৎসাহী কর্মকর্তারা

এ আইনের প্রয়োগ করছে। তিনি বলেন,

চালকদের খুনি হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।

সড়ক দুর্ঘটনায় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় মামলা করা হচ্ছে।

এসব কারণে অনেক চালক পেশা ছেড়ে

দিচ্ছেন। এ খাতে ব্যবসা করবেন কিনা তা নিয়ে

অনেকে সংশয়ে আছেন।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক

হোসেন আহমেদ মজুমদার বলেন, সড়ক পরিবহন

আইনের ৯৮, ৯৯, ১০০ ও ১০৫ নম্বর ধারা পরিবহন

শিল্পের জন্য আত্মঘাতী। মালিক ও শ্রমিকদের

উদ্দেশে তিনি প্রশ্ন রাখেন এভাবে চলতে পারে

কিনা। সবাই না বলে তার কথায় সায় দিলে তিনি সবাইকে

রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। এ বক্তব্যের মাঝে

তাকে থামিয়ে শাজাহান খান বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায়

কোটি কোটি টাকা জরিমানার কথা আইনে নেই। বলা

হচ্ছে, দৃষ্টান্ত স্থাপনের জন্য কোটি কোটি টাকা

জরিমানা করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, আইনের

বাইরে গিয়ে কী দৃষ্টান্ত স্থাপন করা যায়? বক্তার

উদ্দেশে শাজাহান খান আরও বলেন, এটা নিয়ে

কীভাবে জনমত তৈরি করবেন সে সম্পর্কে

বলেন। এরপর ওই বক্তা (হোসেন আহমেদ)

বলেন, যেসব কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে তা

সবাইকে পালন করতে হবে। কর্মসূচি সফলভাবে

পালন করার আহ্বান জানান তিনি।

 

ও/আ

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

সমুদ্র-দর্শন অথবা প্রেম- আমিনুল ইসলাম

Development by: bdhostweb.com

চুরি করে নিউজ না করাই ভাল