«» মূলমন্ত্রঃ : সত্যের পথে,জনগনের সেবায়,অপরাধ দমনে,শান্তিময় সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে" আমরা বাঙালি জাতীয় চেতনায় বিকশিত মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার স্বপক্ষে সত্য এবং ধর্মমতে বস্তুনিষ্ঠ, সৎ ও সাহসী সাংবাদিকতায় সর্বদা নিবেদিত। «»

ইন্টারনেট ব্যবহার করে কৃষিতে স্বাবলম্বী তিস্তাপারের নারী

শুক্রবার, ২৯ মার্চ ২০১৯ | ৫:০৯ পূর্বাহ্ণ | 98 বার

ইন্টারনেট ব্যবহার করে কৃষিতে স্বাবলম্বী তিস্তাপারের নারী

ইন্টারনেট ব্যবহার করে তিস্তাপারের নারীরা অথনৈতিক বিপ্লব ঘটিয়ছে। এলাকার সবজি চাষে এনেছে ব্যাপক সাফল্য। কম খরচে বাড়ির পাশের পতিত জমিতে সবজি চাষ করে লাভবান হওয়ায় দিনে দিনে আরও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এ পদ্ধতি।

সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে অর্থনীতিতে বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারবে তিস্তার পারের দরিদ্র ও হতদরিদ্র নারীরা। ২০১০ সালের তিস্তার পারের দরিদ্র ও হতদরিদ্র নারীদের অক্সফামের অর্থায়নে স্বাবলম্বী করার জন্য পল্লীশ্রী রি-কল প্রকল্পটি কাজ শুরু করে। প্রকল্পের আওতায় ২০১৫ সালে ডিসেম্বর মাসে প্রতীক প্রকল্পের উদ্যোগে তিস্তার পারের ১শ’ উদ্যমী নারীকে স্মার্ট ফোন বিতরণ করা হয়।

অস্ট্রেলিয়ার মোনাশ ইউনির্ভাসিটির অর্থায়নে অক্সফাম ইন বাংলাদেশের সহযোগিতায় প্রতীক প্রকল্পটি টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের দক্ষিণ খড়িবাড়ী গ্রামে কাজ করছে। স্মার্ট ফোন ব্যবহারের ওপর প্রশিক্ষণ প্রদান, ফেসবুক আইডি খুলে দেয়া, ফোনের মাধ্যমে উপজেলা কৃষি অফিস, ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের মাধ্যমে কৃষি তথ্য সংগ্রহ করে সবজি ও কৃষি চাষ করা বিষয়ে ব্যবহার করে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন তিস্তার পারের নারীরা।

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের তিস্তার পারের চরের পতিত জমিতে ফসল ও সবজি চাষ করে ব্যাপক সাফল্য পাচ্ছেন। স্মার্ট ফোন ও কৃষি প্রযুক্তির মাধ্যমে এলাকার কৃষকদের সহায়তা করে আসছেন এসব নারী। তিস্তারপারের এসব নারী গুগলের মাধ্যমে ঘরে বসে অনলাইন সেবা গ্রহণ করছে।

স্মার্ট ফোনের তথ্যপ্রাপ্তির জন্য কমিউনিটিভিত্তিক নারীদের কৃষি সার্ভিস সেন্টার গড়ে তোলা হয়েছে। এলাকার প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত উদ্যোগী নারীরা টাওয়ার বা থ্রিডি পদ্ধতি ব্যবহার করে বস্তার মধ্যে মাটি ও জৈব সার মিশিয়ে বস্তার ভেতরে সবজি চাষ করে আসছেন যাতে বন্যায় কোনো ক্ষয়ক্ষতি না হয়।

এমন একজন উদ্যমী সদস্য শারীরিক প্রতিবন্ধী মুন্নি আখতার বলেন, বিভিন্ন মিটিংয়ে অংশগ্রহণ করে, ম্যাসেজ পেয়ে, তথ্য পেয়ে, কৃষি বিভাগের অ্যাপস ব্যবহার করে এভাবে কৃষি ক্ষেত্রে তিনি পরামর্শ পেয়ে তার পরিবারে কৃষি চাষাবাদের ক্ষেত্রে অবদান রাখেন এবং সর্বোপরি তার বাবাকে পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করে আসছেন।

বর্তমানে তিনি শুধু পরিবারের কৃষি কাজে সহযোগিতা করেন এমনটি না, প্রতিবেশীদের কৃষি কাজের তিনি কল সেন্টারের মাধ্যমে সহযোগিতা করেন। নিজের পরিবর্তন সম্পর্কে মুন্নি আক্তার বলেন, ‘আল্লাহ আমাকে প্রতিবন্ধী হিসেবে পৃথিবীতে পাঠিয়েছে, আমি পরিশ্রমের মাধ্যমে প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে নিজের ভাগ্যকে বদলানোর চেষ্টা করছি আর ভাগ্য বদলাতে আমাকে সহযোগিতা করছে পল্লীশ্রী প্রতীক প্রকল্প।’

ডিমলা উপজেলা কৃষি অফিসার সেকেন্দার আলী জানান, প্রতীক এনিমেটররা প্রায়ই তাদের কৃষি সংক্রান্ত সমস্যা ফেসবুকে পোস্ট দেয় এবং আমাদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শগ্রহণ করেন। ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুন নাহার যুগান্তরকে বলেন, তিস্তার পারের ১শ’ নারীদের স্মার্ট ফোন ব্যবহার করে তথ্যপ্রযুক্তিতে কৃষিকাজ ও প্রাণীসম্পদ রক্ষায় বিশেষ ভূমিকা পালন করে আসছে। এতে তিস্তা পারের সাধারণ মানুষের জীবনমানের যেমন পরিবর্তন হচ্ছে তেমনি অবদান রাখছে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের রূপকল্প বাস্তবায়নে সহজতর করতে।

 

ও/আ

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

জাকির নায়েকের বসবাসের অনুমতি বাতিল করা হতে পারে: মাহাথির

Development by: bdhostweb.com

চুরি করে নিউজ না করাই ভাল