«» মূলমন্ত্রঃ : সত্যের পথে,জনগনের সেবায়,অপরাধ দমনে,শান্তিময় সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে" আমরা বাঙালি জাতীয় চেতনায় বিকশিত মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার স্বপক্ষে সত্য এবং ধর্মমতে বস্তুনিষ্ঠ, সৎ ও সাহসী সাংবাদিকতায় সর্বদা নিবেদিত। «»

দেশে সাইবার অপরাধের শিকার ৯০ ভাগ নারী

শনিবার, ২২ ডিসেম্বর ২০১৮ | ৬:১২ পূর্বাহ্ণ | 32 বার

দেশে সাইবার অপরাধের শিকার ৯০ ভাগ নারী

রাজধানীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের

ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া বিভাগের ছাত্রী মাইশা

(ছদ্মনাম)। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় তার সঙ্গে

এক টিভি তারকার পরিচয় হয়।

এরপর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক-

ম্যাসেঞ্জারে তাদের নিয়মিত যোগাযোগ

হয়। সম্পর্কের গভীরতার একপর্যায়ে চলে

দুইজনের ছবি আদান-প্রদান। মাইশার ভিডিও চিত্রও

ধারণ করা হয়। ছবি ও ভিডিও চিত্র পুঁজি করে ওই

টিভি তারকা তাকে ব্ল্যাকমেইল করে।

তাকে ফাঁদে ফেলে প্রতারক হাতিয়ে নেয়

হাজার হাজার টাকা। শারীরিক সম্পর্কের

প্রস্তাবে সাড়া না দেয়ায় সামাজিক যোগাযোগ

মাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দেয়া হয়।

এতে মাইশা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন।

পরিবারের সহযোগিতায় তিনি পুলিশের সাইবার

ক্রাইম ইউনিটের শরণাপন্ন হন। রমনা মডেল

থানায় মামলা হলে তদন্তের দায়িত্ব পড়ে সাইবার

ক্রাইম ইউনিটের এডিসি নাজমুল ইসলামের ওপর।

পুলিশের পক্ষ থেকে মাইশাকে সর্বাত্মক

সহায়তা দেয়া হয়। মামলা হওয়ার পর টিভি তারকাকে

গ্রেফতার করে পুলিশ। এভাবে প্রতারণার হাত

থেকে রক্ষা পান মাইশা।

ঢাকা মহানগর পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিটের

দেয়া তথ্যমতে, আড়াই বছরে দুই হাজারেরও

বেশি সাইবার অপরাধের অভিযোগ তাদের

কাছে এসেছে। সাইবার ক্রাইম ইউনিটে প্রতি

মাসে ২০০ অভিযোগ জমা পড়েছে। প্রযুক্তির

উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে সাইবার অপরাধ

বেড়ে চলেছে। আর এসব অপরাধের শিকার

হচ্ছে বেশির ভাগই নারী। যাদের অধিকাংশের

বয়স ২০ বছরের নিচে।

এডিসি নাজমুল ইসলাম জানান, এ মুহূর্তে তাদের

কাছে ১৮০টির মতো মামলা আছে। তদন্তাধীন

রয়েছে ২০০-এর মতো। এছাড়া চার শতাধিক

মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে। তিনি বলেন, সাইবার

অপরাধের শিকার ৯০ ভাগই নারী। বিভিন্নভাবে

সোশ্যাল মিডিয়াতে তারা যৌন হয়রানি বা হুমকির শিকার

হয়েছেন। এডিসি নাজমুল আরও বলেন, সাইবার

অপরাধ অনেক হলেও কম মামলা হয়েছে।

মানুষ সহায়তা চায় কিন্তু মামলা করতে চায় না।

তিনি বলেন, টু জি থেকে থ্রি জিতে রূপান্তরিত

হওয়ার সময় সাইবার অপরাধ বাড়তে থাকে এবং থ্রি

জি থেকে ফোর জিতে অপরাধের মাত্রা

বেড়ে যায়। মোবাইল ফোনের সঙ্গে

ইন্টারনেট সংযোগ ঘটায় অপরাধের সুযোগটাও

সৃষ্টি হল। এ প্রেক্ষাপটে ২০১৩-১৪ সালে

সাইবার ক্রাইম ব্যাপক হারে বাড়তে থাকে। ২০১৫

সালে এসে এটা আরও সম্প্রসারিত হয়।

নাজমুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশে অপরাধের

যে প্রবণতা যেটা অন্য কোনো দেশে

নেই। এমনকি বাংলাদেশে অনেক ফেসবুক

অ্যাকাউন্ট হ্যাকড অথবা সেলিব্রেটিসহ

গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের অ্যাকাউন্ট অকার্যকর

করে দেয়া হয়। তিনি বলেন, এটা হওয়ার কারণ

হল যুব সমাজের ফেসিনেশন, ফেন্টাসি ও

হিরোইজম। তিনি বলেন, ফেসবুক ব্যবহারের

ক্ষেত্রেও একটা টাইম সিডিউল থাকতে হবে।

দৈনন্দিন সব কাজ শেষ করে এবং শরীরের

চর্চার পর ফেসবুক ব্যবহার করতে হবে।

সাইবার অপরাধের ক্ষেত্রে কেন নারীরা

টার্গেটের শিকার এমন প্রশ্নের জবাবে

প্রযুক্তিবিদ মোস্তাফা জব্বার যুগান্তরকে

বলেন, ডিজিটাল জগতে অপরাধী শনাক্ত করা

কঠিন। কারণ কিছু লোক ফেক আইডি তৈরি ও

পরিচয় গোপন করে অপরাধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে

যায়। এ ক্ষেত্রে অপরাধী চিহ্নিত করা

চ্যালেঞ্জিং হয়ে যায়। তিনি বলেন, সচেতনতার

অভাবে টিনএজাররা বেশি সাইবার অপরাধের শিকার

হচ্ছে। তাদের নিরাপদ রাখতে হলে আইনগত

নিরাপত্তা, পরিবারিক সচেতনতা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা

কর্মক্ষেত্রে ভালো পরিবেশ দরকার। তিনি

বলেন, আমরা বেশি বেশি ডিজিটাল হচ্ছি এবং

বেশি বেশি বিপদ ডেকে আনছি।

ও/আ

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

রাজশাহীতে বিশ্ব খাদ্য দিবস-২০১৯ অনুষ্ঠিত

Development by: bdhostweb.com

চুরি করে নিউজ না করাই ভাল