«» মূলমন্ত্রঃ : সত্যের পথে,জনগনের সেবায়,অপরাধ দমনে,শান্তিময় সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে" আমরা বাঙালি জাতীয় চেতনায় বিকশিত মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার স্বপক্ষে সত্য এবং ধর্মমতে বস্তুনিষ্ঠ, সৎ ও সাহসী সাংবাদিকতায় সর্বদা নিবেদিত। «»

জাল বুনে শিকার ধরার অপেক্ষায় মাকড়সা

বৃহস্পতিবার, ২০ ডিসেম্বর ২০১৮ | ৬:৪৭ পূর্বাহ্ণ | 172 বার

জাল বুনে শিকার ধরার অপেক্ষায় মাকড়সা

মাকড়সা। এদের মোট পা হলো ৮টি। অর্থাৎ চার

জোড়া পা বিশিষ্ট প্রাণী। ডানা নেই। মাথার নিচের

দিকে রয়েছে দুই জোড়া উপাঙ্গ। সামনের

জোড়া দুই খন্ডের ও নি¤œমুখী। শিরবক্ত একটি

বর্মে ঢাকা থাকে, আটটি বা কম সংখ্যক একক চোখ

আছে। সামনের খন্ডের গড় বিষদাঁতের মতো ও

বিষগ্রন্থিতে যুক্ত। এরা প্রথম স্থলচর প্রাণীদের

মধ্যে অন্যতম। এদের চেনার উপায় হল

নীচদিকে বাঁকা দাঁড়া যা সোজা উপরনিচ নড়ে। এটি

অমেরুদ-ি শিকারি কীট বিশেষ। শরীর মাথা ও ধড়

দু’টি অংশে বিভক্ত। মাথা ও বুক একসাথে জুড়ে

সেফালোথোরাক্স বা মস্তক-বক্ষ গঠন করে।

মাকড়সার একটি বিশেষ গুণ হলোÑ এরা জাল তৈরি

করে এবং জালের মাধ্যমে অন্যান্য কীট-পতঙ্গ

ইত্যাদি শিকার করে।

তবে শুঙ্গ নেই, সংবেদন কর্মকা- অংশত চালায় হাঁটার

পা দিয়ে। জালে মাধ্যমে শিকার ধরে ও বিষ ঢুকিয়ে

সেটাকে অসাড় করে পরবর্তীকালে জারকরসে

গলিয়ে ওই মন্ড শুষে নেয়। উপাঙ্গের দ্বিতীয়

জোড়া পুরুষ মাকড়সায় যৌনসঙ্গমের প্রত্যঙ্গে

রূপান্তরিত। পেটের তলায় সামনে দিকে আছে

রেশমগ্রন্থির সঙ্গে যুক্ত তিন জোড়া ক্ষুদে সুতা

কাটার যন্ত্র (স্পিনারেট)। সুড়ঙ্গের জাল এবং শিকার

ধরার জাল বানায় ও শিকারকে মুড়ে রাখে। হালকা সুতা

দিয়ে বিশেষত বাচ্চা মাকড়সরা উপরে ওঠে এবং

বাতাসে ভেসে থাকে।

বিভিন্ন রকমের মাকড়সা হয়। কেউ জাল বোনে,

কেউ লাফিয়ে শিকারও ধরে। তবে সব মাকড়সার এক

জোড়া বিষগ্রন্থিও আছে। অনেকের কামড় খুব

বিষাক্তও। কিন্তু সবাই প্রাণঘাতী নয়।

জানা মতে, ৩৭,২৯৬ প্রজাতির মাকড়সা ৩,৪৫০ গণ ও

১০৬ গোত্রে শ্রেণীবদ্ধ। প্রতিবছরই নতুন

নতুন প্রজাতির বর্ণনা হচ্ছে। তারা আছে মেরু

অঞ্চল ছাড়া পৃথিবীর সর্বত্র, তুন্দ্রা থেকে

ক্রান্তীয় নিম্নাঞ্চলের বনভূমিতে, সমুদ্রপৃষ্ঠ

থেকে ৫,০০০ মিটার উচ্চতা পর্যন্ত বিস্তৃত।

বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত জানা মোট ৪১২ প্রজাতির

মাকড়সা ১৩৪ গণ ও ২২ গোত্রের অন্তর্ভুক্ত

(সারণি)। তবে গোত্র দু’টিই প্রধান। যথাক্রমেÑ ৯০

ও ৮৩ প্রজাতি আছে।

মাকড়সার দেহের দৈর্ঘ্য ০.৫ মি.মি থেকে ১০ সেমি

পর্যন্ত হতে পারে। উম-লীয় ট্যারানটুলার দলে

রয়েছে বৃহত্তম প্রজাতিরাও। পেডিপালপ শিকার

উদরস্থ করতে কাজে লাগে। স্ত্রী মাকড়সার

পালপ সরু।

মাকড়সার একটি সাধারণ বৈশিষ্ট হলোÑ রেশম সুতা তৈরির

ক্ষমতা। জালবাসী মাকড়সারাই সর্বাধিক পরিমাণ রেশম

সুতা উৎপাদন করে এবং শিকার ধরার বিস্তৃত জাল

বোনে। জাল বোনা ছাড়াও মাকড়সা নানা কাজে সুতা

ব্যবহার করে। মাকড়সার স্ত্রী ও পুরুষ পৃথক এবং

পূর্বরাগ যথেষ্ট ব্যাপক। সাদামাটা সঙ্গম থেকে

আছে জটিল রাসায়নিক, চাক্ষুষ বা স্পন্দনযুক্ত

সংকেত। স্ত্রী মাকড়সা সাধারণত রেশম থলেতে

ডিম পাড়ে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ডিম না

ফোঁটা পর্যন্ত স্ত্রী মাকড়সা সেটি বয়ে বেড়ায়।

বড় জাতের মাকড়সা : বাগানের মাকড়সা ইত্যাদি ডিম পাড়ার

মাত্র ১-২ মাস আগে বয়ঃপ্রাপ্ত হয়। স্ত্রী মাকড়সা

সাধারণত ১-২টি বড় আকারের থলে উৎপাদন করে।

কয়েক হাজার ডিমও পাড়ে।

ছোট জাতের মাকড়সা : বড়দের আগেই বয়ঃপ্রাপ্ত

হয় ছোট জাতের মাকড়সারা। জীবনকালের সিংহভাগই

প্রজননকর্মে কাটায়, কয়েকটি থলে উৎপাদন করে

ও তাতে থাকে অপেক্ষাকৃত কমসংখ্যক ডিম।

মাকড়সার অবস্থান : মাকড়সারা বনে ছড়ানো গাছের

গুঁড়ি ও পাতায় তৈরি রেশম বাসায়, মোড়ানো পাতায়, বাগান

ও ধানক্ষেত, ঘরের অন্ধকার কোণে, পাথর, মাটি

বা গাছের বাকলের নিচে, নানা জাতের গাছে,

বিশেষত ফুলগাছের ঝোপঝাড়ে ইত্যাদিতে

লুকিয়ে থাকে। শরীরের রং ও দাগ অনেক সময়

পরিবেশের সঙ্গেও মিশে যায়।

মাকড়সার জাল : মাকড়সার জাল মূলত রেশম। এদের

তলপেটে থাকা বিশেষ অঙ্গের সাহায্যে এরা তরল

রেশমকে খুব পাতলা সুতোয় পরিণত করে নির্গত

করতে পারে। এই অঙ্গের সাহায্যে এরা সুবিধা ও

প্রয়োজন অনুযায়ী সুতা তৈরি করে নির্গত করতে

পারে।মাকড়সার সুতাগুলোর ধর্ম হলোÑ নির্গত হওয়ার সময়

তরলই থাকে, কিন্তু বাতাসের সংস্পর্শে খুব দ্রুত

শুকিয়ে যায়। রেশম সুতা নির্গমন শুরু হওয়ার পর

মাকড়সারা বিশেষ অঙ্গটিকে বাতাসে দুলিয়ে দেয়।

মাকড়সার জালের সুতা এতটাই পাতলা যে বাতাস যতই

মৃদুমন্দ হোক না কেনো, তাপের ফলের মাটির

সংস্পর্শে থাকা হালকা হয়ে যাওয়া বায়ুর

দোলোনিতেও এরা ভাসতে পারে। মাকড়সা

ক্রমেই সুতা ছাড়তে থাকে এবং বাতাসে ভেসে

ভেসে এই সুতা নিকটবর্তী কোনো গাছের গুড়ি

বা দেয়ালের আটকে যায়। সেই সুতো বেয়ে

এক প্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে যায় আর তারা জাল

বুনতে থাকে।

পোকামাকড় শিকার জন্য মূলত তারা জাল বোনতে

থাকে। জালে আটকা পড়া পোকামাকড়ের গায়ে

বিষদাঁত ঢুকিয়ে মেরে ফেলে বা অজ্ঞান করে

খাওয়ার উপযোগী করে। তবে সব মাকড়সা জাল

বোনে না। কিছু মাকড়সা তাদের শিকার ধাওয়া করে

ধরে। কিছুকিছু আবার আগে থেকে তৈরি করে রাখা

আঠালো সুতার জাল সুবিধামতো শিকারের ওপর

ছুড়ে ফেলে কুপোকাত করে।

জার্মানির ‘হাইডেলবার্গ ইন্সটিটিউট অফ থিয়রিটিক্যাল

স্টাডিজ` এর বিজ্ঞানীদের মতে, মাকড়সার জালের

সুতা অত্যন্ত মজবুত এবং একইসঙ্গে ইলাস্টিক বা

প্রসারণ যোগ্য। বিজ্ঞানীরা বলছেন, প্রাকৃতিক

তন্তুর গঠনগত বৈশিষ্ট্য খুঁজে দেখার চেষ্টা

করেছেন অনেকেই। এই গবেষণা তন্তুর

গঠনগত বৈশিষ্ট্যের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ কিছু

তথ্যও পেয়েছেন। ইস্পাতের সঙ্গে এই তন্তুর

দৃঢ়তার তুলনা করেন বিজ্ঞানীরা। এটি টায়ারে ব্যবহৃত

সিনথেটিক তন্তু কেভলারের চেয়ে শক্ত।

অন্যদিকে এর ঘনত্ব সুতি বা নায়লনের চেয়ে কম।

বিজ্ঞানীদের গবেষণা বলছে, মাকড়সার তন্তুতে

মূলত দু’টি প্রধান উপাদান দেখা যায়। একটি উপাদান নরম

এবং এর কোন নির্দিষ্ট আকার নেই। অন্যটি শক্ত

এবং অতি স্বচ্ছ।

বেশিরভাগ মাকড়সাই পোকার আটকে পড়া এবং অন্য

কারণে জালের কেঁপে ওঠার মধ্যে পার্থক্যটা

বুঝতে পারে। শুধুমাত্র পোকামাকড় আটকে

গেলেই শিকার ধরতে তারা এগিয়ে আসে।

ও/আ

 

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

রাজশাহীতে বিশ্ব খাদ্য দিবস-২০১৯ অনুষ্ঠিত

Development by: bdhostweb.com

চুরি করে নিউজ না করাই ভাল