«» মূলমন্ত্রঃ : সত্যের পথে,জনগনের সেবায়,অপরাধ দমনে,শান্তিময় সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে" আমরা বাঙালি জাতীয় চেতনায় বিকশিত মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার স্বপক্ষে সত্য এবং ধর্মমতে বস্তুনিষ্ঠ, সৎ ও সাহসী সাংবাদিকতায় সর্বদা নিবেদিত। «»

মাকে মনে পড়ে…..আমার মাকে মনে পড়ে

মঙ্গলবার, ২৭ নভেম্বর ২০১৮ | ৭:৪১ অপরাহ্ণ | 149 বার

মাকে মনে পড়ে…..আমার মাকে মনে পড়ে

নাসিম উদ্দিন নাসিমঃ আমরা মাকে নিয়ে অনেক গল্প ও কবিতা পড়েছি

….আজ একজন মায়ের কথায় বলবো .. ছবিতে

যাদের দেখছেন তারা হলেন , মা ও ছেলে।

নাটোরের জনগণের প্রাণপ্রিয় জননেতা দুলু ভাই

এবং তার মা মরহুম রাফিয়া তালুকদারের ছবি। মা ও

ছেলের এ ছবিটি ছিল দুর্লভ একটি ছবি । জীবিত

মায়ের সান্নিধ্যে তো লা দুলু ভাইয়ের শেষ

ছবিগুলোর একটি।

স্বর্ণ গর্ভধারিণী মায়ের চার ছেলে এবং তিন

মেয়ের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ সন্তান দুলু ভাই।

ভাইবোন দের সবার ছোট সন্তান হিসেবে দুলু

ভাইকে তিনি বেশি ভালবাসতেন। দুলু ভাই ছিলেন তার

চোখের মনি। ছেলে ছাত্রজীবন থেকে

রাজনীতির মাঠের জনপ্রিয় নেতা বলে

নেতাকর্মীদের তিনি তার নিজ সন্তানের মতোই

দেখতন। মুখ বুঝে আমাদের অনেক অত্যাচারি তিনি

সহ্যা করেছেন। দিনরাত অগনিত মানুষের মুখে অন্ন

তুলে দিয়েছেন। অতিথি আপ্যায়নে কমতি ছিল না

কখনো ..দুলু ভাইয়ের বাবা ডাঃ নাসির উদ্দীন তালূকদার

ও রাজনীতি করতেন। তাই তার কাছে

নেতাকর্মীদের সমাদার করা নতুন কিছু ছিল না। এক

বিশাল একান্নবর্তী পরিবারের কর্তী হিসেবে

ছেলে মেয়ে নাতি নাতনী সহ বিশাল সংসার

সামলানোর পাশাপাশি দুলু ভাইয়ের নেতাকর্মী

,সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ীদের খোজ খবর তিনি নিয়মিত

রাখতে ভুলতেন না। দুলু ভাইয়ের বাসায় এসেছে

কিন্তু তার মায়ের হাতে খাবার খাননি এমন মানুষ পাওয়া

দুস্কর । আমরা দুলু ভাই কে নেতার চেয়ে বড়. ভাই

মনে করি। নাটোরের বিএনপি নেতাকর্মীদের

তিনি সব সময় নিজের পরিবারের সদস্য. ভাবতেন। ভাই

+ভাতিজা ডলার ,শহীদ গামা ও ডালিম ভাই+ ভাতিজাদের এর

হিসেবে দাদী বলে ডাকতাম। তিনি আমাদের খুব

স্নেহ করতেন। তিনি শুধু দেখতেই সুন্দর ছিল না।

ছিলেন সুন্দর মনের ধর্মভীরু মানুষ….জননেতা

দুলু ভাই এ ছিলেন মাতৃভক্ত মানুষ ….মা ছিল তার সব

কিছু। যতই ব্যাস্ততা থাকুক । আর দুলু ভাই দেশে

বিদেশে যেখানেই থাকুক, মায়ের সাথে কথা

বলতেন রোজ। মায়ের সাথে কথা বলে তার দোয়া

নিয়ে দুলু ভাইয়ের সকাল টা শুরু হতো। মায়ের দোয়া

নিয়েই তিনি ঘুমাতে যেতেন। একজন পরহেজগার

ধার্মিক মানুষ দুলু ভাইয়ের আম্মাকে যখনি দেখতাম,

তখনই অবাক হয়ে যেতাম তার চেহারার মধ্যে নূর

খেলা করতো । হাতে ও চুলে মেহেদী

লাগাতেন। , দিনের বেশির ভাগ সময় ইবাদত

বন্দেগী করে কাটাতেন। সেই মায়ের দোয়া

এবং নাটোর বাসির ভালোবাসায় দুলু ভাই আজ নাটোর

সহ জাতীয় রাজনীতির উজ্জ্বল তারকা। মায়ের

দোয়া তিনি আজ নাটোরের সবচেয়ে জনপ্রিয়

নেতা ..জীবনে মায়ের দোয়া নিয়েই তিনি প্রতিটি

কাজ শুরু করেছেন। মা হিসেবে তাকে নিজে

দেখেছি সব সময় দুলু ভাই কে নিয়ে সব সময়

চিন্তিত থাকতেন। পরহেজগার ছিলেন তিনি। বর্তমান

সরকার ক্ষমতায় আসার পর যুবলীগ কর্মী পলাশ

হত্যার মিথ্যা মামলায় দুলু ভাইকে অন্যায় ভাবে

গ্রেফতার করে আটক করে রাখা হলো । হাস্যকর

এক অভিযোগে দুলু ভাইকে যে দিন আটক করা হয়

। সে দিন আমিও সহ তিন / চার জন ছিলাম ভাইয়ের

সাথে …কথা বলছিলাম তার তিনতলার শয়ন কক্ষে ।

নিচে গোলাগুলির আওয়াজ পেলাম এতোটুকু শুধু

জানলাম যে দুলু ভাইয়ের বাসায় হামলা হয়েছে ।

সন্ত্রাসীরা বাড়ি উদ্দেশ্যে করে গুলি ও ককটেল

ছুড়েছে । রাজনীতিকে কে কত নোংরা পর্যায়ে

আনা যায়, তার উদাহরণ ও দেখলাম । ঘটনার রাতেই যে

মানুষটি কিছু জানলো না , শুনলো না তাকেই রাস্তায়

দাড়িয়ে প্রকাশ্য দিবালোকে পলাশ কে হত্যার মিথ্যা

অভিযোগে অন্যায় ভাবে আটক করা হলো । সে

দিন নাটোরের সচেতন মানুষমাত্র বলেছিল , তিনবার

নির্বাচিত একজন এম,পি এবং সফল একজন মন্ত্রী

জনপ্রিয় একজন নেতা দুলুর বিরুদ্ধে এ অভিযোগ

হাস্যকর । ভিত্তিহীণ । কারাগারে আটক রেখেই তারা

ক্ষান্ত হয়নি, ষড়যন্ত্রকারীরা দুলু ভাইকে কারাগারে

আটক করে হত্যা চেষ্টা পর্যন্ত করেছে। এক

জেল থেকে আরেক জেলে পাঠিয়েছেন .

আপনারা অবশ্যই জানেন, কারাগারে আটক থাকা

অবস্থায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে আইসিইউ তে

ভর্তি ছিলেন । নাটোরবাসীর দোয়া তাকে মৃত্যুর

হাত থেকে বার বার রক্ষা করেছেন ।নাটোর

থেকে পর পর তিনবার নির্বাচিত এম ,পি , সাবেক

মন্ত্রীকে উচ্চ আদালত থেকে জামিন দেয়া আর

জামিন স্থগিত করার নাটকে খবরে অসুস্থ হয়ে মারা

গেলেন। কারাগারে অসুস্থ হয়ে আইসিইউতে থাকা

দুলু ভাইয়ের সেই করুন চাহনি আজও মনে পড়ে।

অসুস্থ মাকে শেষ বারের মতো দেখার আকুতি

সরকারের মনে নুন্যতম সহমর্মিতা বা সহানুভূতির জন্ম

দেয়নি…মুত্যুর পূর্বে বার বার তিনি দুলু ভাইকেেএক

নজর দেখার আকুতি জানিয়েছেন । যাকেই

দেখতেন তাকেই বলতেন ,আমার দুলু কই ? দুলু

কে নিয়ে আসলা না ।

জীবনের চেয়ে বেশি যাকে বেশি ভালবাসতেন

প্যারেলে ৬ ঘন্টার জামিনে তিনি এসে মায়ের মরা

মুখ দেখলেন। নাটোর এন ,এস সরকারি কলেজ

মাঠে মায়ের জানাযায় অংশ নেয়া হাজার হাজার মানুষ

দেখেছে দুলু ভাইয়ের সেই বুকফাঁটা আহাজারি।

মায়ের চিরবিদায়ে দুলু ভাইয়ের কান্নায় সে দিন খুব

মানুষই ছিল যাদের চোখে আমি অশ্রু দেখেনি। যাই

হোক, দুলু ভাইয়ের অশ্রু বৃথা যায়নি , যে ব্যক্তি দুলু

ভাইকে সেদিন রাজনৈতিক ভাবে হুয়রানি করার জন্য মিথ্যা মামলা দিয়ে চিরতরে রাজনীতি থেকে বিদায়

জানাতে চেয়েছিল । আজ তারা নাটোরের রাজনৈতিক

আস্তকুড়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছে । একটু চিন্তা করে

দেখবেন , দুলু ভাইকে রাজনীতি থেকে

চিরতরে উৎখাত করার জন্য যারা এক এগারোর কুশিলব

এবং তাদের এজেন্টদের নির্মম পরিণতির কথা

ভাবলেই বোঝা যায় । অপপ্রচার চালিয়ে আর মিথ্যা

মামলা দিয়ে দুলু ভাইকে দমিয়ে রাখা যাবে না । দুলু

নাটোরবাসীর ভালোবাসা নিয়ে আছেন এবং

থাকবেন । আল্লাহ তুমি মরহুম রাফিয়া তালুকদার কে

জান্নাত নসিব করুন। আপনারা সবাই দুলুভাইয়ের জন্য

দোয়া করবেন।


মন্তব্য করতে পারেন...

comments

জাকির নায়েকের বসবাসের অনুমতি বাতিল করা হতে পারে: মাহাথির

Development by: bdhostweb.com

চুরি করে নিউজ না করাই ভাল