«» মূলমন্ত্রঃ : সত্যের পথে,জনগনের সেবায়,অপরাধ দমনে,শান্তিময় সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে" আমরা বাঙালি জাতীয় চেতনায় বিকশিত মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার স্বপক্ষে সত্য এবং ধর্মমতে বস্তুনিষ্ঠ, সৎ ও সাহসী সাংবাদিকতায় সর্বদা নিবেদিত। «»

মেডিকেলে পড়া অনিশ্চিত বাগমারার মৌসুমীর

বুধবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৮ | ৭:০২ পূর্বাহ্ণ | 3475 বার

বাগমারা প্রতিনিধি: রাজশাহীর বাগমারায়  মৌসুমী আকতার নামে এক অসহায় গরীব বয়লার শ্রমিক কর্মীর এবারে মেডিকেলে পড়ার সুযোগ পেয়েও লেখা পড়ার সুযোগ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। শত বাধা আর দারিদ্র্যকে হার মানিয়ে মেডিকেলে পড়ার সুযোগকে এলাকাবাসীর মধ্যে তাক লাগিয়ে দিয়েছে শ্রমিক কন্যা মৌসুমী। তবে অসচ্ছল দরিদ্র শ্রমিক কন্যা মৌসুমী ও তার পরিবার ভর্তিসহ মেডিকেল কলেজে পড়ার খরচ নিয়ে উদ্বিগ্ন।

উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকা নরদাশ ইউনিয়নের গোয়রসার গ্রামের কছির উদ্দিনের মেয়ে মৌসুমী। জন্মের পর পিতা কছিম উদ্দিন বাড়ি থেকে চলে যায়। মা আমেনা তেমন লেখাপড়া জানেন না তবে মেয়ের লেখাপড়াকে এগিয়ে নিতে মা করেছেন অক্লান্ত পরিশ্রম। মা আমেনা বিবি পিতার অবর্তমানে মেয়েকে পরের বাড়ি কাজ করে লালন-পালন করে। পড়া লেখায় ভাল হবার কারণে প্রাথমিকি বিদ্যালয়ে ১ম গ্রেডে বৃত্তি পায় মৌসুমী। পরে ৮ম শ্রেনীতে একই ভাবে ১ম গ্রেডে বৃত্তি লাভ করে সে সবার নজরে পড়ে। এসএসসিতেও সে গোল্ডেন এ প্লাস পেয়ে সবাইকে ইতি মত তাগ লাগিয়ে দেয়। এবারে মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে গোপালগঞ্জ মেডেকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে। মৌসুমী আক্তারের এক দুর সম্পর্কের চাচা কলেজ শিক্ষক আনিচুর রহমান জানান, মৌসুমীসহ ২ বোন আর এক ভাই নিয়ে গ্রামের ছোট্র কুঁড়ে ঘরে বসবাস করে। বড় দুই বোনের বিয়ে হয়ে গেছে, বড় ভাই ছোট একটি কোম্পানীতে চাকরি নিয়েছে। অভাবের সংসারে মেয়ে পড়া লেখায় ভালো বলে বড় বাড়ি থেকে বিয়ে আসে তার। মা আমেনা বিবি মেয়েকে বিয়ে দিবেন। কিন্তু কিছুতেই বিয়ে করতে নারাজ কন্যা মৌসুমী। বড় ভাই মাকে বুঝিয়ে বোনের লেখা পড়ার হাল ধরবেন বলে শহরে চাকুরীর জন্য পাড়ি জমায়। মা আমেনা বিবি গ্রাম ছেড়ে উপজেলা সদর ভবানীগঞ্জ একটি ধানের চাতালে (বয়লার) কাজ শুরু করে। মেয়েকে ভবানীগঞ্জ মহিলা ডিগ্রী কলেজে ভর্তি করায়। আন্তরিকভাবে বড় ভাইয়ের সহযোগীতায় ও মায়ের অক্লান্ত পরিশ্রমের টাকায় মেয়ে কৃতিত্বের সাথে এইচএসসি পাশ করে।

মৌসুমী জানান, লেখা পড়া করতে তার বেশ কষ্ট করতে হয়েছে। নিজের বই না থাকায় বন্ধু বান্ধুবীদের বই ধার করে পড়তে হয়েছে। আলোর অভাবে অন্যদের বাসায় ঘন্টার পর ঘন্টায় পড়া লেখা সময় আমি কাটিয়েছি। বাবাকে কখনও দেখিনি। তবে লেখা পড়ায় মা, ভাই, বোন, প্রতিবেশী ও শিক্ষকদের যথেষ্ট সহযোগীতা আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে।

মৌসুমীর মা আমেনা জানান, এখানকার পরিবেশ মৌসুমীর লেখাপড়ার জন্য মোটেই অনুকূলে ছিল না। এক দিকে অর্থের অভাব অন্য দিকে পারিপার্শ্বিকতায় পড়ালেখা এগিয়ে নিতে যেনো  ধৈর্য হারিয়ে ফেলি। অবশেষে এক সময়ে তার বিয়ের জন্য ব্যবস্থা নিয়ে ছিলাম। মেয়ের অনিচ্ছায় তা না দিয়ে পুনরায় চাতালে কাজ নিয়ে লেখা পড়ার ব্যবস্থা নিয়ে এগিয়ে নিয়েছি। বাবা থেকেও নেই তার। বাবা কছির উদ্দিন ৩ ছেলে মেয়ে ছেড়ে অন্য জায়গায় বিয়ে করেছে। ছেলে-মেয়েদের কোনই খোঁজ নেননি। এমন কি আমার মেয়ে তার বাবা কেও দেখেনি। এমন অসহায় ভাবে জীবন কাটে তাদের। মেয়ের ইচ্ছা ছোট বেলা হতে ডাক্তার হবে, আল্লাহ কবুল করেছেন। তবে তার ভর্তি ও ডাক্তারী পড়া লেখা প্রচুর খরচ জেনে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।

মহিলা ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ এরশাদ আলী বলেন, মৌসুমী খুবই মেধাবী, নম্র ও ভদ্র মেয়ে। শত প্রতিকূলতার মাঝেও সে তার মেধার যুদ্ধে জয়ী হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাকিউল ইসলাম বলেন, ইচ্ছাশক্তি, মেধা ও অদম্য আগ্রহ মেয়েটির সাফল্য বয়ে নিয়ে এসেছে।

আর্থিকভাবে সচ্ছলতা থাকলে মৌসুমী দেশের জন্য অনেক কিছু দিতে পারতো। তার পরও তার অক্লান্ত পরিশ্রমে সে এগিয়ে যাচ্ছে। তার চলার পথ সুগম করতে বিত্তবানদের এগিয়ে আসার দরকার বলে তিনি মন্তব্য করেন।

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

রাজমিস্ত্রির সাজে খুনি ধরলেন পুলিশ কর্মকর্তা লালবুর রহমান

Development by: bdhostweb.com

চুরি করে নিউজ না করাই ভাল