«» মূলমন্ত্রঃ : সত্যের পথে,জনগনের সেবায়,অপরাধ দমনে,শান্তিময় সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে" আমরা বাঙালি জাতীয় চেতনায় বিকশিত মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার স্বপক্ষে সত্য এবং ধর্মমতে বস্তুনিষ্ঠ, সৎ ও সাহসী সাংবাদিকতায় সর্বদা নিবেদিত। «»

রুদ্র মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ দ্রোহ ও প্রেমের কবি….

বুধবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৮ | ৪:৫০ পূর্বাহ্ণ | 253 বার

রুদ্র মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ

আকাশের ঠিকানায় কি কেউ সত্যি ভালো থাকে? কত

শত খোলা চিঠি অবিরত লিখে যাচ্ছি খোলা আকাশের

ঠিকানায়, ইচ্ছে একটাই, চিঠিটা পৌঁছে যাক তার প্রাপকের

কাছে। আসলে হয়তো খুঁজছি চিঠিটার একটি ঠিকানা।

“একটা ঠিকানা চাই।

যেই ঠিকানায় সপ্তাহশেষে একটি করে চিঠি দিব…

প্রেম-প্রেম, আবেগে ঠাসা, ভালোবাসায়

টইটুম্বুর!

হবে একটা ঠিকানা?

কারণে অকারণে চিঠি দিব”

মহানন্দা ডেস্কঃভালোবাসার তীব্রতাকে প্রতিবাদের রূপ দিয়ে

আশির দশকে বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন প্রয়াত

কবি রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ। তিনি আমাদের বাংলা

সাহিত্যের দ্রোহ এবং প্রেমের কবি। কবি মহলে

‘প্রতিবাদী রোমান্টিক’ শিরোনামেও পরিচিত এই

কবি। এছাড়াও তিনি বাংলাদেশের একজন সফল

গীতিকার। তার লেখা গান শুধু বাংলাদেশে নয়, ওপার

বাংলাতেও বেশ জনপ্রিয়। কবিতাপ্রেমী ও দ্রোহ

অনুরাগীদের কাছে রুদ্রের কবিতা নিঃসঙ্গ রাতের

এক অপার স্বস্তি।

রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ ১৯৫৬ সালের ১৬

অক্টোবর তার পিতার কর্মস্থল বরিশালে জন্মগ্রহণ

করেন। তার মূল বাড়ি বাগেরহাট জেলার মংলা

উপজেলার মিঠেখালি গ্রামে। কবির স্মরণে

মিঠেখালিতে আছে ‘রুদ্র স্মৃতি সংসদ’।

কবি রুদ্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় অনার্সসহ

এমএ পাশ করেন। ছাত্র থাকা অবস্থায় সক্রিয়ভাবে

ছাত্র ইউনিয়ন সাথে যুক্ত ছিলেন তিনি।

ব্যক্তিজীবনে বাউন্ডুলে এ কবির বন্ধুবান্ধবের

সংখ্যা গুণে শেষ করা যাবে না। এরশাদ বিরোধী

আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক ছিলেন রুদ্র। ১৯৭৫

থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত দেশে সবগুলো

আন্দোলনে কবি রুদ্র’র সশরীর অংশগ্রহণ ছিল

এবং হয়তো এসব থেকেই তিনি বেশ কিছু

দ্রোহের কাব্য রচনা করেন।

“আর কী অবাক! ইতিহাসে দেখি সব

লুটেরা দস্যুর জয়গানে ঠাঁসা,

প্রশস্তি, বহিরাগত তস্করের নামে নানা রঙ পতাকা

ওড়ায়।

কথা ছিলো, ‘আমাদের ধর্ম হবে ফসলের সুষম

বন্টন,

আমাদের তীর্থ হবে শস্যপূর্ণ ফসলের মাঠ।

অথচ পান্ডুর নগরের অপচ্ছায়া ক্রমশ বাড়ায় বাহু

অমলিন সবুজের দিকে, তরুদের সংসারের দিকে।

জলোচ্ছাসে ভেসে যায় আমাদের ধর্ম আর

তীর্থভূমি,

আমাদের বেঁচে থাকা, ক্লান্তিকর আমাদের দৈনন্দিন

দিন “

১৯৮১ সালে বহুল আলোচিত নারীবাদী লেখিকা

তসলিমা নাসরিনকে বিয়ে করেন রুদ্র। ১৯৮৬ সালে

তাদের দাম্পত্য জীবনের অবসান ঘটে।

নব্বইয়ের শেষের দিকে আবারো শুরু হয়েছিল

রুদ্র ও তসলিমার প্রেম। কিন্তু সেটা ছিলো তসলিমার

দ্বিতীয় বিবাহ থেকে তৃতীয় বিবাহে উত্তরণের

মধ্যবর্তী সময়ে। ফলে সেই প্রেমও বেশিদিন

টেকেনি।

পারিবারিক স্বচ্ছলতা থাকা স্বত্ত্বেও সেই পথ

বেছে না নিয়ে বরং নিজের কয়েকটা রিক্সা ছিল, তা

থেকে যা আয় হতো, তাতেই বেশ চলতেন।

এছাড়া ঠিকাদারী ও চিংড়ির খামার করেছেন আর

দু’হাতে টাকা উড়িয়েছেন।

পাঞ্জাবী আর জিন্সের যুগলবন্দী পোষাক তার

নিজস্ব স্টাইল ছিলো। পরে জেমস এটা জনপ্রিয়

করেন। রুদ্র’র মদ্যপ্রীতি ছিলো বলিহারী!

হুইস্কির তিনি বাংলা নামকরণ করেছিলেন ‘সোনালী

শিশির ‘।

তসলিমার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শ্যামা তরুণী

শিমুলের সঙ্গে রুদ্র’র প্রেম হয়েছিলো। কিন্তু

শিমুলের অভিভাবক রাজী না হওয়ায় সে সম্পর্কও

চুকে যায়। সেই থেকে রুদ্র আরো বেশি নিঃসঙ্গ

হয়ে যান। ভেতরে ভেতরে একা হয়ে যেতে

থাকেন। কবির ভাষায়,

“এতোটা নিঃশব্দে জেগে থাকা যায় না, তবু জেগে

আছি…

আরো কতো শব্দহীন হাঁটবে তুমি, আরো

কতো নিভৃত চরণে

আমি কি কিছুই শুনবো না- আমি কি কিছুই জানবো না!”

অতিরিক্ত অনিয়ম আর স্বেচ্ছাচারিতার ফলাফল যা হয়,

শেষমেষ আলসারে পেয়ে বসেছিল রুদ্র

মুহাম্মদ শহীদুল্লাহকে। পায়ের আঙ্গুলে রোগ

বাসা বেঁধেছিল। ডাক্তার বলেছিলো পা বাঁচাতে

হলে সিগারেট ছাড়তে হবে। তিনি পা ছেড়ে দিয়ে

সিগারেট নিয়ে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, যার

ফলে রুদ্রর নতুন ঠিকানা হলো হলি ফ্যামিলি

হাসপাতালের ২৩১ নম্বর কেবিন। ১৯৯১ সালের ২০

জুন ভালো হয়ে পশ্চিম রাজাবাজারের বাড়িতে ফিরে

যান রুদ্র। কিন্তু ২১ জুন ভোরে দাঁত ব্রাশ করতে

করতে অজ্ঞান হয়ে মৃত্যুর কাছে পঁয়ত্রিশ

বছরের স্বেচ্ছাচারী জীবনের সমর্পণ করে

আঁধারপুরের বাসিন্দা হন বাংলা সাহিত্যের এ নক্ষত্র।

মাত্র ৩৫ বছরের স্বল্পায়ু জীবনে তিনি সাতটি

কাব্যগ্রন্থ ছাড়াও গল্প, কাব্যনাট্য এবং ‘ভালো আছি

ভালো থেকো ’ সহ অর্ধ শতাধিক গান রচনা ও

সুরারোপ করেছেন।

১৯৭৯ সালে প্রকাশিত হয় তার প্রথম কবিতার বই

‘উপদ্রুত উপকূলে’। প্রথম বইয়ের ‘বাতাসে লাশের

গন্ধ’ কবিতা সকলের মনোযোগ কেড়ে নেয়

ও পাঠক সমাজে সাড়া জাগায়। রুদ্র’র দ্বিতীয় বই

‘ফিরে চাই স্বর্ণগ্রাম’ প্রকাশিত হয় ১৯৮২ সালে।

তারপর একে একে প্রকাশিত হয় ‘মানুষের

মানচিত্র‘ (১৯৮৪), ‘ছোবল’ (১৯৮৬), ‘গল্প’ (১৯৮৭),

‘দিয়েছিলে সকল আকাশ’ (১৯৮৮) ও ‘মৌলিক

মুখোশ’ (১৯৯০)। এছাড়া প্রকাশিত হয় গল্পগ্রন্থ

‘সোনালি শিশির’। আর তার মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়

নাট্যকাব্য ‘বিষ বিরিক্ষের বীজ’।

। ছাব্বিশ বছর পরও হয়ত রুদ্র জানেন না তার

প্রিয়জনদের ভুল ভেঙ্গেছে কিনা, ভুল ভাঙলে

হয়ত হৃদয়ের নীল বন্দর থেকে লিখে দিবেন

প্রিয় নাম ভালোবাসা, আর নিজে থাকবেন একা থাকার

ভালো লাগায়, নিঃসঙ্গতার ধরা-ছোঁয়ার বাইরে।

“ভুল ভেঙ্গে গেলে ডাক দিও,

আমি মৃত্যুর আলিঙ্গন ফেলে আত্মমগ্ন আগুন

ললাটের সৌমতায় তোমার লিখে দেবো একখানা

প্রিয়নাম – ভালোবাসা”

শুভ জন্ম দিন প্রিয় কবি। যেখানেই থাকো ভাল

থাকো।

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

বিরলে ৮নং-ধর্মপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি-আঃ মজিদ সম্পাদক-রতন চন্দ্র রায় নির্বাচিত

Development by: bdhostweb.com

চুরি করে নিউজ না করাই ভাল