«» মূলমন্ত্রঃ : সত্যের পথে,জনগনের সেবায়,অপরাধ দমনে,শান্তিময় সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে" আমরা বাঙালি জাতীয় চেতনায় বিকশিত মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার স্বপক্ষে সত্য এবং ধর্মমতে বস্তুনিষ্ঠ, সৎ ও সাহসী সাংবাদিকতায় সর্বদা নিবেদিত। «»

ভিক্ষার টাকা আর দিনের আলোতে জিপিএ-৫ )

শনিবার, ১২ মে ২০১৮ | ৩:২৭ অপরাহ্ণ | 227 বার

নিজস্ব প্রতিবেদক : ভিক্ষার টাকা আর দিনের আলোয় লেখাপড়া করে এবার এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পেয়েছে আফরোজা খাতুন। মোহনপুরের মৌগাছি উচ্চ বিদ্যালয়ের ঠিকানাহীন আফরোজার গল্প অনেকটা নাটক-সিনেমার মত। তবুও এটাই সত্য আফরোজার বেলায়। আফরোজার মা প্রতিবন্ধী ভিখারি। বাবা বাচ্চু মিয়া ফেলে গেছে জন্মের আগেই। ছোটকাল থেকে আফরোজা দেখেছে প্রতিবন্ধী মা রেহেনা বেগমকেই। রেহেনা বেগম ভিক্ষা করে এক বেলা নুন-ভাত খেয়ে আফরোজার লেখাপড়ার খাতা-কলমসহ নানা শিক্ষা উপকরণ কিনে দিয়েছেন। অপরের বাড়ির ছাউনির নীচে খুপরি ঘরে মা-মেয়ের থাকা-খাওয়া। আলোর ব্যবস্থা নেই। দিনের আলোতেই লেখাপড়া ও প্রয়োজনীয় কাজ করতে হয় তাকে। আলো না থাকা ছাউনির নীচেই যে প্রতিভার প্রদীপ জ্বেলেছে আফরোজা।

জন্ম তার এক অন্ধকার ভিখারির ঘরে। দারিদ্রতার যাতাকল তার নিত্য সঙ্গি। প্রজ্ঞা, প্রতিভা ও অদম্য মেধার কাছে হার মেনেছে শত বাধা। সে এবারে মোহনপুর উপজেলার মৌগাছি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। সে জিপিএ ৫ পেয়েছে। তার রোলনং ছিল ১০৩১৮৭।
সোমবার দুপুরে আফরোজার ভাল ফলাফলের খবর পেয়ে সরোজমিনে গিয়ে দেখা গেল খোঁজ দেয়া স্থানে আফরোজা নেই। খোঁজ নিয়ে জানা গেল ঝড় ও শিলা বৃষ্টিতে খুপরি ঘরটি উড়ে গেছে। বর্তমানে বাটুপাড়া গ্রামে তার হতদরিদ্র নানীর ঘরে উঠেছে। সেখানে গিয়েও আফরোজা ও তার মা রেহেনাকে পাওয়া গেল না। আফরোজা অপরের বাড়িতে ধানের কাজে ব্যস্ত আর মা রেহেনা নওহাটা বাজারের হাটবার থাকায় গিয়েছে ভিক্ষা করতে।

তাদের না পেয়ে নিজেকে অসহায় মনে হলো। পণ হলো এই অদেখা আলোর রশ্মি ছড়িয়ে দিতে হবে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে। পরদিন মঙ্গলবার আবারো গেলাম বাটুপাড়া গ্রামে আফরোজার খোঁজে। এ ক্ষেত্রে সার্বিক সহযোগিতা করেছেন মৌগাছি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ওবাইদুর রহমান। কথা হলো মা রেহেনা বেগমের সাথে। তিনি বলেন, আমার মা-বাবাও ছিল অত্যন্ত গরীব। আর প্রতিবন্ধী হওয়ায় আমাকে কেহই দেখতে পারতো না। বুদ্ধি হওয়ার পর থেকেই ভিক্ষা করেই সংসার চালায়। মাত্র কয়েকদিনের জন্য বাচ্চু মিয়া আমার স্বামী ছিল। আফরোজার জন্মের আগেই বাচ্চু মিয়া আমাকে ত্যাগ করে। জন্ম হলো আফরোজার। এবাড়ি-ওবাড়ি ভিক্ষা ও লাথি ঝাটা খেয়েই আফরোজা বড় হচ্ছে। মেয়ে বড় হওয়ায় কেহ আর তাদের বাড়িতে থাকতে দেয় না। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, বাবা- মেয়ে বড় হয়েছে-তাকে আমি নিরাপদ রাখতে পারবোতো। তবে তিনি মেয়ের ভাল ফলাফলে খুবই আনন্দিত। আফরোজা ও মা এরই ফাঁকে আমাদের মিষ্টি দিতে ভুলেলনি। সে বলে শিক্ষকরা আমাকে সাহায্য করেছেন। ভিক্ষার টাকা আর স্কুল-কলেজের শিক্ষকদের সহযোগিতায় আফরোজার এই সাফল্য।

উচ্চশিক্ষা করতে চায় আফরোজা। তার স্বপ্ন মর্যাদা সম্পন্ন শিক্ষক হওয়া। সে বলে একমাত্র শিক্ষকরাই নৈতিকতায় ভাল অবদান রাখতে পারেন। তবে আশংকা তার নির্মম দারিদ্র্যের নাগপাশ ছিঁড়ে বেরিয়ে এসে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণে। সেজন্য দরকার অর্থ। নিদারুণ দারিদ্র্যে পিষ্ট এই মেধাবীর সেই সামর্থ্য নেই। তাহলে কি দারিদ্র্য জয়ের আজন্ম লালিত স্বপ্নটা স্বপ্নই থেকে যাবে! এমন ভাবনায় এখন দিশাহারা আফরোজা।

প্রতিবেশী আব্দুর রহিম বলেন, ‘মেয়েটা ভাল ফল করেছে। আফরোজা একটি উপমা। অতি গরিব এই মেয়েটির উচ্চশিক্ষা লাভের পথে সহৃদয় ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এগিয়ে এলে সে দেশের সম্পদ হয়ে উঠতে পারবে।’ পাশাপাশি তিনি বলেন, বর্তমান সরকার নারী শিক্ষা ও দারিদ্রতা জয়ে এগিয়ে চলেছে। সরকার অনেক গরীব মানুষের বাড়ি করে দিচ্ছে। এই রকম একটি আবাসন পেলে সে নিরাপদে থাকতে পারতো।

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

রাজমিস্ত্রির সাজে খুনি ধরলেন পুলিশ কর্মকর্তা লালবুর রহমান

Development by: bdhostweb.com

চুরি করে নিউজ না করাই ভাল