অক্টোবর ১৭, ২০২১

রাজশাহীর বস্তিতে রাতের আঁধারে বিক্রি হলো শিশু

1 min read

রাজশাহী নগরীর ভদ্রা মোড়ের পূর্বে রেললাইন সংলগ্ন বস্তিতে রাতের আঁধারে এক শিশু এনে বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে। ৫ থেকে ৭ মাসের ওই শিশুকে বৃহস্পতিবার রাতে স্থানীয় এক আত্মিয়ের মাধ্যমে ঢাকার এক গার্মেন্টস কর্মী কিনে নেয়। স্থানীয়দের দাবি, এর আগেও এই দালাল চক্রের হাত দিয়ে বস্তিতে আরো শিশু বিক্রি হয়েছে। শিশু বিক্রির দালাল ওই নারী স্থানীয় বস্তিবাসীর কাছে ‘নেংরি’ নামে পরিচিত। ছিন্নমূল ও শারীরিক প্রতিবন্ধি দালাল ওই নারী আগে এই বস্তিতেই বসবাস করতেন। এখন তিনি শিরোইল কলোনী সংলগ্ন রেলের প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয়ের আশপাশে বসবাস করেন। স্থানীয় বস্তিবাসীর দেয়া তথ্য মতে, কামাল নামের এক গ্যারেজকর্মী শিশু সংগ্রহের জন্য নেংরিকে বলেন। এর জন্য তিনি নেংরিকে ২০ হাজার টাকা দিতে রাজি হন। কথামতো বৃহস্পতিবার রাতে নেংরি আরেক নারীকে শিশুসহ নিয়ে আসে। ‘কণ্যা শিশু’ হওয়ায় কামাল শিশুকে নিতে অস্বীকার করে নেংরিসহ ওই নারী ফিরে যাচ্ছিলো। এসময় বস্তির রোকেয়া বেগম (মাহামুদার মা) নামের এক নারী নেংরিকে শিশুর দাম ১০ হাজার টাকা বলে এবং এই টাকায় শিশুকে দিয়ে যেতে বলে। দামাদামির এক পর্যায়ে ওই শিশুর মূল্য ১২ হাজার টাকা নির্ধারণ হয়। তখন মাহামুদার মা তাদের বোনের মেয়ে সূর্যকে ডাকে। নি:সন্তান সূর্য ঢাকার একটি গার্মেন্টসে কাজ করেন। আর তার স্বামী অটো চালান। সূর্য ওই সময় নগরীর ছোটবনগ্রাম এলাকায় তার এক আত্মিয়ের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। সূর্য এসে ১২ হাজার টাকার বিনিময়ে শিশুকে নিয়ে যায়। স্থানীয়রা আরো জানান, শিশু বিক্রির দালাল এই নেংরি গত রোজার ঈদে অর্থের বিনিময়ে বস্তিতে আরেকটি শিশু বিক্রি করে গিয়েছিলো। মাহামুদার সাথে কথা হলে তিনি জানান, তার খালাতো বোন সূর্যের কোনো বাচ্চা নেই। সূর্যের জন্য তার মা ওই শিশুকে কিনতে সহযোগীতা করেছে। শিশুসহ তার মা এখন সূর্যের কাছেই আছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় মাহামুদার মা রোকেয়া বেগমের সাথে মোবাইলে কথা হলে তিনি জানান, শিশুকে নিয়ে তিনি ছোটবনগ্রাম এলাকায় আছেন। শিশুর বিষয়ে সামনা সামনি কথা বলতে চাইলে ওই মুহুর্তে তিনি ভদ্রা রেল বস্তিতে আসতে রাজি হননি বা ছোটবনগ্রাম এলাকর ঠিকানাও দিতে রাজি হননি। বস্তিতে থাকা রেলের ওয়েম্যান সিরাজুল বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নেংরির হাত দিয়ে বিভিন্ন সময় বস্তিতে শিশু বিক্রি হয়েছে। স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা ও ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার মো. খলিল বলেন, বৃহস্পতিবার রাতের আঁধারে বস্তিতে বিক্রি হওয়া শিশুর বয়স ৫ থেকে ৭ মাস বলে শুনেছি। এই বয়সের শিশু কেউ হয়তো কোনো মায়ের কোল থেকে চুরি করে নিয়ে এসে বিক্রি করেছে। বস্তিতে এর আগেও এমন ঘটনা ঘটেছে বলে জানতে পেরেছি। বোয়ালিয়া থানার ওসি নিবারণ চন্দ্র বর্মণ সাংবাদিকের কাছে শিশু বিক্রির ঘটনা জানার পর সত্যতা নিশ্চিতে সাথে সাথে ওই বস্তিতে পুলিশ পাঠান। এরপর তিনি ঘটনার সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হন এবং সাংবাদিকে জানান অভিযুক্তরা এখন চন্দ্রিমা থানা এলাকায় অবস্থান করছে। এদিকে চন্দ্রিমা থানার ওসি সিরাজুম মনির জানান, যেহেতু ঘটনাস্থল বোয়ালিয়া থানা এলাকার মধ্যে, তাই তাদের উচিত অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা। বোয়ালিয়া থানা চাইলে চন্দ্রিমা থানা তাদের সহযোগীতা করবে বলেও তিনি জানান।

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

Leave a Reply

চুরি করে নিউজ না করাই ভাল