নভেম্বর ২৯, ২০২১

করোনা আর নদী ভাঙনে দিশেহারা দাউদকান্দির জেলে পরিবারগুলো

1 min read

দাউদকান্দি (কুমিল্লা) প্রতিনিধিঃ


করোনার প্রভাব মোকাবিলার পাশাপাশি নদীর ভাঙনে দিশেহারা হয়ে পড়েছে দাউদকান্দির দক্ষিণাঞ্চলের ২০-২৫টি জেলে পরিবার।

গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় শুরু হয়েছে ভাঙন। আতঙ্কিত হয়ে ঘর ভেঙে অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছে নদী পাড়ের বাসিন্দারা।

 

 

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সরেজমিন পরিদর্শন করে উপজেলা প্রশাসনকে জানিয়েছেন বলে জানান।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, উপজেলার পাচঁগাছিয়া ইউনিয়নের  হরিণা বাজারখোলা গ্রামের প্রায় ২৫টি জেলে পরিবার ভাঙন আতঙ্কে দিন যাপন করছেন।

কয়েকদিনের টানা বৃষ্টির কারণে ধনাগোদা নদীর শাখায় পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় স্রোতের কারণে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে।

এতে গৃহহীন হওয়ার শঙ্কায় পড়েছে হরিণা বাজাখোলা গ্রামের ২৫টি পরিবার।

নদী ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালা। ভাঙনে শেষ সম্বল ভিটের ঘরটি খুলে অন্যের জায়গায় আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা।

মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকু হারিয়ে বিপাকে পড়েছেন অনেকে।

একদিকে করোনার প্রভাবে কাজ নেই অন্যদিকে নদী ভাঙনে সম্পদ হারিয়ে দিশেহারা মানুষজন।

ভাঙন রোধে সরকারের হস্তক্ষেপ চান নদ-নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা।

ঘরিণা বাজারখোলা গ্রামের বাসিন্দা বসন্ত ভক্ত (৬০), যতিন্দ্র (৬৫), খগেন্দ্র (৪৫) ও মানিক (৩৮) বলেন, আমরা দিন এনে দিন খাই।

এভাবে সংসার চলে আমাদের? নদীতে মাছ ধরি, মাছ বিক্রি করে ছেলেপুলে নিয়ে খাই। এখন নদীতে মাছও পাই না। করোনার কারণে তেমন কাজকর্ম নেই। এই অবস্থায় পেটের খাবার জোটাবো নাকি থাকার আশ্রয় খুঁজবো।

ষাটোর্ধ্ব মরনী সুন্দরী ও কানন বালা  কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, বাবারে আমাদের কিচ্ছু নাই, এখন ভিটেটুকু রক্ষা করতে না পারলে কোথায় গিয়ে উঠবো। সরকার আমাদের কোনো খোঁজখবরই রাখে না। আমাদের মরণ ছাড়া কোনো উপায় নেই।

একই কথা বলেন বাষট্টি বছরের প্রিয় লাল ও তেষট্টি বছরের হরে কৃষ্ণ।

তারা বলেন, আমাদের জেলে কার্ডও নাই যে, কোনো সহযোগিতা পাবো। এখন ভাঙন থেকে আমাদের ঘরবাড়ি রক্ষা করার জন্য সরকারের কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানাচ্ছি।

পাঁচগাছিয়া  ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিন বলেন, আমি রবিবার ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেছি। দুই মাস আগে ইউএনও স্যারও দেখে গেছে এবং দুই লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। কিন্তু ভিটি থেকে খালটির গভীরতা বেশি হওয়ায় এই বরাদ্দে ভাঙন প্রতিরোধে কিছুই হবে না। আর বিভিন্ন সরকারি প্রণোদনার তালিকায় ওই গ্রামের অনেকেরই নাম এবং জেলে কার্ডও রয়েছে।

উপজেলা চেয়ারম্যান মেজর (অব.) মোহাম্মদ আলী সুমন বলেন, ভাঙনের বিষয়টি স্থানীয় চেয়ারম্যান আমাকে বলেছে।   যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ভাঙন প্রতিরোধে কার্যকরী ব্যবস্থা নেয়ার চেষ্টা করবো।

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

Leave a Reply

চুরি করে নিউজ না করাই ভাল